২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে এককভাবে জয়ী হলেও সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠনের পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দীর্ঘ ১৭ বছর পর মূলধারার রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থানে ফেরা দলটি দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় অন্তত পাঁচ বছর সম্মিলিতভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে। জামায়াত আমিরের এই অবস্থান এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও এককভাবে ক্ষমতা দখল করতে চায় না বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে একটি ‘জাতীয় ঐক্য সরকার’ গঠনের পরিকল্পনা করছে দলটি। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এই রাজনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরেন।
পাঁচ বছরের স্থিতিশীলতা ও ঐক্যের আহ্বান:
সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ অস্থিরতার পর দেশকে অন্তত পাঁচ বছর শান্ত ও স্থিতিশীল রাখা জরুরি। এই লক্ষ্য অর্জনে সব রাজনৈতিক দল যদি ঐক্যের ভিত্তিতে সরকার গঠনে সম্মত হয়, তবে জামায়াত তাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি জানান। উল্লেখ্য, বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির পর দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জামায়াতের।
দুর্নীতিমুক্ত শাসন ও নেতৃত্বের মানদণ্ড:
জামায়াত আমির স্পষ্ট করেছেন যে, যেকোনো ঐক্যবদ্ধ সরকারের প্রধান লক্ষ্য হতে হবে দুর্নীতি নির্মূল করা। তিনি জানান, নির্বাচনে যে দল সর্বাধিক আসন লাভ করবে, সেই দল থেকেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন। যদি জামায়াত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তবে তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রী হবেন কি না, তা দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিদ্ধান্ত নেবে। সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোট গঠন করে জামায়াত তাদের রাজনৈতিক কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।
ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ:
প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিরসনে জামায়াত ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছে। ডা. শফিকুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, চলতি বছরের শুরুর দিকে একজন ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে তার একান্ত বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন, “সবার সঙ্গে আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ ও উন্মুক্ত সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন।” দিল্লির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টার অংশ হিসেবে এই বৈঠককে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের সঙ্গে ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়াত কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকে না থেকে সবার সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাসী।
রাষ্ট্রপতি ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের বিষয়ে জামায়াত আমিরের অবস্থান বেশ কঠোর। তিনি জানান, জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো বর্তমান রাষ্ট্রপতির অধীনে স্বস্তিবোধ করছে না। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন নিজেও এর আগে জানিয়েছিলেন যে তিনি মেয়াদের মাঝপথে পদত্যাগের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়া এবং জামায়াতের ওপর থেকে আইনি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর দলটির এই নতুন রাজনৈতিক অবস্থান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার সমীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























