ভঙ্গুর অর্থনীতি আর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন পুরো ইরানে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়ে এই আন্দোলন এখন দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন প্রদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২৬টিতেই বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। ছোট-বড় মিলিয়ে দেশটির অন্তত ৭৮টি শহরে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
সহিংস এই বিক্ষোভে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্যসহ মোট ২০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করে ধরপাকড় শুরু করেছে দেশটির প্রশাসন; এখন পর্যন্ত প্রায় ৯৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ইরানের এই অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এক হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছেন, বিক্ষোভে অতীতের মতো আবারও সাধারণ মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল। তবে শুরুর দিকে এটি অর্থনৈতিক দাবি-দাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, বর্তমানে তা রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। তেহরান, শিরাজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে রাতভর চলা বিক্ষোভে এখন দেশটির বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্ব ও শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবিতে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পুরো দেশজুড়ে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
রিপোর্টারের নাম 
























