ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

‘অন্ধকারের যাত্রা থেকে দেশকে বাঁচান’: ২০২৬-এর নববর্ষে শেখ হাসিনার বার্তা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৮:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

‘অন্ধকারের যাত্রা থেকে দেশকে বাঁচান’: ২০২৬-এর নববর্ষে শেখ হাসিনার বার্তা

২০২৬ সালের ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই বার্তায় তিনি বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ‘অন্ধকারের যাত্রা’ হিসেবে অভিহিত করে দেশকে রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা এই প্রথম নতুন বছরের রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে এত জোরালো বক্তব্য দিলেন।


শেখ হাসিনা তার বার্তায় অভিযোগ করেন, বর্তমান ‘অবৈধ দখলদাররা’ দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য এবং মিথ্যার বেসাতিতে পরিণত করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি আজ সংকটের মুখে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দেশকে এই অন্ধকারের যাত্রা থেকে বাঁচাতে আমাদের সবাইকে এক হতে হবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ২০২৬ সাল হবে ভুল সংশোধনের এবং হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের বছর।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় দাবি করেন, যারা দেশকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, তাদের আসল চেহারা জনগণের সামনে উন্মোচিত হয়েছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘জনগণকে জিম্মি করার’ শামিল বলে বর্ণনা করেন। তিনি আরও বলেন, “আমার সরকার নিরলসভাবে কাজ করে বাংলাদেশকে যে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিল, আজ তা প্রশ্নবিদ্ধ।” তার মতে, অতীতেও জাতি সকল ভেদাভেদ ভুলে সংকটকালে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং এবারও ২০২৬ সালে একটি ‘চূড়ান্ত ফলাফল’ দেখার প্রত্যাশা করেন তিনি।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় শেখ হাসিনার এই বার্তা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যখন ছাত্র নেতৃত্বাধীন এনসিপি এবং জামায়াতে ইসলামীর জোট গঠন নিয়ে বিতর্ক চলছে, তখন শেখ হাসিনার এই ‘ঐক্যের ডাক’ মূলত আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের পুনরায় চাঙ্গা করার এবং বর্তমান অস্থিতিশীলতার সুযোগ নেওয়ার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের বিমা সুবিধা দিতে ন্যাশনাল ব্যাংক ও ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চুক্তি

‘অন্ধকারের যাত্রা থেকে দেশকে বাঁচান’: ২০২৬-এর নববর্ষে শেখ হাসিনার বার্তা

আপডেট সময় : ০১:৩৮:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

‘অন্ধকারের যাত্রা থেকে দেশকে বাঁচান’: ২০২৬-এর নববর্ষে শেখ হাসিনার বার্তা

২০২৬ সালের ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই বার্তায় তিনি বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ‘অন্ধকারের যাত্রা’ হিসেবে অভিহিত করে দেশকে রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা এই প্রথম নতুন বছরের রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে এত জোরালো বক্তব্য দিলেন।


শেখ হাসিনা তার বার্তায় অভিযোগ করেন, বর্তমান ‘অবৈধ দখলদাররা’ দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য এবং মিথ্যার বেসাতিতে পরিণত করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি আজ সংকটের মুখে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দেশকে এই অন্ধকারের যাত্রা থেকে বাঁচাতে আমাদের সবাইকে এক হতে হবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ২০২৬ সাল হবে ভুল সংশোধনের এবং হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের বছর।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় দাবি করেন, যারা দেশকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, তাদের আসল চেহারা জনগণের সামনে উন্মোচিত হয়েছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘জনগণকে জিম্মি করার’ শামিল বলে বর্ণনা করেন। তিনি আরও বলেন, “আমার সরকার নিরলসভাবে কাজ করে বাংলাদেশকে যে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিল, আজ তা প্রশ্নবিদ্ধ।” তার মতে, অতীতেও জাতি সকল ভেদাভেদ ভুলে সংকটকালে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং এবারও ২০২৬ সালে একটি ‘চূড়ান্ত ফলাফল’ দেখার প্রত্যাশা করেন তিনি।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় শেখ হাসিনার এই বার্তা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যখন ছাত্র নেতৃত্বাধীন এনসিপি এবং জামায়াতে ইসলামীর জোট গঠন নিয়ে বিতর্ক চলছে, তখন শেখ হাসিনার এই ‘ঐক্যের ডাক’ মূলত আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের পুনরায় চাঙ্গা করার এবং বর্তমান অস্থিতিশীলতার সুযোগ নেওয়ার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।