ঢাকা ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

গাজায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি নেই, তবে সংকট এখনও চরমে: জাতিসংঘ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৫:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

গাজায় গত আগস্টে ঘোষিত দুর্ভিক্ষ এখন আর নেই। মানবিক সহায়তার প্রবেশ কিছুটা বাড়ায় এই অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে একই সঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ডে খাদ্য পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত ভয়াবহ। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

শুক্রবার জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার জনসংখ্যার ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছে। শীতকালীন বন্যায় খাদ্যসংকট আরও বেড়েছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় হাইপোথারমিয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতিতে পণ্য ও ত্রাণ সরবরাহে কিছুটা শিথিলতা এসেছে। তবে জাতিসংঘের মতে, সহায়তার প্রবাহ প্রতিদিনই ওঠানামা করছে এবং পুরো গাজায় সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না।

জাতিসংঘের নিয়োজিত পর্যবেক্ষক জোট ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি) জানিয়েছে, বর্তমানে গাজার কোনও এলাকাই দুর্ভিক্ষ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ নয়। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে, পরিস্থিতি এখনও সংকটাপন্ন; পুরো গাজা স্ট্রিপ জরুরি অবস্থার মধ্যে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতিতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল হামলার পর শুরু হওয়া দুই বছরের সংঘাত থেমেছে। কিন্তু চুক্তিটি ভঙ্গুর। প্রায় প্রতিদিনই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে ইসরায়েল ও হামাস।

আইপিসি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর ২০২৫ সালের বিশ্লেষণের তুলনায় খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টিতে কিছু উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ওই বিশ্লেষণেই দুর্ভিক্ষ শনাক্ত হয়েছিল। তবে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ এখনও সংকট পর্যায়ের খাদ্য অনিশ্চয়তার মুখে থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আইপিসির সতর্কতা অনুযায়ী, যদি আবার সংঘর্ষ শুরু হয় এবং মানবিক ও বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়, তবে উত্তর গাজা, গাজা গভর্নরেট, দেইর আলবালাহ ও খান ইউনিসে আবারও দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

গত আগস্টে গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণাকে মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছিল জাতিসংঘ। এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আইপিসির প্রতিবেদনকে স্পষ্ট মিথ্যা বলে আখ্যা দেন।

শুক্রবার ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওরেন মারমরস্টেইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, অপ্রতিরোধ্য ও সুস্পষ্ট প্রমাণের মুখে আইপিসিকেও স্বীকার করতে হয়েছে যে গাজায় দুর্ভিক্ষ নেই। তবে তিনি অভিযোগ করেন, আইপিসি সহায়তা পরিস্থিতি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে এবং মূলত জাতিসংঘের ট্রাকের তথ্যের ওপর নির্ভর করছে, যা মোট সহায়তা ট্রাকের মাত্র ২০ শতাংশ।

অন্যদিকে, অক্সফাম জানিয়েছে, দুর্ভিক্ষ শেষ হলেও গাজায় ক্ষুধার মাত্রা এখনও ভয়াবহ ও প্রতিরোধযোগ্য। সংস্থাটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বহু প্রতিষ্ঠিত মানবিক সংস্থার সহায়তা অনুরোধ আটকে দেওয়ার অভিযোগ করেছে।

অক্সফাম ফ্রান্সের ক্যাম্পেইন ও অ্যাডভোকেসি পরিচালক নিকোলা ভারকেন এক বিবৃতিতে বলেন, অক্সফামের ২৫ লাখ ডলারের সহায়তা সীমান্তের ওপারে গুদামে পড়ে আছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সবই প্রত্যাখ্যান করছে।

আইপিসি আরও জানিয়েছে, গাজার মানুষের জন্য শুধু ক্ষুধাই সমস্যা নয়। পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ মারাত্মকভাবে সীমিত। খোলা স্থানে মলত্যাগ ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গাজা স্ট্রিপের ৯৬ শতাংশের বেশি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত, ব্যবহার অনুপযোগী বা উভয়ই। পাশাপাশি গবাদিপশুর বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ওয়াসা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি: সভাপতি মনিরুজ্জামান, সম্পাদক নূর

