আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আসন সমঝোতা ও জোট রাজনীতির সমীকরণ চূড়ান্ত রূপ নিতে শুরু করেছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী তাদের মিত্র দলগুলোর জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য এবং দলীয় সূত্রমতে, বিএনপি ১২টি আসনে তাদের শরিকদের জন্য ছাড় দিয়েছে। এর বাইরেও ৫ জন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, যারা আগে অন্য দলে ছিলেন, তাঁরা এবার বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩), রেদোয়ান আহমেদ (কুমিল্লা-৭), শাহাদাত হোসেন সেলিম (লক্ষ্মীপুর-১), সৈয়দ এহসানুল হুদা (কিশোরগঞ্জ-৫) এবং রাশেদ খাঁন (ঝিনাইদহ-৪)।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী তাদের সমমনা ১১ দলীয় জোটের শরিকদের জন্য প্রায় ১০০ থেকে ১১০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। জামায়াত নিজে ১৯০টি আসনে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিলেও মিত্রদের জন্য ছাড় দেওয়া আসনের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩৫টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২৫ থেকে ৩০টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৫ থেকে ১০টি আসন পেতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া এবি পার্টি, খেলাফত মজলিস এবং এলডিপির জন্য ২ থেকে ৫টি করে আসন বরাদ্দ রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও অনেক আসনেই সমঝোতা প্রক্রিয়া এখনো চলমান, তবে বড় দলগুলোর এই ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নির্বাচনী মাঠে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৫৯টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ৩৩১টি এবং জামায়াতে ইসলামী ২৭৬টি আসনে দলীয় মনোনয়ন জমা দিয়েছে। প্রার্থী প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারির পর দলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের লড়াই মূলত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বনাম জামায়াত সমর্থিত ইসলামপন্থী জোটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রিপোর্টারের নাম 

























