ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

৭ মার্চের ভাষণ বাদ, স্থান পেয়েছে জুলাই আন্দোলন

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অষ্টম শ্রেণির বাংলা বই ‘সহিত্য কণিকা’ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বইটিতে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং ৯০’এর গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলনা করে জুলাই আন্দোলন যুক্ত করা হয়েছে গদ্য সাহিতে।  

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ঐতিহাসিক পেক্ষাপট ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সাহিত্যমূল্য বিবেচনায় গদ্য অংশে পাঠ্যইয়ে যুক্ত ছিল বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষেও এই ভাষণ রাখা হলেও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যইয়ে তা রাখা হয়নি।

জানা গেছে, অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের গদ্য অংশে ‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণ’ শিরোনামে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ যুক্ত করা হয়েছিল— ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে প্রস্তুত করা আগের পাঠ্যইয়ে। নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পর এই ভাষণই অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ বইয়ে ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ শিরোনামে গদ্য অংশে যুক্ত করা হয়।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হলে ২০২৫ সালের পাঠ্যইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ও বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাস অংশে পরিবর্তন আনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অষ্টম শ্রেণির বাংলা বইয়ের গদ্য অংশ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ। তবে মাধ্যমিকের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যবইয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সামান্য কিছু অংশ যুক্ত করা হয়েছে। তাতে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হলেও তার নামের আগের ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি রাখা হয়নি।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ পুরোপুরি বাদ দেওয়া হলেও অষ্টম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ নামের বইয়ে ৭ মার্চের ভাষণ শিরোনামে ভাষণের মাত্র তিনটি লাইন রাখা হয়েছে।

অপরদিকে ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন’ যুক্ত করা হয়েছে বাংলা বইয়ের গদ্য সহিত্য অংশে। ‘গণঅভ্যুত্থান’ শিরোনামের এই গদ্য সাহিত্যে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলানা করা হয়েছে। এর একাংশে বলা হয়েছে, ‘আগের দুই অভ্যুত্থানের সঙ্গে এবারের অভ্যুত্থানের একটা বড় প্রার্থক্য হচ্ছে— আগের দুবার শিক্ষার্থীরা প্রধান ভূমিকা রাখলেও আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানে এরকম কোনও রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব ছিল না। আন্দোলন পরিচালনা করেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে সব ধরনের সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ যুক্ত হয়।’

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে ছয় দফা থাকলেও বঙ্গবন্ধুর নাম নেই, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস থাকলেও কীভাবে শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠলেন, তা পরিমার্জিত পাঠ্যইয়ে রাখা হয়নি।

২০২৫ শিক্ষাবর্ষে বাদ দেওয়া হয়েছিল ‘জাতির পিতা’ শব্দ দুটি। তবে শেখ মুজিব কীভাবে বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠলেন, তার ইতিহাস এবং শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি রাখা হয়েছিল ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে। এবার ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিকের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পাঠ্যইয়ের সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে এবার বঙ্গবন্ধু শব্দ বাদ দেওয়া হয়েছে। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস থাকলেও বাদ দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নাম।

জানতে চাইলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘যখন পাঠ্যবই পরিমার্জন করা হয় তখন আমি ছিলাম না। আমার আসার আগেই (চেয়ারম্যান হওয়ার আগে) পরিমার্জন শেষ হয়ে গেছে। পরিমার্জনের বিষয়ে প্রধান সম্পদাকের কাছ থেকে জানতে পারেন।’’

এনসিটিবির প্রধান সম্পদক মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর পাঠ্যবই পরিমার্জন নিয়ে বক্তব্য দেননি। তবে এনসিটিবির সূত্রে জানা গেছে, পাঠ্যবই পরিমার্জনে ৫৭ জনের এডিটরিয়াল প্যানেল ছিল। পরিমার্জন অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসি)।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

৭ মার্চের ভাষণ বাদ, স্থান পেয়েছে জুলাই আন্দোলন

আপডেট সময় : ০৯:০১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অষ্টম শ্রেণির বাংলা বই ‘সহিত্য কণিকা’ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বইটিতে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং ৯০’এর গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলনা করে জুলাই আন্দোলন যুক্ত করা হয়েছে গদ্য সাহিতে।  

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ঐতিহাসিক পেক্ষাপট ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সাহিত্যমূল্য বিবেচনায় গদ্য অংশে পাঠ্যইয়ে যুক্ত ছিল বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষেও এই ভাষণ রাখা হলেও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যইয়ে তা রাখা হয়নি।

জানা গেছে, অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের গদ্য অংশে ‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণ’ শিরোনামে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ যুক্ত করা হয়েছিল— ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে প্রস্তুত করা আগের পাঠ্যইয়ে। নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পর এই ভাষণই অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ বইয়ে ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ শিরোনামে গদ্য অংশে যুক্ত করা হয়।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হলে ২০২৫ সালের পাঠ্যইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ও বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাস অংশে পরিবর্তন আনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অষ্টম শ্রেণির বাংলা বইয়ের গদ্য অংশ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ। তবে মাধ্যমিকের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যবইয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সামান্য কিছু অংশ যুক্ত করা হয়েছে। তাতে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হলেও তার নামের আগের ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি রাখা হয়নি।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ পুরোপুরি বাদ দেওয়া হলেও অষ্টম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ নামের বইয়ে ৭ মার্চের ভাষণ শিরোনামে ভাষণের মাত্র তিনটি লাইন রাখা হয়েছে।

অপরদিকে ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন’ যুক্ত করা হয়েছে বাংলা বইয়ের গদ্য সহিত্য অংশে। ‘গণঅভ্যুত্থান’ শিরোনামের এই গদ্য সাহিত্যে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলানা করা হয়েছে। এর একাংশে বলা হয়েছে, ‘আগের দুই অভ্যুত্থানের সঙ্গে এবারের অভ্যুত্থানের একটা বড় প্রার্থক্য হচ্ছে— আগের দুবার শিক্ষার্থীরা প্রধান ভূমিকা রাখলেও আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানে এরকম কোনও রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব ছিল না। আন্দোলন পরিচালনা করেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে সব ধরনের সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ যুক্ত হয়।’

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে ছয় দফা থাকলেও বঙ্গবন্ধুর নাম নেই, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস থাকলেও কীভাবে শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠলেন, তা পরিমার্জিত পাঠ্যইয়ে রাখা হয়নি।

২০২৫ শিক্ষাবর্ষে বাদ দেওয়া হয়েছিল ‘জাতির পিতা’ শব্দ দুটি। তবে শেখ মুজিব কীভাবে বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠলেন, তার ইতিহাস এবং শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি রাখা হয়েছিল ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে। এবার ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিকের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পাঠ্যইয়ের সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে এবার বঙ্গবন্ধু শব্দ বাদ দেওয়া হয়েছে। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস থাকলেও বাদ দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নাম।

জানতে চাইলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘যখন পাঠ্যবই পরিমার্জন করা হয় তখন আমি ছিলাম না। আমার আসার আগেই (চেয়ারম্যান হওয়ার আগে) পরিমার্জন শেষ হয়ে গেছে। পরিমার্জনের বিষয়ে প্রধান সম্পদাকের কাছ থেকে জানতে পারেন।’’

এনসিটিবির প্রধান সম্পদক মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর পাঠ্যবই পরিমার্জন নিয়ে বক্তব্য দেননি। তবে এনসিটিবির সূত্রে জানা গেছে, পাঠ্যবই পরিমার্জনে ৫৭ জনের এডিটরিয়াল প্যানেল ছিল। পরিমার্জন অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসি)।