** ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমেই দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে আগ্রহী ওয়াশিংটন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর এক বিশেষ মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিআইএর গোপন প্রতিবেদনে মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে তার অনুগত শীর্ষ নেতাদের ওপর ভরসা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে এই পরিস্থিতির জন্য সবচেয়ে উপযোগী মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ট্রাম্প প্রধান বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর পরিবর্তে রদ্রিগেজকে সমর্থন দেওয়ার পথে হাঁটছেন। মার্কিন প্রশাসনের বিশ্বাস, মাচাদোর তুলনায় মাদুরো ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় এবং স্থানীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বেশি কার্যকর হবে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়টি সরাসরি নিশ্চিত না করলেও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার জাতীয় নিরাপত্তা দল বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন। এর আগে ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে, বিরোধী নেত্রী মাচাদোর প্রতি ভেনেজুয়েলার ভেতরে পর্যাপ্ত জনসমর্থন ও সম্মান নেই, ফলে তার পক্ষে দেশ পরিচালনা করা কঠিন হবে। এমনকি মাদুরো-পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে মাচাদোর সঙ্গে ওয়াশিংটন কোনো আলোচনাও করেনি।
এদিকে, গত সোমবার ভেনেজুয়েলার নতুন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন দেলসি রদ্রিগেজ। শপথ নেওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে রদ্রিগেজ শান্তি ও সংলাপের আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, ভেনেজুয়েলা আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে পারস্পরিক সম্মান ও উন্নয়নের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, লাতিন আমেরিকা অঞ্চল যুদ্ধের নয়, বরং শান্তি ও সার্বভৌমত্বের নীতিতে বিশ্বাসী।
তবে এই সমর্থনের পাশাপাশি কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মাদুরো-পরবর্তী এই প্রশাসন যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হয়, তবে ভেনেজুয়েলায় পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। মূলত সিআইএর এই কৌশলী পরামর্শই এখন কারাকাসে মাদুরোর সাবেক সহযোগীদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার প্রধান চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























