ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিনিয়োগমুখী প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে জোর: নতুন গভর্নরের ১১ দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দেশের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ১১ দফার একটি মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি এই রূপরেখা তুলে ধরেন, যার মূল লক্ষ্য হলো ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে গভর্নরের এই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থা থেকে দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করেছে। এখন সময় সেই স্থিতিশীলতাকে ভিত্তি করে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে হাঁটা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তার প্রধান লক্ষ্য হবে কেবল জিডিপি বাড়ানো নয়, বরং একটি ‘ইনক্লুসিভ’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা, যার সুফল সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারে।

গভর্নর ঘোষিত ১১ দফা পরিকল্পনার বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:

১. সামষ্টিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি: অর্থনীতির সামষ্টিক স্থিতিশীলতা অটুট রেখে প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করা।
২. অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন: প্রবৃদ্ধি যেন কেবল কাগজ-কলমে না থেকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা।
৩. শিল্প ও বাণিজ্যে গতি সঞ্চার: বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর মাধ্যমে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল করা।
৪. সুদের হার পুনর্বিবেচনা: বর্তমানের উচ্চ সুদের হার নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করা, যাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত না হয়।
৫. মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য দ্রব্যমূল্য বা ‘প্রাইস স্ট্যাবিলিটি’ বজায় রাখা।
৬. ব্যাংকিং খাতে সুশাসন: আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোরভাবে ‘গুড গভর্ন্যান্স’ বা সুশাসন নিশ্চিত করা।
৭. বস্তুনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত গ্রহণ: ব্যক্তিগত মর্জির বদলে তথ্য ও লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে ব্যাংকিং খাতের সিদ্ধান্ত নেওয়া।
৮. নিয়মভিত্তিক ব্যাংকিং: সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতির (Rule-based) আলোকে ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা।
৯. কর্তৃত্বের বিকেন্দ্রীকরণ: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজের গতি বাড়াতে প্রশাসনিক স্তরে ‘ডেলিগেশন অব অথরিটি’ বা ক্ষমতার সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা।
১০. আন্তঃসংস্থা সমন্বয়: সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সাথে নিবিড় সমন্বয় রেখে অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।
১১. ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার: কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মর্যাদা ও হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।

গভর্নর তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, বিনিয়োগমুখী প্রবৃদ্ধির মাধ্যমেই নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব, যা বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান দাবি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন কর্মপরিকল্পনা দেশের আর্থিক খাতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুকুরের তাণ্ডবে নীলফামারীতে ১৪ জন আহত, ভ্যাকসিন সংকটে ভোগান্তি চরমে

বিনিয়োগমুখী প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে জোর: নতুন গভর্নরের ১১ দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৭:২৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ১১ দফার একটি মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি এই রূপরেখা তুলে ধরেন, যার মূল লক্ষ্য হলো ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে গভর্নরের এই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থা থেকে দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করেছে। এখন সময় সেই স্থিতিশীলতাকে ভিত্তি করে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে হাঁটা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তার প্রধান লক্ষ্য হবে কেবল জিডিপি বাড়ানো নয়, বরং একটি ‘ইনক্লুসিভ’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা, যার সুফল সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারে।

গভর্নর ঘোষিত ১১ দফা পরিকল্পনার বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:

১. সামষ্টিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি: অর্থনীতির সামষ্টিক স্থিতিশীলতা অটুট রেখে প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করা।
২. অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন: প্রবৃদ্ধি যেন কেবল কাগজ-কলমে না থেকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা।
৩. শিল্প ও বাণিজ্যে গতি সঞ্চার: বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর মাধ্যমে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল করা।
৪. সুদের হার পুনর্বিবেচনা: বর্তমানের উচ্চ সুদের হার নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করা, যাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত না হয়।
৫. মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য দ্রব্যমূল্য বা ‘প্রাইস স্ট্যাবিলিটি’ বজায় রাখা।
৬. ব্যাংকিং খাতে সুশাসন: আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোরভাবে ‘গুড গভর্ন্যান্স’ বা সুশাসন নিশ্চিত করা।
৭. বস্তুনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত গ্রহণ: ব্যক্তিগত মর্জির বদলে তথ্য ও লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে ব্যাংকিং খাতের সিদ্ধান্ত নেওয়া।
৮. নিয়মভিত্তিক ব্যাংকিং: সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতির (Rule-based) আলোকে ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা।
৯. কর্তৃত্বের বিকেন্দ্রীকরণ: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজের গতি বাড়াতে প্রশাসনিক স্তরে ‘ডেলিগেশন অব অথরিটি’ বা ক্ষমতার সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা।
১০. আন্তঃসংস্থা সমন্বয়: সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সাথে নিবিড় সমন্বয় রেখে অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।
১১. ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার: কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মর্যাদা ও হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।

গভর্নর তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, বিনিয়োগমুখী প্রবৃদ্ধির মাধ্যমেই নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব, যা বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান দাবি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন কর্মপরিকল্পনা দেশের আর্থিক খাতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।