সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর প্রচারিত হওয়ার পর থেকেই শোকে মুহ্যমান হয়ে পরেন দলীয় নেতাকর্মীরা। শুধু তাই নয় দলমত নির্বিশেষে সবার মধ্যেই এক ধরনের বিষন্নতা তৈরি হয়। তাই তাকে শেষ বিদায় দেওয়ার জন্য অনেকেই মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) থেকেই ঢাকায় আসতে থাকেন।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় জনাজার সময় নির্ধারণ করা হয়। তবে ভোর রাত থেকেই রাজধানীমুখী মানুষের স্রোত বাড়তে থাকে। বাস, ট্রেন, লঞ্চ, পিকআপ যে যেভাবে পেরেছেন এসেছেন। নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ছাড়িয়ে কয়েক কিলোমিটার লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। মানুষের চাপে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মেট্রোরেলেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। একপর্যায়ে ফার্মগেট, বিজয় সরণি, খামার বাড়ি মোড়, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, বাংলামোটর, শাহবাগ মোড়, আসাদ গেট, কলেজ গেট ও মোহাম্মদপুরসহ অলিগলি কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। যেদিকে চোখ গেছে, শুধু মানুষ আর মানুষ। সড়কে জায়গা না পেয়ে অনেকে বাসার ছাদ ও ওভার ব্রিজেও জানাজায় শরিক হন।
জানাজার আগমুহূর্তে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে স্থাপন করা প্রজেক্টরে বিএনপির চেয়ারপারসন দীর্ঘ কর্মময় জীবনের ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। মাইকে ফাঁকে ফাঁকে তার ভাষণও প্রচার করা হয়।
বিকাল ৩টায় বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মাওলানা আবদুল মালেক এর ইমামতিতে এতে অংশগ্রহণ করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সরকারের উপদেষ্টারা। খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। জানাজার আগে ইসলামী রীতি অনুযায়ী তিনি পরিবারের পক্ষ থেকে বেগম জিয়ার ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা ও দোয়া কামনা করেন।
এছাড়াও তিন বাহিনীর প্রধান, সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করেন। নারীদের জন্য ছিলো আলাদা নামাজের ব্যবস্থা। এছাড়াও বিভিন্ন রাষ্ট্র প্রধানের প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
বিকাল সাড়ে ৪টায় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়াকে স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়। এসময় তারেক রহমানসহ স্বজন, বিএনপির শীর্ষ নেতারা ও তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
সবমিলিয়ে মানুষের অভূতপূর্ব ভালোবাসায় চির শায়িত হন খালেদা জিয়া। বিশ্লেষকদের মতে বাংলাদেশের স্মরণকালের ইতিহাসে এই জানাজা রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। অতীতে এমন মানুষের উপস্থিতিতে কোনও জানাজা হয়নি।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “বেগম জিয়াকে মানুষ অসম্ভব ভালোবাসে। জানাজায় লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ এর বহিঃপ্রকাশ। আমার জানামতে কোনও রাজনৈতিক নেতার জানাজায় এতো মানুষ হয়নি। মূলত বিগত সরকারের সময় তিনি নিপীড়িত ও নির্যাতিত ছিলেন, এজন্যই তার প্রতি ব্যাপক সহানুভূতি যুক্ত হয়েছে।”
সাইফুল হক আরও বলেন, “তিনি দীর্ঘদিন রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন। তাই, তার কিছু ভুলত্রুটি থাকতে পারে। তবে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় কোনও ধরনের চাপ, হুমকি ও প্রলোভনের কাছে আপস করেননি। তাই মানুষ তার নেতৃত্বের প্রতি মুগ্ধ। ব্যক্তিগতভাবে বছর দেড়েক আগে বেগম জিয়া এভারকেয়ারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে দেখতে গেলে তিনি আমাদের সঙ্গে বিনয়ী আচরণ করেন। কখনও উগ্র কথা বলেননি। তাই শেষ বিদায়েও তিনি অভূতপূর্ব ভালোবাসা পেয়েছেন।”
এভারকেয়ার থেকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স যেভাবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছায়। এসময় সেখানে জানাজার জন্য অপেক্ষমান মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অনেকে ডুকরে ডুকরে কেঁদে ওঠেন।
এর আগে সকাল ৮টা ৫৩ মিনিটের এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়ার মরদেহ বের করা হয়। সেখান থেকে গুলশানে তার দীর্ঘদিনের বাসভবন ফিরোজায় নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে সকাল ৯টা ১৬ মিনিটে অ্যাম্বুলেন্স গুলশান-২ এর নর্থ অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত তারেক রহমানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনে প্রবেশ করে।
বাসভবনে কফিনের পাশে কিছু সময় অবস্থান করেন তারেক রহমান। এসময় তিনি কোরআন তেলাওয়াত করেন। দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জানাজা পড়ালেন বায়তুল মোকাররম খতিব
বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজা শুরু হয়। শেষ হয় ৫ মিনিট পর। স্মরণকালের রেকর্ড সংখ্যক মুসল্লির অংশগ্রহণে এ জানাজায় ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক।
মায়ের জন্য দোয়া চাইলেন তারেক রহমান
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজার পূর্বমুহূর্তে ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষ থেকে মায়ের জন্য দোয়া চান তার ছেলে তারেক রহমান। তিনি বলেন, “আমার মা বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকতে কারও কাছ থেকে ঋণ নিয়ে থাকলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমি পরিশোধ করে দেবো। তার কথায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করে দিবেন। মায়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন।”
দায় থেকে মুক্তি পেতে পারেন না শেখ হাসিনা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা মুক্তি পেতে পারে না বলে মনে করে বিএনপি। জানাজার আগে দলের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী নজরুল ইসলাম খান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, “ফ্যাসিবাদী হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মিথ্যা মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই বছরেরও বেশি সময় অন্ধকার কারাগারে আবদ্ধ থাকার সময় উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে খালেদা জিয়া দারুণভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দেশবাসী সাক্ষী হলো, পায়ে হেঁটে যিনি কারাগারে প্রবেশ করেছিলেন; নির্জন কারাগার থেকে তিনি বের হলেন চরম অসুস্থতা নিয়ে।”
“দেশ-বিদেশের চিকিৎসকদের মতে, পরবর্তী সময়ে গৃহবন্দিত্বের চার বছর বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ না দেওয়ার কারণেই তার অসুস্থতা বৃদ্ধি পায় এবং তার ফলশ্রুতিতে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানতেই হলো এই অপরাজেয় নেত্রীর। তাই এই মৃত্যুর দায় থেকে ফ্যাসিবাদী হাসিনা কখনও মুক্তি পেতে পারে না”, বলেন নজরুল ইসলাম খান।
তারেক রহমানকে সান্ত্বনা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিয়ে তার শোকাহত জ্যেষ্ঠপুত্র ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সান্ত্বনা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
দুপুরে জানাজার স্থানে পৌঁছে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস সরাসরি তারেক রহমানের কাছে যান। তিনি শোকসন্তপ্ত তারেক রহমানের হাত ধরে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন এবং ব্যক্তিগতভাবে গভীর সমবেদনা জানান।
প্রধান উপদেষ্টাসহ রাষ্ট্রের পক্ষে অংশগ্রহণ করেন যারা
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, মো. তৌহিদ হোসেন, অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার, ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, ড. আদিলুর রহমান খাঁন, ড. আলী ইমাম মজুমদার।
আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, যুদ্ধাপরাধীদের ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, প্রধান উপদেষ্টার রহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলী সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, নৌ বাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, আইজিপি বাহারুল আলম, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী প্রমুখ।
রাজনীতিবিদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যারা
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় রাজনীতিবিদদের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও বিএনপির উল্লেখযোগ্য উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
অন্যান্য দলের মধ্যে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)’র প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহম, যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)’র চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, মজিবুর রহমান মঞ্জু,ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনডিএম এর প্রতিষ্ঠাতা ববি হাজ্জাজ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)’র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এনডিপির চেয়ারম্যান কে এম আবু তাহের, আ্যডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, আমজনতার দল এর আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) মশিউজ্জামান, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির ও ইসলামী ছাত্র শিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
