ইসরায়েলের জনপ্রিয় রাষ্ট্রীয় রেডিও স্টেশন ‘আর্মি রেডিও’ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির মন্ত্রিসভা। সোমবার এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট সরকার। সমালোচকদের মতে, এটি ইসরায়েলের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর আরেকটি আঘাত। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ প্রস্তাব দিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের ১ মার্চের মধ্যে আর্মি রেডিওর সম্প্রচার বন্ধ করা হবে। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষ চরিত্র রক্ষা করা।
কাৎজ বলেন, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শুরুর দিক থেকে সম্প্রচার শুরু করা এই রেডিওটির মূল লক্ষ্য ছিল সেনাসদস্যদের জন্য অনুষ্ঠান প্রচার। তবে সময়ের সঙ্গে এটি এমন মতামতের মঞ্চে পরিণত হয়েছে, যা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এবং সেনাদের সমালোচনা করে।
আর্মি রেডিও ইসরায়েলের দুটি রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত সংবাদমাধ্যমের একটি। অন্যটি হলো পাবলিক ব্রডকাস্টার কেএএন। এর অধীনে একটি টেলিভিশন সংবাদ চ্যানেল, একাধিক রেডিও স্টেশন এবং জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। দুটি মাধ্যমই সম্পাদকীয়ভাবে স্বাধীন।
কাৎজ বলেন, সেনাবাহিনী পরিচালিত কোনও রেডিও স্টেশনের বেসামরিক শ্রোতাদের জন্য সম্প্রচার করা কোনও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, আমার মনে হয় এটি উত্তর কোরিয়ায় আছে, হয়তো আরও কয়েকটি দেশে। আমরা নিশ্চয়ই তাদের কাতারে থাকতে চাই না।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা। ইসরায়েলি ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টসের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত আনাত সারাগুস্তি বলেন, তারা অনুগত গণমাধ্যম চায়, সমালোচনামূলক গণমাধ্যম নয়।
দুর্নীতিবিরোধী স্বাধীন সংগঠন ‘মুভমেন্ট ফর কোয়ালিটি গভর্নমেন্ট ইন ইসরায়েল’ জানিয়েছে, তারা সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে। একই সঙ্গে অরাজনৈতিক গবেষণা সংস্থা ইসরায়েল ডেমোক্র্যাসি ইনস্টিটিউট (আইডিআই) বলেছে, আর্মি রেডিও বন্ধ হলে কার্যত ইসরায়েলের স্বাধীন সরকারি সংবাদ সম্প্রচারের অর্ধেক নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এমন বড় সিদ্ধান্ত সংসদে আলোচনার মাধ্যমে নেওয়া উচিত বলে মনে করে সংস্থাটি।
আইডিআই এক বিবৃতিতে বলেছে, কোনও সরকারি গণমাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্ত বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি ইসরায়েলি গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করার একটি বিস্তৃত ও উদ্বেগজনক ধারার অংশ।
নেতানিয়াহু সরকারের আরও পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে হলে গণমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সুযোগ রেখে জরুরি আইনের মেয়াদ বাড়ানো এবং পুরো ইসরায়েলি গণমাধ্যম খাতে ব্যাপক সংস্কার। এই আইন ব্যবহার করেই গাজা যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 























