জাতীয় রাজনীতির সকল খবর ছাপিয়ে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) গোটা রাত আলোচনা আর আশঙ্কা ছিলো নগর বাউল জেমসকে ঘিরে। আশঙ্কা দেশের শীর্ষ এই রকার নিরাপদ আছেন তো? আলোচনার কারণ, কেন এমনটা ঘটলো জেমসের কনসার্ট ঘিরে!
যারা এখনও খবরটি জানেন না, তাদের জন্য একটু বলে দরকার। ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনের (২৬ ডিসেম্বর) মূল চমক ছিলেন জেমস। দিন পেরিয়ে সন্ধ্যায় যখন স্কুলের হাজারো প্রাক্তন-বর্তমান শিক্ষার্থীরা অপেক্ষা করছিলেন, ঠিক তখনই শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। ইট-পাটকেলের বৃষ্টি নেমেছিলো যেন। অবশেষে ভেন্যু থেকে দ্রুত ফিরে যান জেমস ও তার দল। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে কনসার্ট স্থগিত করা হয়।
কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল কনসার্টস্থলে? কিংবা কেন এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলো? সেটির সঠিক উত্তর যেন মিলছিলো না। অবশেষে একই অনুষ্ঠানের মঞ্চে থাকা জনপ্রিয় সঞ্চালক শ্রাবণ্য তৌহিদাকে পাওয়া গেলো। কারণ, তিনি নিজেও এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সাক্ষী।
শ্রাবণ্য তৌহিদা ফরিদপুরের সেই অনুষ্ঠানস্থল থেকে ঢাকায় ফিরে জানালেন তার অভিজ্ঞতার কথা।
শ্রাবণ্য জানান, সন্ধ্যার পর। তখন মঞ্চে র্যাফেল ড্র চলছিল। এরপরই মূল চমক নগর বাউল জেমস গান পরিবেশনের কথা। এমন সময় হঠাৎ বৃষ্টির মতো পাথর ও ইট পড়তে শুরু করে স্টেজের দিকে।
ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে শ্রাবণ্য বলেন, ‘হঠাৎ একটি বড় পাথর ঠিক আমার সামনে এসে পড়ল। মুহূর্তের মধ্যে সব বদলে গেল। এক বুক আশা আর ভালোবাসা নিয়ে আসা মানুষের চোখেমুখে তখন শুধু আতঙ্ক।’
এই সঞ্চালক আরও জানান, ‘প্রায় ১৫ হাজার মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল আয়োজকরা। ইটের আঘাতে অনুষ্ঠানস্থলেই প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থীসহ অনেকে রক্তাক্ত হন। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা এমন পরিস্থিতির পর নিরাপত্তার স্বার্থে অনুষ্ঠানটি পণ্ড ঘোষণা করতে বাধ্য হন আয়োজকরা।’
উপস্থাপিকা আক্ষেপ করে বলেন, ‘শিল্পী হিসেবে তিনি এবং জেমস উভয়ই তাদের পারিশ্রমিক পেয়েছেন। কিন্তু যে মানসিক আঘাত এবং হাজারো মানুষের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে, তা কোনও টাকা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।’
এদিকে আয়োজক কমিটির সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র স্কুলের নিবন্ধিত প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রদের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু জেমসের কনসার্টের খবর শুনে হাজার হাজার অনিবন্ধিত বহিরাগত দর্শক স্কুলের সামনে ভিড় করে। তাদেরকে ভেতরে ঢুকতে না দেওয়ায় তারা স্কুল প্রাঙ্গণ ও মঞ্চ লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে আয়োজক কমিটির আহ্বায়কসহ অন্তত ২৫-৩০ জন আহত হন।
অন্যদিকে জেমস মুখপাত্র রুবাইয়াৎ ঠাকুর রবিন শনিবার সকালে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শুক্রবার রাতে যখন এই ভয়ংকর ঘটনাটি ঘটছিলো, তখন তারা অবস্থান করছিলেন ফরিদপুর নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের গেস্ট হাউসে। তারা তখন প্রস্তুত হচ্ছিলেন অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার জন্য। এরমধ্যেই খবর আসে অস্থিরতার। পরে অনুষ্ঠান বাতিলের। রবিনের ভাষ্যে, ‘ঘটনাটি আরেকটু পরে হলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারতাম। এই যাত্রায় আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন।’
শুক্রবার রাতেই জেমস ও তার দল ঢাকায় ফিরে আসেন।
রিপোর্টারের নাম 

























