ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরে অভিযান চালিয়ে একটি আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। সোমবার পূর্ব জেরুজালেমে এ অভিযানে স্টান গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, জেরুজালেমে বাস্তুচ্যুতি বাড়াতে এটি ইসরায়েলের চলমান অভিযানের অংশ, এর লক্ষ্য ফিলিস্তিনিদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সিলওয়ান এলাকার ওয়াদি কাদ্দুম মহল্লায় চারতলা একটি আবাসিক ভবন ভেঙে ফেলে ইসরায়েলি বুলডোজার। ভবনটিতে ১৩টি অ্যাপার্টমেন্ট ছিল। এতে বহু ফিলিস্তিনি গৃহহীন হন। মানবাধিকারকর্মীরা এটিকে চলতি বছরের ওই এলাকার সবচেয়ে বড় ভাঙচুর বলে উল্লেখ করেছেন।
অভিযানের সময় তিনটি বুলডোজার দিয়ে ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আশপাশের সড়ক ঘিরে ফেলে ইসরায়েলি বাহিনী, এলাকায় ভারী উপস্থিতি দেখা যায় এবং পাশের ভবনগুলোর ছাদে নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়। এ সময় এক যুবক ও এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া নির্মাণের অভিযোগে ভাঙচুরের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে ফিলিস্তিনি কর্মীরা বলছেন, ইসরায়েলের কঠোর পরিকল্পনা নীতির কারণে ফিলিস্তিনিদের জন্য ভবন নির্মাণের অনুমতি পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। এই নীতি ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি ধারাবাহিক কৌশল।
এদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা সম্প্রতি পশ্চিম তীরে ১৯টি নতুন বসতি স্বীকৃতি দিয়েছে। এতে চলতি বছর অনুমোদিত বসতির সংখ্যা দাঁড়াল ৬৯–এ। সরকার বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ–সংশ্লিষ্ট জেরুজালেম গভর্নরেট ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ধ্বংসযজ্ঞ ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং শহরটিকে এর মূল অধিবাসীদের থেকে শূন্য করার একটি পরিকল্পিত নীতির অংশ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যে ভাঙচুরের ফলে মানুষ ঘরছাড়া হয়, তা দখলদারিত্বের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা, এর লক্ষ্য ভূমির মালিকদের জায়গায় বসতি স্থাপনকারীদের বসানো।
রিপোর্টারের নাম 























