ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড এবং ময়মনসিংহের ভালুকায় হিন্দু শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে তীব্র উত্তজনা বিরাজ করছে। এই অস্থির পরিস্থিতির নেপথ্যে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভারতের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও এনএসজি কমান্ডো লাকি বিষ্ট।
তাঁর মতে, বাংলাদেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে এবং জনমনে ভারত-বিরোধী মনোভাব উসকে দিতে আইএসআই এই সুপরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। বিষ্ট দাবি করেন, আইএসআই সরাসরি সামনে না এসে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠনগুলোর মাধ্যমে পেছন থেকে ইন্ধন যোগাচ্ছে, যাতে চলমান সহিংসতাকে একটি স্থানীয় জনরোষ হিসেবে দেখানো যায়।
এদিকে, ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় তোলে। এই ঘটনার পর ঢাকা ও চট্টগ্রামে ভারতীয় দূতাবাস ও ভিসা কেন্দ্রে হামলা এবং প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মতো গণমাধ্যম কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ঠিক একই সময়ে ১৮ ডিসেম্বর রাতে ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে পুড়িয়ে মারার ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উসকানি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
যদিও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই ঘটনাগুলোকে ‘বিচ্ছিন্ন’ বলে উল্লেখ করেছে এবং ইতিমধ্যেই দীপু হত্যা মামলায় ১২ জন এবং হাদি হত্যা মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে। তবে লাকি বিষ্টের মতো বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ যার উদ্দেশ্য বাংলাদেশে অরাজকতা বজায় রাখা এবং নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়া।
রিপোর্টারের নাম 






















