দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত ও কারাবন্দি মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বাকি সাজা বাড়িতে থেকে ভোগ করার আবেদন নাকচ করেছে দেশটির একটি আদালত। সোমবার কুয়ালালামপুর আদালত জানিয়েছে, এ ধরনের সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা রাজকীয় নথিটি আইনগতভাবে বৈধ নয়। কুয়ালালামপুর হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত নাজিবের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ১এমডিবি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার দায়ে তিনি ২০২২ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। ১এমডিবি কেলেঙ্কারি বলতে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে বিপুল অর্থ লুট ও পাচারকে বুঝানো হয়েছে।
তবে নাজিবের ১২ বছরের কারাদণ্ড গত বছর দেশের তৎকালীন রাজার নেতৃত্বাধীন ক্ষমা বোর্ড অর্ধেকে নামিয়ে আনে।
৭২ বছর বয়সি নাজিবের দাবি, রাজার ওই ‘অ্যাডেনডাম আদেশ’ অনুযায়ী তিনি তার অবশিষ্ট সাজা বাড়িতে থেকে (গৃহবন্দিত্বে) ভোগ করার অধিকারী।
মালয়েশিয়ায় রাজা মূলত আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করেন, তবে ফেডারেল সংবিধান অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্তদের ক্ষমা করার ক্ষমতা তার রয়েছে।
ক্ষমা বোর্ডের সদস্যসহ সরকারি কর্মকর্তারা মাসের পর মাস ওই নথির অস্তিত্ব অস্বীকার করে আসছেন। যদিও চলতি বছর সাবেক রাজার দপ্তর ও একজন ফেডারেল আইনজীবী নিশ্চিত করেন যে রাজকীয় নথিটি জারি করা হয়েছিল।
তবে কুয়ালালামপুর হাইকোর্ট জানায়, নথিটির অস্তিত্ব নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই। তবে সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয়ভাবে ক্ষমা বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া আদেশটি জারি হওয়ায় এটি আইনগতভাবে কার্যকরযোগ্য নয়।
বিচারক অ্যালিস লোক বলেন, রাজাদের ক্ষমা দেওয়ার ক্ষমতা থাকলেও তা সীমাহীন নয়।
তিনি বলেন, ‘অ্যাডেনডাম আদেশটি ক্ষমা বোর্ডের বৈঠকে আলোচিত বা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। ফলে এটি বৈধ আদেশ নয়।’
রায়ের পরপরই নাজিবের আইনজীবী মুহাম্মদ শাফি আবদুল্লাহ জানান, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
সোমবারের এই সিদ্ধান্ত আসে ১এমডিবি কেলেঙ্কারি-সংক্রান্ত নাজিবের সবচেয়ে বড় মামলার রায়ের মাত্র চার দিন আগে। ২০০৯ সালে তিনি রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল ১এমডিবি সহ-প্রতিষ্ঠা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বলছেন, ১এমডিবি থেকে অন্তত ৪.৫ বিলিয়ন ডলার তছরুপ হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি নাজিবের মালিকানাধীন ব্যাংকে গেছে।
২০২০ সালে ১এমডিবির একটি ইউনিট থেকে অর্থ গ্রহণের ঘটনায় দুর্নীতি ও অর্থপাচারের দায়ে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। সব আপিল খারিজ হওয়ার পর ২০২২ সালে তিনি কারাগারে যান। মালয়েশিয়ার ইতিহাসে তিনিই প্রথম কোনও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডিনি কারাভোগ করছেন।
২০১৮ সালে ক্ষমতা হারানো নাজিব সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, পলাতক অর্থলগ্নিকারী জো লোসহ ১এমডিবির অন্য কর্মকর্তারা তাকে অর্থের উৎস সম্পর্কে বিভ্রান্ত করেছিলেন।
আগামী ২৬ ডিসেম্বর আদালত সিদ্ধান্ত দেবে—১এমডিবি থেকে অবৈধভাবে প্রায় ২.২ বিলিয়ন রিঙ্গিত (৫৩৮.৬৯ মিলিয়ন ডলার) স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত দুর্নীতির চারটি ও অর্থপাচারের ২১টি অতিরিক্ত অভিযোগে নাজিব দোষী কি না। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছর কারাদণ্ড এবং তছরুপের অঙ্কের পাঁচ গুণ পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে পারেন তিনি।
এই দুটি রায়ই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