গাজায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি নেই, তবে সংকট এখনও চরমে: জাতিসংঘ

আপডেট সময় : ১০:৪৫:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

গাজায় গত আগস্টে ঘোষিত দুর্ভিক্ষ এখন আর নেই। মানবিক সহায়তার প্রবেশ কিছুটা বাড়ায় এই অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে একই সঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ডে খাদ্য পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত ভয়াবহ। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

শুক্রবার জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার জনসংখ্যার ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছে। শীতকালীন বন্যায় খাদ্যসংকট আরও বেড়েছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় হাইপোথারমিয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতিতে পণ্য ও ত্রাণ সরবরাহে কিছুটা শিথিলতা এসেছে। তবে জাতিসংঘের মতে, সহায়তার প্রবাহ প্রতিদিনই ওঠানামা করছে এবং পুরো গাজায় সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না।

জাতিসংঘের নিয়োজিত পর্যবেক্ষক জোট ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি) জানিয়েছে, বর্তমানে গাজার কোনও এলাকাই দুর্ভিক্ষ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ নয়। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে, পরিস্থিতি এখনও সংকটাপন্ন; পুরো গাজা স্ট্রিপ জরুরি অবস্থার মধ্যে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতিতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল হামলার পর শুরু হওয়া দুই বছরের সংঘাত থেমেছে। কিন্তু চুক্তিটি ভঙ্গুর। প্রায় প্রতিদিনই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে ইসরায়েল ও হামাস।

আইপিসি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর ২০২৫ সালের বিশ্লেষণের তুলনায় খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টিতে কিছু উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ওই বিশ্লেষণেই দুর্ভিক্ষ শনাক্ত হয়েছিল। তবে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ এখনও সংকট পর্যায়ের খাদ্য অনিশ্চয়তার মুখে থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আইপিসির সতর্কতা অনুযায়ী, যদি আবার সংঘর্ষ শুরু হয় এবং মানবিক ও বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়, তবে উত্তর গাজা, গাজা গভর্নরেট, দেইর আলবালাহ ও খান ইউনিসে আবারও দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

গত আগস্টে গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণাকে মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছিল জাতিসংঘ। এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আইপিসির প্রতিবেদনকে স্পষ্ট মিথ্যা বলে আখ্যা দেন।

শুক্রবার ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওরেন মারমরস্টেইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, অপ্রতিরোধ্য ও সুস্পষ্ট প্রমাণের মুখে আইপিসিকেও স্বীকার করতে হয়েছে যে গাজায় দুর্ভিক্ষ নেই। তবে তিনি অভিযোগ করেন, আইপিসি সহায়তা পরিস্থিতি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে এবং মূলত জাতিসংঘের ট্রাকের তথ্যের ওপর নির্ভর করছে, যা মোট সহায়তা ট্রাকের মাত্র ২০ শতাংশ।

অন্যদিকে, অক্সফাম জানিয়েছে, দুর্ভিক্ষ শেষ হলেও গাজায় ক্ষুধার মাত্রা এখনও ভয়াবহ ও প্রতিরোধযোগ্য। সংস্থাটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বহু প্রতিষ্ঠিত মানবিক সংস্থার সহায়তা অনুরোধ আটকে দেওয়ার অভিযোগ করেছে।

অক্সফাম ফ্রান্সের ক্যাম্পেইন ও অ্যাডভোকেসি পরিচালক নিকোলা ভারকেন এক বিবৃতিতে বলেন, অক্সফামের ২৫ লাখ ডলারের সহায়তা সীমান্তের ওপারে গুদামে পড়ে আছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সবই প্রত্যাখ্যান করছে।

আইপিসি আরও জানিয়েছে, গাজার মানুষের জন্য শুধু ক্ষুধাই সমস্যা নয়। পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ মারাত্মকভাবে সীমিত। খোলা স্থানে মলত্যাগ ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গাজা স্ট্রিপের ৯৬ শতাংশের বেশি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত, ব্যবহার অনুপযোগী বা উভয়ই। পাশাপাশি গবাদিপশুর বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।