ঢাকা ১০:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সৌদি আলটিমেটামের পর ইয়েমেন থেকে আমিরাতের সেনা প্রত্যাহার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫০:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

ইয়েমেন থেকে তাদের অবশিষ্ট সব সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। মঙ্গলবার দেশটির পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসে। এর আগে রিয়াদ এক কঠোর আলটিমেটামে আমিরাতি বাহিনীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইয়েমেন ত্যাগের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুকাল্লা বন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার পর দুই দেশের মধ্যকার বিরোধ চরমে পৌঁছায়। রিয়াদের দাবি, আরব আমিরাত সংশ্লিষ্ট একটি জাহাজে করে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্য অস্ত্র নেওয়া হচ্ছিলো। এই ঘটনার পরই রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যকার দীর্ঘদিনের মিত্রতায় বড় ধরনের ফাটল দেখা দিলো।

এক সময় আঞ্চলিক নিরাপত্তার দুই স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত এই দুই দেশের স্বার্থ এখন তেলের উৎপাদন থেকে শুরু করে ভূরাজনৈতিক প্রভাব, সবক্ষেত্রেই আলাদা হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সৌদি আরব তাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে ‘রেড লাইন’ বা চরম সীমা হিসেবে ঘোষণা করে। রিয়াদের অভিযোগ, আমিরাত ইয়েমেনের সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) ওপর চাপ সৃষ্টি করে এমন কিছু সামরিক অভিযান করিয়েছে, যা সৌদি আরবের সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

জোটের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার মুকাল্লা বন্দরের সেই ডক এলাকায় হামলা চালানো হয়, যেখানে আমিরাতসমর্থিত এসটিসিকে বিদেশি সামরিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এরপরই সৌদিসমর্থিত ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল আমিরাতি সেনাদের দেশ ছাড়তে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দেয়।

সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও আরব আমিরাত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমান হামলায় তারা ‘বিস্মিত’। তাদের দাবি, যে জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়েছে তাতে কোনও অস্ত্র ছিল না, বরং সেগুলো আমিরাতি বাহিনীর ব্যবহারের জন্য পণ্য ছিল।

এদিকে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আলআলিমি আরব আমিরাতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করেছেন। এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি আমিরাতের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলে বলেন, এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আরব আমিরাত এসটিসিকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে সামরিক উসকানি দিচ্ছে।

সৌদি ও আমিরাতের এই দ্বন্দ্বে প্রভাব পড়েছে বাজারেও। মঙ্গলবারের এই উত্তেজনার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে ব্যাপক দরপতন ঘটেছে। উভয় দেশই তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকএর প্রভাবশালী সদস্য। আগামী রবিবার ওপেক প্লাস দেশগুলোর একটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের এই বিরোধ তেলের উৎপাদন সংক্রান্ত ঐক্যমত্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে ওপেক প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, প্রথম প্রান্তিকে উৎপাদন নীতি অপরিবর্তিত রাখার বর্তমান পরিকল্পনা তারা বজায় রাখতে চান।

২০১৫ সালে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যে জোট গঠিত হয়েছিল, ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে সেই জোটের দুই প্রধান সদস্যের মধ্যে এখন প্রকাশ্য বিভক্তি। আবুধাবি যেখানে এসটিএস বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন দিচ্ছে, রিয়াদ সেখানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পক্ষ নিয়েছে। এই স্বার্থের সংঘাতই শেষ পর্যন্ত সরাসরি সামরিক ও কূটনৈতিক বিরোধে রূপ নিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিতর্ক ছাপিয়ে শুরু হলো বিশ্বকাপ, নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি আয়োজকরা

সৌদি আলটিমেটামের পর ইয়েমেন থেকে আমিরাতের সেনা প্রত্যাহার

আপডেট সময় : ০৯:৫০:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

ইয়েমেন থেকে তাদের অবশিষ্ট সব সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। মঙ্গলবার দেশটির পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসে। এর আগে রিয়াদ এক কঠোর আলটিমেটামে আমিরাতি বাহিনীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইয়েমেন ত্যাগের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুকাল্লা বন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার পর দুই দেশের মধ্যকার বিরোধ চরমে পৌঁছায়। রিয়াদের দাবি, আরব আমিরাত সংশ্লিষ্ট একটি জাহাজে করে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্য অস্ত্র নেওয়া হচ্ছিলো। এই ঘটনার পরই রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যকার দীর্ঘদিনের মিত্রতায় বড় ধরনের ফাটল দেখা দিলো।

এক সময় আঞ্চলিক নিরাপত্তার দুই স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত এই দুই দেশের স্বার্থ এখন তেলের উৎপাদন থেকে শুরু করে ভূরাজনৈতিক প্রভাব, সবক্ষেত্রেই আলাদা হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সৌদি আরব তাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে ‘রেড লাইন’ বা চরম সীমা হিসেবে ঘোষণা করে। রিয়াদের অভিযোগ, আমিরাত ইয়েমেনের সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) ওপর চাপ সৃষ্টি করে এমন কিছু সামরিক অভিযান করিয়েছে, যা সৌদি আরবের সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

জোটের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার মুকাল্লা বন্দরের সেই ডক এলাকায় হামলা চালানো হয়, যেখানে আমিরাতসমর্থিত এসটিসিকে বিদেশি সামরিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এরপরই সৌদিসমর্থিত ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল আমিরাতি সেনাদের দেশ ছাড়তে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দেয়।

সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও আরব আমিরাত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমান হামলায় তারা ‘বিস্মিত’। তাদের দাবি, যে জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়েছে তাতে কোনও অস্ত্র ছিল না, বরং সেগুলো আমিরাতি বাহিনীর ব্যবহারের জন্য পণ্য ছিল।

এদিকে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আলআলিমি আরব আমিরাতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করেছেন। এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি আমিরাতের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলে বলেন, এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আরব আমিরাত এসটিসিকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে সামরিক উসকানি দিচ্ছে।

সৌদি ও আমিরাতের এই দ্বন্দ্বে প্রভাব পড়েছে বাজারেও। মঙ্গলবারের এই উত্তেজনার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে ব্যাপক দরপতন ঘটেছে। উভয় দেশই তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকএর প্রভাবশালী সদস্য। আগামী রবিবার ওপেক প্লাস দেশগুলোর একটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের এই বিরোধ তেলের উৎপাদন সংক্রান্ত ঐক্যমত্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে ওপেক প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, প্রথম প্রান্তিকে উৎপাদন নীতি অপরিবর্তিত রাখার বর্তমান পরিকল্পনা তারা বজায় রাখতে চান।

২০১৫ সালে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যে জোট গঠিত হয়েছিল, ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে সেই জোটের দুই প্রধান সদস্যের মধ্যে এখন প্রকাশ্য বিভক্তি। আবুধাবি যেখানে এসটিএস বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন দিচ্ছে, রিয়াদ সেখানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পক্ষ নিয়েছে। এই স্বার্থের সংঘাতই শেষ পর্যন্ত সরাসরি সামরিক ও কূটনৈতিক বিরোধে রূপ নিয়েছে।