পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তিন দিনের কলকাতা সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অনুপ্রবেশ ইস্যুকে বিজেপির প্রধান নির্বাচনী প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে শাহ দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকারের মদতেই অনুপ্রবেশ ঘটছে এবং এর ফলে রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে বলেন, ভারতের অন্যান্য সীমান্তবর্তী রাজ্য যেমন আসাম ও ত্রিপুরায় অনুপ্রবেশ বন্ধ হলেও বাংলায় তা হচ্ছে না কারণ রাজ্য সরকার বিএসএফ-কে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিচ্ছে না। এছাড়া দুর্নীতি ইস্যুতেও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে রেশন ও আবাস যোজনার দুর্নীতিতে পশ্চিমবঙ্গ আজ বিপর্যস্ত। তবে ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়া নিয়ে আতঙ্কিত মতুয়া সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে শাহ বলেন, শরণার্থীদের প্রত্যেককে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে এবং তাঁদের ভয়ের কোনো কারণ নেই।
অমিত শাহের এই আক্রমণের কড়া জবাব দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, সীমান্তে জমি না দেওয়ার বিষয়টি ভিত্তিহীন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উচিত আগে কাশ্মীর ও দিল্লিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব বিএসএফ-এর হলে সেখানে অনুপ্রবেশের জন্য রাজ্য সরকারকে কেন দায়ী করা হচ্ছে? অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অমিত শাহকে ভারতের ইতিহাসের ‘ব্যর্থতম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, যদি অনুপ্রবেশ হয়ে থাকে তবে সবার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। তিনি বিজেপির নিজস্ব সাংসদদের পরস্পরবিরোধী মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে দলটির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনুপ্রবেশ এবং নাগরিকত্ব ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিজেপি ভোটারদের মেরুকরণের চেষ্টা করলেও মতুয়াদের মধ্যে থাকা নাগরিকত্ব হারানোর ভয় দলটির জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুর্নীতির ইস্যুটি ভোটারদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে, কারণ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতেও বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তদুপরি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে অনুপ্রবেশকারীদের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়া যাওয়ায় বিজেপির অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়েছে বলে কোনো কোনো বিশ্লেষক মনে করছেন। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতি বনাম কেন্দ্রীয় বঞ্চনার ইস্যু এখন তুঙ্গে।
রিপোর্টারের নাম 























