যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা বলছেন, মিয়ামিতে তিন দিনের আলোচনা ছিল গঠনমূলক। তবে রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টায় এখনও কোনও বড় অগ্রগতি হয়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানান। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনায় ২০ দফা পরিকল্পনা, বহুপক্ষীয় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা কাঠামো, ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা কাঠামো এবং একটি অর্থনীতি ও সমৃদ্ধি পরিকল্পনা নিয়ে অবস্থান সমন্বয়ের চেষ্টা হয়েছে।
একই সময়ে মিয়ামিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যেও আলাদা আলোচনা হয়েছে। সেখানে রাশিয়ার দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ অংশ নেন।
যৌথ বিবৃতিতে উইটকফ ও উমেরভ বলেন, তাদের অভিন্ন অগ্রাধিকার হলো হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করা, নিশ্চিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইউক্রেনের পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির জন্য পরিবেশ তৈরি করা।
গত কয়েক সপ্তাহে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনার খসড়া ফাঁস হওয়ার পর এ তৎপরতা জোরদার হয়। ওই খসড়া ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের বিস্মিত করে, কারণ এতে রাশিয়ার প্রতি পক্ষপাতের ইঙ্গিত ছিল।
উইটকফ জানান, দক্ষিণ ফ্লোরিডায় তিনি ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে রুশ প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও উপস্থিত ছিলেন। উইটকফ বলেন, দিমিত্রিয়েভের সঙ্গে আলোচনাও গঠনমূলক ছিল এবং রাশিয়া ইউক্রেনে শান্তি অর্জনে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।
যুদ্ধ বন্ধে চুক্তিতে পৌঁছাতে ট্রাম্প ইউক্রেন ও রাশিয়ার ওপর চাপ দিচ্ছেন। তবে মস্কো দখল করা ভূখণ্ড নিজেদের কাছে রাখার দাবিসহ বড় ইস্যুতে দুই দেশ এখনও একমত হতে পারেনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখনও পুরো ইউক্রেন দখল করতে চান এবং সাবেক সোভিয়েত সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ইউরোপের কিছু অংশ পুনর্দখলের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। এ বিষয়ে অবগত ছয়টি সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে পুতিন বিবিসির স্টিভ রোজেনবার্গকে বলেন, রাশিয়াকে সম্মান দেখানো হলে ইউক্রেনের পর আর কোনও যুদ্ধ হবে না। তিনি বলেন, আপনি যদি আমাদের সম্মান করেন, আমাদের স্বার্থকে সম্মান করেন, তাহলে আর কোনও অভিযান হবে না।
এর মধ্যে ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলে দুটি জাহাজ ও দুটি পিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সোমবার রুশ কর্মকর্তারা জানান। এতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, সব নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল তেল অবকাঠামো।
রিপোর্টারের নাম 