বিদেশি সরকারের যেসব প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা অংশ নেন
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতিনিধি ও ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা অংশগ্রহণ করেন।
এর মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকসহ ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ সরকারের প্রতিনিধিরাও ছিলেন।
আর কূটনীতিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত মেগান বোল্ডিন, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারসহ অন্তত ৩২ জন কূটনীতিক ও প্রতিনিধি।
এছাড়াও রাশিয়ার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত একাতেরিনা সেমেনোভা, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা সিনচি, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো সিগফ্রিড রেংলি।
এর বাইরে নেদারল্যান্ডস, লিবিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, ফিলিস্তিন, দক্ষিণ কোরিয়া, মিয়ানমার, ইতালি, সুইডেন, স্পেন, ইন্দোনেশিয়া, নরওয়ে, ব্রাজিল, মরক্কো, ইরান, আলজেরিয়া, ব্রুনাই, থাইল্যান্ড, কাতার, ডেনমার্ক ও মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা জানাজায় অংশ নেন।
কূটনীতিকদের পাশাপাশি বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মনি পান্ডে এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সিমোন লসন পার্চমেন্টও জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।
কয়েক কিলোমিটার জনবিস্তৃতি, ভবনের ছাদেও দাঁড়িয়েছেন কেউ কেউ
দুপুর ২টায় জানাজা শুরুর কথা থাকলেও ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ মানিক মিয়া এভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে মানুষের বিস্তৃতি আশপাশের এলাকা বিজয় সরণি, খামারবাড়ি মোড়, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, শেরে বাংলা নগর, কলেজগেট, মোহাম্মদপুর, আসাদগেট ও শাহবাগসহ অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের ছাদ ও ওভার ব্রিজসহ যে যেখানে সুযোগ পেয়েছেন সেখানেই দাঁড়িয়ে পরেছেন।
চাপ ঠেলে সময় মতো আসতে না পেরে অনেকে জানাজা পাননি। অনেক প্রবীণ জানান নিকট অতীতে এতো বড় জানাজা দেখেনি দেশবাসী।
মোড়ে মোড়ে খালেদা জিয়ার ডকুমেন্টারি
জানাজার আগমুহূর্তে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে স্থাপন করা প্রজেক্টরে বিএনপির চেয়ারপারসন দীর্ঘ কর্মময় জীবনের ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। মাইকে ফাঁকে ফাঁকে তার ভাষণও প্রচার করা হয়। ডকুমেন্টারিতে তার বর্ণাঢ্য জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
বিভিন্ন জনসমাবেশে তার দরাজ কণ্ঠের ভাষণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিদেশি রাষ্ট্র প্রধানদের সাথে বৈঠক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণসহ সব কিছুর জীবন্ত চিত্র তুলে ধরা হয়।
সমাহিত হলেন স্বামী জিয়াউর রহমানের পাশে, উপস্থিত ছিলেন যারা
জানাজার পর সংসদ ভবন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় পতাকায় মোড়া লাশবাহী গাড়িতে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়। মরদেহবাহী কফিন কাঁধে নেন সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা।
বিশেষ একটি বাহনে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ স্বামী জিয়াউর রহমানের সমাধির কাছে নেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিকাল সাড়ে ৪টায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।
দাফনকালে তারেক রহমান, স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, ছোটভাই আরাফাত রহমানের স্ত্রী শামিলা রহমান, তার বড় মেয়ে জাহিয়া রহমান, ছোট মেয়ে জাফিরা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা, বিএনপির নেতা–কর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা দাঁড়িয়ে শোক ও শ্রদ্ধা জানান।
কবরে প্রথম মাটি দিয়েছেন তারেক রহমান
মা খালেদা জিয়ার কবরে প্রথম মাটি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ-জামানসহ অন্যান্যরা। ইসলামী বিধান অনুযায়ী কবরের চল্লিশ কদম দূরত্ব পর্যন্ত কফিন কাঁধে নিয়ে হাঁটা হয়েছে। এমনটি জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি বলেন কবরে আমি নিজেও মাটি দিয়েছি।
কবরে মরদেহ নামান তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার।
মাকে সমাহিত করে সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় তারেক রহমান গুলশানের বাসায় ফিরেন বলে তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের অধীনে তার চিকিৎসা কার্যক্রম চলছিল।
রিপোর্টারের নাম 




























