ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

দ্রুতই গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে পৌঁছাতে চান ট্রাম্প

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে ‘খুব দ্রুত’ পৌঁছাতে চান। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, হামাস যদি শিগগিরই নিরস্ত্র না হয়, তাহলে তাদের জন্য থাকবে ভয়াবহ পরিণতি। ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনার আওতায় হামাসকে নিরস্ত্র হতে হবে—এমন শর্তের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ফ্লোরিডায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এ কথা বলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

বৈঠক শেষে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চলমান হামলা সত্ত্বেও ইসরায়েল পরিকল্পনাটি শতভাগ মেনে চলছে।’

শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে হামাস ও ইসরায়েল কত দ্রুত এগোবে—এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, যত দ্রুত সম্ভব। তবে অবশ্যই নিরস্ত্রীকরণ হতে হবে।

হামাস সম্পর্কে তিনি বলেন, যদি তারা নিরস্ত্র না হয়—যেমনটি তারা করতে সম্মত হয়েছিল—তাহলে তাদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। তারা এতে রাজি হয়েছিল।

তিনি আরও যোগ করেন, তাদের তুলনামূলকভাবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিরস্ত্র হতে হবে।

ট্রাম্প বলেন, গাজায় পুনর্গঠন কাজও খুব শিগগিরই শুরু হতে পারে।

গাজা শান্তি পরিকল্পনাটি অক্টোবরে কার্যকর হয়। দ্বিতীয় ধাপে বিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডে একটি টেকনোক্র্যাটিক (প্রযুক্তিবিদ-নির্ভর) সরকার গঠন করা হবে, হামাস নিরস্ত্র হবে এবং ইসরায়েলি সেনারা গাজা থেকে প্রত্যাহার করবে। এরপর শুরু হবে গাজার পুনর্গঠন।

তবে সমালোচকদের মতে, নেতানিয়াহু পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে দেরি করতে পারেন এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আগে হামাসকে নিরস্ত্র করতে চাপ দিতে পারেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে আলোচনায় না বসার অভিযোগও করা হয়েছে।

হামাস কর্মকর্তারা বলেছেন, পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ অবশ্যই একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অগ্রগতির সঙ্গে সমান্তরালে হতে হবে।

ইসরায়েল কি দ্বিতীয় ধাপে যেতে যথেষ্ট দ্রুত এগোচ্ছে না—এ নিয়ে উদ্বিগ্ন কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল পরিকল্পনাটি মেনে চলছে।

তিনি বলেন,ইসরায়েল যা করছে তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই। আমি উদ্বিগ্ন অন্যরা কী করছে বা হয়তো করছে না—তা নিয়ে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানে অন্তত ৪১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হামাস-পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

গাজার অর্ধেকেরও বেশি অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, তারা কেবল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবেই গুলি চালিয়েছে। একই সময়ে তিনজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার জন্য তারা হামাসকে দায়ী করেছে।

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর আলোচনায় সিরিয়া এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ সশস্ত্র গোষ্ঠীসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য উত্তেজনাপূর্ণ বিষয়ও উঠে আসে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিসিবির ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’: সাবেক ও বর্তমান অধিনায়কদের জন্য বিশেষ সম্মান ও চিকিৎসা সুবিধা

দ্রুতই গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে পৌঁছাতে চান ট্রাম্প

আপডেট সময় : ০২:৪১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে ‘খুব দ্রুত’ পৌঁছাতে চান। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, হামাস যদি শিগগিরই নিরস্ত্র না হয়, তাহলে তাদের জন্য থাকবে ভয়াবহ পরিণতি। ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনার আওতায় হামাসকে নিরস্ত্র হতে হবে—এমন শর্তের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ফ্লোরিডায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এ কথা বলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

বৈঠক শেষে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চলমান হামলা সত্ত্বেও ইসরায়েল পরিকল্পনাটি শতভাগ মেনে চলছে।’

শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে হামাস ও ইসরায়েল কত দ্রুত এগোবে—এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, যত দ্রুত সম্ভব। তবে অবশ্যই নিরস্ত্রীকরণ হতে হবে।

হামাস সম্পর্কে তিনি বলেন, যদি তারা নিরস্ত্র না হয়—যেমনটি তারা করতে সম্মত হয়েছিল—তাহলে তাদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। তারা এতে রাজি হয়েছিল।

তিনি আরও যোগ করেন, তাদের তুলনামূলকভাবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিরস্ত্র হতে হবে।

ট্রাম্প বলেন, গাজায় পুনর্গঠন কাজও খুব শিগগিরই শুরু হতে পারে।

গাজা শান্তি পরিকল্পনাটি অক্টোবরে কার্যকর হয়। দ্বিতীয় ধাপে বিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডে একটি টেকনোক্র্যাটিক (প্রযুক্তিবিদ-নির্ভর) সরকার গঠন করা হবে, হামাস নিরস্ত্র হবে এবং ইসরায়েলি সেনারা গাজা থেকে প্রত্যাহার করবে। এরপর শুরু হবে গাজার পুনর্গঠন।

তবে সমালোচকদের মতে, নেতানিয়াহু পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে দেরি করতে পারেন এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আগে হামাসকে নিরস্ত্র করতে চাপ দিতে পারেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে আলোচনায় না বসার অভিযোগও করা হয়েছে।

হামাস কর্মকর্তারা বলেছেন, পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ অবশ্যই একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অগ্রগতির সঙ্গে সমান্তরালে হতে হবে।

ইসরায়েল কি দ্বিতীয় ধাপে যেতে যথেষ্ট দ্রুত এগোচ্ছে না—এ নিয়ে উদ্বিগ্ন কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল পরিকল্পনাটি মেনে চলছে।

তিনি বলেন,ইসরায়েল যা করছে তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই। আমি উদ্বিগ্ন অন্যরা কী করছে বা হয়তো করছে না—তা নিয়ে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানে অন্তত ৪১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হামাস-পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

গাজার অর্ধেকেরও বেশি অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, তারা কেবল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবেই গুলি চালিয়েছে। একই সময়ে তিনজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার জন্য তারা হামাসকে দায়ী করেছে।

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর আলোচনায় সিরিয়া এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ সশস্ত্র গোষ্ঠীসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য উত্তেজনাপূর্ণ বিষয়ও উঠে আসে।