ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় বসছে কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৪:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

আগামী বুধবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। সীমান্তে টানা তৃতীয় সপ্তাহে সংঘর্ষ চলার মধ্যে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল নিয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠক, জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) কুয়ালালামপুরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানে’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

বৈঠকের লক্ষ্য ছিল গত জুলাইয়ে সংঘর্ষের পর মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি আবার কার্যকর করা।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও জানান, দুই দেশ তাদের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামো জেনারেল বর্ডার কমিটির মাধ্যমে আলোচনা করবে। থাইল্যান্ড প্রস্তাব করেছে, বৈঠকটি সীমান্তবর্তী থাইল্যান্ডের চান্থাবুরি প্রদেশে অনুষ্ঠিত হোক।

তিনি বলেন, থাইল্যান্ড একটি প্রকৃত যুদ্ধবিরতি চায়, যেখানে কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার ও বাস্তবায়নের স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় মাইন অপসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এদিকে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, থাইল্যান্ড তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে আরও ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ চালিয়েছে এবং তারা যেকোনও মূল্যে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করবে।

গত দুই সপ্তাহের তীব্র লড়াইয়ে অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছে এবং শুরুতে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন আলাদাভাবে কূটনৈতিক চেষ্টা চালালেও এখনও সাফল্যের ইঙ্গিত নেই। থাইল্যান্ড জানিয়েছে, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র বা চীন জড়িত নয়—এটি দুই দেশের নিজস্ব উদ্যোগ।

ব্যাংকক ও নম পেন একে অপরকে আগ্রাসনের জন্য দায়ী করছে। অক্টোবরে মালয়েশিয়ায় ট্রাম্পের উপস্থিতিতে দুই দেশ যে যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি হয়েছিল তা ভেঙে পড়ার জন্য উভয় পক্ষই পরস্পরকে দোষারোপ করছে।

দুই দেশের ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে—লাওস সংলগ্ন বনাঞ্চল থেকে উপকূলীয় প্রদেশ পর্যন্ত—বিভিন্ন স্থানে গোলাগুলি হয়েছে। সোমবারও নতুন করে সংঘর্ষের খবর এসেছে।

গত ৮ ডিসেম্বর থেকে নতুন করে সংঘর্ষ শুরুর পর এটিই দুই সরকারের প্রথম সরাসরি বৈঠক। বৈঠকের সূচনায় মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আসিয়ানকে প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে হবে। উত্তেজনা কমানোই শেষ লক্ষ্য নয়; মতপার্থক্য সত্ত্বেও আস্থা গড়ে তোলা ও সংলাপের পথ তৈরি করতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের বিমা সুবিধা দিতে ন্যাশনাল ব্যাংক ও ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চুক্তি

যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় বসছে কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড

আপডেট সময় : ০৪:১৪:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

আগামী বুধবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। সীমান্তে টানা তৃতীয় সপ্তাহে সংঘর্ষ চলার মধ্যে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল নিয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠক, জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) কুয়ালালামপুরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানে’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

বৈঠকের লক্ষ্য ছিল গত জুলাইয়ে সংঘর্ষের পর মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি আবার কার্যকর করা।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও জানান, দুই দেশ তাদের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামো জেনারেল বর্ডার কমিটির মাধ্যমে আলোচনা করবে। থাইল্যান্ড প্রস্তাব করেছে, বৈঠকটি সীমান্তবর্তী থাইল্যান্ডের চান্থাবুরি প্রদেশে অনুষ্ঠিত হোক।

তিনি বলেন, থাইল্যান্ড একটি প্রকৃত যুদ্ধবিরতি চায়, যেখানে কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার ও বাস্তবায়নের স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় মাইন অপসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এদিকে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, থাইল্যান্ড তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে আরও ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ চালিয়েছে এবং তারা যেকোনও মূল্যে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করবে।

গত দুই সপ্তাহের তীব্র লড়াইয়ে অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছে এবং শুরুতে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন আলাদাভাবে কূটনৈতিক চেষ্টা চালালেও এখনও সাফল্যের ইঙ্গিত নেই। থাইল্যান্ড জানিয়েছে, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র বা চীন জড়িত নয়—এটি দুই দেশের নিজস্ব উদ্যোগ।

ব্যাংকক ও নম পেন একে অপরকে আগ্রাসনের জন্য দায়ী করছে। অক্টোবরে মালয়েশিয়ায় ট্রাম্পের উপস্থিতিতে দুই দেশ যে যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি হয়েছিল তা ভেঙে পড়ার জন্য উভয় পক্ষই পরস্পরকে দোষারোপ করছে।

দুই দেশের ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে—লাওস সংলগ্ন বনাঞ্চল থেকে উপকূলীয় প্রদেশ পর্যন্ত—বিভিন্ন স্থানে গোলাগুলি হয়েছে। সোমবারও নতুন করে সংঘর্ষের খবর এসেছে।

গত ৮ ডিসেম্বর থেকে নতুন করে সংঘর্ষ শুরুর পর এটিই দুই সরকারের প্রথম সরাসরি বৈঠক। বৈঠকের সূচনায় মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আসিয়ানকে প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে হবে। উত্তেজনা কমানোই শেষ লক্ষ্য নয়; মতপার্থক্য সত্ত্বেও আস্থা গড়ে তোলা ও সংলাপের পথ তৈরি করতে হবে।