বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ২০ শতাংশ বৃদ্ধিসহ তিন দফা দাবি আদায়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ মুখে কালো কাপড় বেঁধে শিক্ষকরা শাহবাগে অবস্থান করবেন। অবস্থান কর্মসূচির পর তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাস্তায় নামবেন। মিছিল শেষে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। জোটের আল্টিমেটাম হলো: ২২ অক্টোবরের মধ্যে দাবি মেনে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে যমুনা নদী ঘেরাও করা হবে।
সোমবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশনস্থলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোওয়ার হোসেন আজিজী।
তিনি বলেন, সোমবার থেকে আমাদের কর্মসূচি আমরণ অনশনে রূপ নিয়েছে। এরই মধ্যে চারজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং প্রায় সবাই অসুস্থ। অধ্যক্ষ আজিজীর হুঁশিয়ারি: এই অনশনে যদি কোনো প্রাণহানি ঘটে, তবে এর দায়ভার শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরারকে নিতে হবে। সদস্য সচিব আরও জানান, যারা শহীদ মিনারে উপস্থিত হতে পারবেন না, তারা প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত জেলা ও উপজেলা সদরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা এবং উৎসব ভাতা ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ করার দাবিতে শিক্ষকরা ১২ অক্টোবর থেকে আন্দোলনে আছেন।
অধ্যক্ষ আজিজী আন্দোলনের ব্যাপারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সতর্ক করে বলেন, মাদারীপুর জেলা শিক্ষা অফিসার একটি নোটিশ জারি করেছিলেন। আমি তাকে বলেছি, শিক্ষকদের ন্যায্য আন্দোলনের প্রতিপক্ষ হবেন না। যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নোটিশ প্রত্যাহার না করেন, তাহলে জেলা শিক্ষা অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। তিনি জানান, বিকালে অনলাইনে দেখা গেছে অনিবার্যকারণ দেখিয়ে নোটিশটি স্থগিত করা হয়েছে। আজিজী আরও বলেন, আমরা জেলা শিক্ষা অফিসার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, ইউএনও, ডিসি, এসপি, ওসিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আপনারা শিক্ষা উপদেষ্টার কূটচালে পা দেবেন না। অন্যথায় সারা দেশ থেকে একযোগে লংমার্চ করে আপনাদের অফিস ঘেরাও করা হবে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, “আমরা এই উপদেষ্টার কোনো সিদ্ধান্ত মানি না। অবিলম্বে আমাদের দাবি মেনে তাঁকে দ্রুত প্রজ্ঞাপন দিতে হবে, নয়তো তাঁকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড়তে হবে।”
দেলোওয়ার হোসেন বলেন, আমরা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তিনি ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় চেয়েছেন এবং সমাধান খুঁজে বের করার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা তাঁর অনুরোধে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করব। এরপরও যদি দাবি না মানা হয়, তখন যে পরিস্থিতি তৈরি হবে, বাংলাদেশ কখনো এমন দৃশ্য দেখেনি। আমরা সচিবালয়ের প্রতিটি পয়েন্টে অবস্থান নেব।
সরকারি অর্থব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আজিজী বলেন, প্রশিক্ষণের জন্য সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। সেটা শিক্ষকসমাজকে দিন। বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য রাখা দুই হাজার কোটি টাকাও শিক্ষকদের কাছে হস্তান্তর করার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, শিক্ষকসমাজ এখন জেগে উঠেছে। দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষকরা শিশুসন্তান নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এই আন্দোলন এখন সারা দেশে ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। যত দ্রুত দাবি মেনে নেবেন, ততই সরকারের মঙ্গল।
কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম। তিনি বলেন, প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত কোনো শিক্ষকই জাতীয়করণের বাইরে থাকা ঠিক না। তিনি যুক্তি দেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ২০% বাড়ি ভাড়া চান, যেখানে সরকারি শিক্ষকরা পান ৪৫%। এটি একটি যৌক্তিক দাবি। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের ওপর পুলিশি হামলা ন্যক্কারজনক। অবিলম্বে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে তাঁদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরির জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
রিপোর্টারের নাম 


















