ঢাকা ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

আতশবাজি, উৎসব ও আয়োজনে নতুন বছরকে বরণ করছে বিশ্ব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৬:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

আতশবাজির ঝলক, ঘণ্টাধ্বনি, ঢোলের তালে উৎসব—আর কোথাও কোথাও শীতল জলে ঝাঁপ। বুধবার রাত গড়িয়ে বৃহস্পতিবার শুরু হতেই বিদায় নিতে শুরু করল বিদায়ী বছর ২০২৫। নতুন বছর, ২০২৬ সালের প্রাক্কালে শান্তি, নিরাপত্তা ও ভালো দিনের আশায় মুখর হলো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

সবচেয়ে আগে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয় প্রশান্ত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার কাছের দ্বীপগুলোতে। কিরিতিমাতি (ক্রিসমাস আইল্যান্ড), টোঙ্গা ও নিউজিল্যান্ডে মধ্যরাত নামতেই শুরু হয় নতুন বছরের উদযাপন।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বরাবরের মতোই জাঁকজমকপূর্ণ আতশবাজির মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালকে স্বাগত জানানো হয়েছে। সিডনি হারবার ও হারবার ব্রিজের ৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ৪০ হাজারেরও বেশি আতশবাজি আকাশকে বর্ণিল করে তোলে। তবে এবারের উৎসব ছিল কিছুটা বিষাদময়। কয়েক সপ্তাহ আগে সিডনিতে একটি ইহুদি অনুষ্ঠানে বন্দুকধারীদের হামলায় ১৫ জন নিহতের ঘটনায় সেখানে নিরাপত্তা ছিল অত্যন্ত কড়াকড়ি। নিহতদের স্মরণে রাত ১১টায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং হারবার ব্রিজের গায়ে ইহুদিদের প্রতীক ‘মেনোরাহ’ প্রজেকশন করা হয়। সিডনির লর্ড মেয়র ক্লোভার মুর বলেন, একটি বিয়োগান্তক ঘটনার পর এই উৎসব যেন সবার মাঝে শান্তি ও ঐক্য ফিরিয়ে আনে।

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন বোসিংগাক বেল প্যাভিলিয়নে। বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুযায়ী সেখানে রাত ১২টায় ব্রোঞ্জ নির্মিত ঘণ্টাটি ৩৩ বার বাজানো হয়, যা আগামী বছরের শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

অন্যদিকে, বেইজিংয়ের বাইরে চীনের মহাপ্রাচীরের জুয়ং পাস এলাকায় ড্রাম বাজিয়ে উৎসব উদযাপন করা হয়েছে। উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা ‘২০২৬’ লেখা টুপি ও ফেস্টুন হাতে ঘোড়ার প্রতীক নিয়ে নেচেগেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।

ক্রোয়েশিয়ার ফুদিনে ২০০০ সাল থেকেই দুপুর ১২টায় নতুন বছরের কাউন্টডাউন করার এক ব্যতিক্রমী ঐতিহ্য চলে আসছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দিনের আলোতেই শ্যাম্পেন ও নাচে মেতে ওঠে জনতা। এমনকি হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে সান্তা টুপি পরে অনেকে লেক বাজেরের বরফশীতল পানিতে ঝাঁপ দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।

ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর কোপাকাবানা সৈকতে এবার নতুন রেকর্ড গড়ার প্রস্তুতি চলছে। ২০২৪ সালের গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ভেঙে বিশ্বের বৃহত্তম নিউ ইয়ার সেলিব্রেশনের আয়োজনের লক্ষ্যে সেখানে বিশাল মঞ্চ ও আতশবাজির প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রায় ঐতিহ্যবাহী ‘বল ড্রপ’ দেখার অপেক্ষায় ভিড় জমাচ্ছে মানুষ।

তুষার ঢাকা কিয়েভে ইউক্রেনীয়রা নতুন বছরকে বরণ করছে শান্তির এক বুক প্রত্যাশা নিয়ে। রাশিয়ার সঙ্গে চার বছরের দীর্ঘ যুদ্ধে ক্লান্ত দেশটির মানুষ এখন শুধুই শান্তি চায়। স্বামী হারানো ৪৭ বছর বয়সী নারী সেনা ইরিনা বলেন, বাস্তববাদী হতে হবে, সবাই শান্তি চায় ঠিকই কিন্তু তা এখনও অধরা। তবে কিয়েভের সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালের সামনে বড়দিন উপলক্ষে সাজানো গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ৯ বছর বয়সী ওলেসিয়া বেশ আশাবাদী। তার কণ্ঠে ছিল সহজ সরল বিশ্বাস, নতুন বছরে নিশ্চয়ই শান্তি আসবে।

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ বার নির্বাচনে ১১ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

