সৌদি আরব সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের জাতীয় নিরাপত্তা একটি ‘রেড লাইন’ বা চরম সীমা। একই সঙ্গে ইয়েমেনে অবস্থানরত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বাহিনীকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশটি ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে রিয়াদ। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইয়েমেনের দক্ষিণ উপকূলীয় মুকাল্লা বন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার পরপরই রিয়াদের পক্ষ থেকে এই কড়া হুঁশিয়ারি এলো। এর মাধ্যমে আবুধাবির বিরুদ্ধে রিয়াদ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিলো। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-কে দেওয়া বিদেশি সামরিক সহায়তা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
ইয়েমেনের সৌদি–সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল–আলিমি ইতোমধ্যে আমিরাতি সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সৌদি আরব এই দাবি মেনে নিতে আমিরাতকে আহ্বান জানিয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, গত শনিবার ও রবিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে দুটি জাহাজ অনুমতি ছাড়াই ইয়েমেনের মুকাল্লা বন্দরে পৌঁছায়। এরপর জাহাজগুলো তাদের ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে দেয় এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এসটিসি–র সহায়তায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক যান খালাস করতে শুরু করে।
সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে ‘গ্রিনল্যান্ড’ নামক একটি জাহাজের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখান থেকে অস্ত্র খালাস করতে দেখা গেছে। এরপরই মঙ্গলবার ভোরে মুকাল্লা বন্দরের ডক এলাকায় বিমান হামলা চালায় জোট। তবে সৌদি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই হামলায় কোনও হতাহত বা অন্য কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল–আলিমি আরব আমিরাতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করেছেন। এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি অভিযোগ করেন, আমিরাত সরাসরি এসটিসি–কে উসকানি দিয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে প্ররোচনা দিচ্ছে। তিনি পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার জন্য ইয়েমেনের সব আকাশপথ, স্থল ও সমুদ্রবন্দরে অবরোধ আরোপ করেছেন।
অন্যদিকে, এসটিসি প্রধান এই নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, আরব জোট থেকে কোনও দেশকে বাদ দেওয়ার ক্ষমতা কোনও একক ব্যক্তির নেই। তারা আমিরাতকে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রধান অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে।
সৌদি আরব এবং আরব আমিরাত উভয়ই তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক–এর প্রভাবশালী সদস্য। দুই দেশের এই বিরোধ তেলের উৎপাদন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামী রবিবার ওপেক সদস্যদের একটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে এই উত্তেজনার প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে দরপতন লক্ষ্য করা গেছে।
২০১৫ সাল থেকে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি জোটের অন্যতম সদস্য ছিল আরব আমিরাত। ২০১৯ সালে তারা সেনা প্রত্যাহার শুরু করলেও সৌদি–সমর্থিত সরকারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি বিচ্ছিন্নতাবাদী এসটিসি ইয়েমেনের দক্ষিণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাজরামাউতসহ বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নিলে দুই মিত্র দেশের মধ্যে বিরোধ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।
রিপোর্টারের নাম 

























