দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের প্রচার ও বিপণন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজন করা হলেও, এবার মেলায় থাকছে বিশেষ কিছু আকর্ষণ।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের মেলায় মোট ৩২৪টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়া—এই ৬ দেশের ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিচ্ছে।
দেশীয় পণ্যের প্রচারের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরতে এবার মেলায় গড়ে তোলা হয়েছে বিশেষ ‘Export Enclave’। এছাড়াও, ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহনকারী ৫২’র ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণে এবার নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’। সেখানে এসব ঐতিহাসিক ঘটনার স্থিরচিত্র প্রদর্শিত হবে।
মেলায় দেশীয় বস্ত্র, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, ফার্নিচার, পাটজাত পণ্য, চামড়া ও জুতা, কসমেটিক্স, গৃহসামগ্রী, খেলনা, স্টেশনারি, হস্তশিল্প, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, হোম ডেকরসহ নানা ধরনের দেশীয় পণ্যের বিপুল পসরা সাজানো হবে।
**সময়সূচি ও প্রবেশাধিকার**
দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে। মেলায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশ টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা, এবং ১২ বছরের নিচে শিশুদের জন্য ২৫ টাকা।
বিশেষ প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে, মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী এবং জুলাই আন্দোলনে আহতরা কার্ড প্রদর্শনপূর্বক বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন।
**নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধা**
মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ, র্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। প্রবেশপথে আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়াও, ফায়ার ব্রিগেড, ফ্রি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র, ভেজালবিরোধী মোবাইল কোর্ট এবং দুই শতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।
দর্শনার্থীদের গাড়ী পার্কিংয়ের জন্য ৫০০ গাড়ির ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতল পার্কিং ভবনসহ একাধিক খোলা পার্কিং এলাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রয়েছে মা ও শিশু কেন্দ্র, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সিটিং কর্ণার, শিশু পার্ক, মসজিদ, এটিএম বুথ, ক্যাফেটেরিয়া এবং তথ্য কেন্দ্র।
এ বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন— ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ, অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) আব্দুর রহিম খান এবং ইপিবির মহাপরিচালক বেবি রাণী কর্মকার।
এমআর/এএস
রিপোর্টারের নাম 

