আতশবাজি, উৎসব ও আয়োজনে নতুন বছরকে বরণ করছে বিশ্ব

আপডেট সময় : ১১:১৬:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

আতশবাজির ঝলক, ঘণ্টাধ্বনি, ঢোলের তালে উৎসব—আর কোথাও কোথাও শীতল জলে ঝাঁপ। বুধবার রাত গড়িয়ে বৃহস্পতিবার শুরু হতেই বিদায় নিতে শুরু করল বিদায়ী বছর ২০২৫। নতুন বছর, ২০২৬ সালের প্রাক্কালে শান্তি, নিরাপত্তা ও ভালো দিনের আশায় মুখর হলো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

সবচেয়ে আগে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয় প্রশান্ত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার কাছের দ্বীপগুলোতে। কিরিতিমাতি (ক্রিসমাস আইল্যান্ড), টোঙ্গা ও নিউজিল্যান্ডে মধ্যরাত নামতেই শুরু হয় নতুন বছরের উদযাপন।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বরাবরের মতোই জাঁকজমকপূর্ণ আতশবাজির মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালকে স্বাগত জানানো হয়েছে। সিডনি হারবার ও হারবার ব্রিজের ৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ৪০ হাজারেরও বেশি আতশবাজি আকাশকে বর্ণিল করে তোলে। তবে এবারের উৎসব ছিল কিছুটা বিষাদময়। কয়েক সপ্তাহ আগে সিডনিতে একটি ইহুদি অনুষ্ঠানে বন্দুকধারীদের হামলায় ১৫ জন নিহতের ঘটনায় সেখানে নিরাপত্তা ছিল অত্যন্ত কড়াকড়ি। নিহতদের স্মরণে রাত ১১টায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং হারবার ব্রিজের গায়ে ইহুদিদের প্রতীক ‘মেনোরাহ’ প্রজেকশন করা হয়। সিডনির লর্ড মেয়র ক্লোভার মুর বলেন, একটি বিয়োগান্তক ঘটনার পর এই উৎসব যেন সবার মাঝে শান্তি ও ঐক্য ফিরিয়ে আনে।

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন বোসিংগাক বেল প্যাভিলিয়নে। বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুযায়ী সেখানে রাত ১২টায় ব্রোঞ্জ নির্মিত ঘণ্টাটি ৩৩ বার বাজানো হয়, যা আগামী বছরের শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

অন্যদিকে, বেইজিংয়ের বাইরে চীনের মহাপ্রাচীরের জুয়ং পাস এলাকায় ড্রাম বাজিয়ে উৎসব উদযাপন করা হয়েছে। উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা ‘২০২৬’ লেখা টুপি ও ফেস্টুন হাতে ঘোড়ার প্রতীক নিয়ে নেচেগেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।

ক্রোয়েশিয়ার ফুদিনে ২০০০ সাল থেকেই দুপুর ১২টায় নতুন বছরের কাউন্টডাউন করার এক ব্যতিক্রমী ঐতিহ্য চলে আসছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দিনের আলোতেই শ্যাম্পেন ও নাচে মেতে ওঠে জনতা। এমনকি হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে সান্তা টুপি পরে অনেকে লেক বাজেরের বরফশীতল পানিতে ঝাঁপ দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।

ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর কোপাকাবানা সৈকতে এবার নতুন রেকর্ড গড়ার প্রস্তুতি চলছে। ২০২৪ সালের গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ভেঙে বিশ্বের বৃহত্তম নিউ ইয়ার সেলিব্রেশনের আয়োজনের লক্ষ্যে সেখানে বিশাল মঞ্চ ও আতশবাজির প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রায় ঐতিহ্যবাহী ‘বল ড্রপ’ দেখার অপেক্ষায় ভিড় জমাচ্ছে মানুষ।

তুষার ঢাকা কিয়েভে ইউক্রেনীয়রা নতুন বছরকে বরণ করছে শান্তির এক বুক প্রত্যাশা নিয়ে। রাশিয়ার সঙ্গে চার বছরের দীর্ঘ যুদ্ধে ক্লান্ত দেশটির মানুষ এখন শুধুই শান্তি চায়। স্বামী হারানো ৪৭ বছর বয়সী নারী সেনা ইরিনা বলেন, বাস্তববাদী হতে হবে, সবাই শান্তি চায় ঠিকই কিন্তু তা এখনও অধরা। তবে কিয়েভের সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালের সামনে বড়দিন উপলক্ষে সাজানো গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ৯ বছর বয়সী ওলেসিয়া বেশ আশাবাদী। তার কণ্ঠে ছিল সহজ সরল বিশ্বাস, নতুন বছরে নিশ্চয়ই শান্তি আসবে।