ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

তারিক কাজীর পর বেতন না পেয়ে কিংস ছাড়লেন কিউবা

বেশিদিন হয়নি কিউবা মিচেল বসুন্ধরা কিংসে যোগ দিয়েছেন। ইংল্যান্ডের সান্ডারল্যান্ড থেকে এসে ২০ বছর বয়সী মিডফিল্ডার কিছুটা ঝলক দেখিয়েছেন। জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশ দলেও। তবে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে আপাতত দেখা যাবে না কিউবাকে। বেতন না পেয়ে তারিক কাজীর পর বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন কিউবা নিজেই।

কিউবা মিচেল লিখেছেন, আজ আমি বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে আমার চুক্তি শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ দীর্ঘদিন ধরে আমার প্রাপ্য বেতন পরিশোধ করা হয়নি। এটাই ছিল আমার এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রধান কারণ। তবে যেসব সমস্যা বারবার উঠেছে কিন্তু কোনও সমাধান হয়নি, সেই পরিস্থিতিতে খেলা চালিয়ে যাওয়া মানসিক ও শারীরিকভাবে খুবই কঠিন হয়ে পড়েছিল।

এরপরই আবেগঘন কথা তার, যদিও এখানে আমার সময়টা খুব বেশি দীর্ঘ ছিল না, তবুও এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয়। আমি এখানে আসার পর থেকেই এখানকার জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও মানুষজনকে আপন করে নিয়েছিলাম। আমি কিছু অসাধারণ সতীর্থ ও সমর্থকের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, যারা আমাকে আপন করে নিয়েছিল এবং আবার মনে করিয়ে দিয়েছিল, কেন আমি এই খেলাটাকে এত ভালোবাসি।

তিনি বলেন, আমার পুরো সময়জুড়ে আমি সর্বদা পেশাদারত্ব বজায় রেখেছি। আমি অনুশীলন করেছি, ম্যাচ খেলেছি এবং ক্লাবের ব্যাজের প্রতি সম্মান রেখে নিজেকে পরিচালনা করেছি। একজন ফুটবলার শুধু মাঠে পারফরম্যান্সই দেয় না, আমরা দেই প্রতিশ্রুতি, শৃঙ্খলা ও বিশ্বাস। এর বিনিময়ে ন্যূনতম দায়িত্বগুলো অবশ্যই সম্মান করা উচিত।

এরপর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কিউবা বলেন, এই পরিস্থিতি সত্ত্বেও আমি কোনও তিক্ততা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি না। অল্প সময়ের মধ্যেই যেসব সম্পর্ক তৈরি হয়েছে এবং যেসব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, সেগুলোর জন্য আমি কৃতজ্ঞ। সেই মুহূর্তগুলো আমার সঙ্গে থেকেই যাবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ফুটবল আরও ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য। খেলোয়াড়দের জন্য আরও ভালো কাঠামো ও ন্যায়বিচার দরকার, যারা প্রতিদিন এই খেলাটার জন্য ত্যাগ স্বীকার করে। এখানে প্রচুর আবেগ ও সম্ভাবনা রয়েছে, এবং সেটিকে রক্ষা করা জরুরি।

এরপরই তার আহ্বান, আমি আশা করি, যারা একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন— বিশেষ করে যারা বেতন না পাওয়া বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে নীরবে কষ্ট সহ্য করছেন— তারা যেন কথা বলার সাহস পান। ন্যায্য ও পেশাদার আচরণ চাওয়ার কারণে কোনও খেলোয়াড়েরই নিজেকে অসহায় মনে করা উচিত নয়। আমি এখন পরবর্তী অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

তারিক কাজীর পর বেতন না পেয়ে কিংস ছাড়লেন কিউবা

আপডেট সময় : ১২:৪৯:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

বেশিদিন হয়নি কিউবা মিচেল বসুন্ধরা কিংসে যোগ দিয়েছেন। ইংল্যান্ডের সান্ডারল্যান্ড থেকে এসে ২০ বছর বয়সী মিডফিল্ডার কিছুটা ঝলক দেখিয়েছেন। জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশ দলেও। তবে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে আপাতত দেখা যাবে না কিউবাকে। বেতন না পেয়ে তারিক কাজীর পর বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন কিউবা নিজেই।

কিউবা মিচেল লিখেছেন, আজ আমি বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে আমার চুক্তি শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ দীর্ঘদিন ধরে আমার প্রাপ্য বেতন পরিশোধ করা হয়নি। এটাই ছিল আমার এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রধান কারণ। তবে যেসব সমস্যা বারবার উঠেছে কিন্তু কোনও সমাধান হয়নি, সেই পরিস্থিতিতে খেলা চালিয়ে যাওয়া মানসিক ও শারীরিকভাবে খুবই কঠিন হয়ে পড়েছিল।

এরপরই আবেগঘন কথা তার, যদিও এখানে আমার সময়টা খুব বেশি দীর্ঘ ছিল না, তবুও এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয়। আমি এখানে আসার পর থেকেই এখানকার জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও মানুষজনকে আপন করে নিয়েছিলাম। আমি কিছু অসাধারণ সতীর্থ ও সমর্থকের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, যারা আমাকে আপন করে নিয়েছিল এবং আবার মনে করিয়ে দিয়েছিল, কেন আমি এই খেলাটাকে এত ভালোবাসি।

তিনি বলেন, আমার পুরো সময়জুড়ে আমি সর্বদা পেশাদারত্ব বজায় রেখেছি। আমি অনুশীলন করেছি, ম্যাচ খেলেছি এবং ক্লাবের ব্যাজের প্রতি সম্মান রেখে নিজেকে পরিচালনা করেছি। একজন ফুটবলার শুধু মাঠে পারফরম্যান্সই দেয় না, আমরা দেই প্রতিশ্রুতি, শৃঙ্খলা ও বিশ্বাস। এর বিনিময়ে ন্যূনতম দায়িত্বগুলো অবশ্যই সম্মান করা উচিত।

এরপর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কিউবা বলেন, এই পরিস্থিতি সত্ত্বেও আমি কোনও তিক্ততা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি না। অল্প সময়ের মধ্যেই যেসব সম্পর্ক তৈরি হয়েছে এবং যেসব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, সেগুলোর জন্য আমি কৃতজ্ঞ। সেই মুহূর্তগুলো আমার সঙ্গে থেকেই যাবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ফুটবল আরও ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য। খেলোয়াড়দের জন্য আরও ভালো কাঠামো ও ন্যায়বিচার দরকার, যারা প্রতিদিন এই খেলাটার জন্য ত্যাগ স্বীকার করে। এখানে প্রচুর আবেগ ও সম্ভাবনা রয়েছে, এবং সেটিকে রক্ষা করা জরুরি।

এরপরই তার আহ্বান, আমি আশা করি, যারা একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন— বিশেষ করে যারা বেতন না পাওয়া বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে নীরবে কষ্ট সহ্য করছেন— তারা যেন কথা বলার সাহস পান। ন্যায্য ও পেশাদার আচরণ চাওয়ার কারণে কোনও খেলোয়াড়েরই নিজেকে অসহায় মনে করা উচিত নয়। আমি এখন পরবর্তী অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।