যুক্তরাষ্ট্রে গাঁজা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বিধিনিষেধ শিথিল করার লক্ষ্যে এক নির্বাহী আদেশে সই করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবারের এই পদক্ষেপকে দেশটির কয়েক দশকের কঠোর মাদকবিরোধী নীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্পের এই আদেশে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলকে দ্রুত গাঁজার শ্রেণিবিভাগ পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে গাঁজা এখন থেকে হেরোইন বা এক্সট্যাসির মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ মাদকের তালিকা থেকে বেরিয়ে সাধারণ পেইনকিলার, কেটামিন বা টেস্টোস্টেরনের মতো কম বিপজ্জনক ওষুধের তালিকায় (শিডিউল–৩) অন্তর্ভুক্ত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত মার্কিন গাঁজা শিল্পে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে। এর ফলে চিকিৎসা গবেষণায় শত কোটি ডলারের তহবিল বরাদ্দ হবে এবং দীর্ঘদিনের বন্ধ থাকা ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীদের দরজা এই খাতের জন্য উন্মুক্ত হতে পারে। গাঁজা কোম্পানি অরগানোগ্রাম গ্লোবাল–এর একজন মুখপাত্র একে বিশ্বজুড়ে গাঁজার প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে অভিহিত করেছেন।
হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, বহু মানুষ দশকের পর দশক ধরে অসহ্য যন্ত্রণায় ভুগছেন এবং এই পরিবর্তনের জন্য অনুরোধ করছেন। অনেকে এটি চান এবং অনেকের এটি প্রয়োজন।
ব্যক্তিগতভাবে মাদক থেকে দূরে থাকা ট্রাম্প আরও বলেন, আমি নিজে এটি ব্যবহার করব না, তবে অনেকের জন্য এটি জরুরি।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সিনেটের ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার। তবে ট্রাম্পের নিজস্ব দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই দেখা দিয়েছে তীব্র বিরোধিতা। কয়েক ডজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এই আদেশে সই না করতে ট্রাম্পকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। তাদের দাবি, গাঁজাকে কম ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলে তা শিশুদের কাছে ভুল বার্তা দেবে, মাদক কারবারিদের উৎসাহিত করবে এবং সড়ক দুর্ঘটনা বাড়িয়ে দেবে।
এই ঘোষণার পর পুঁজিবাজারে গাঁজা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে। লেনদেনের শুরুতে তিলরে, অরোরা ক্যানাবিস এবং ক্যানোপি গ্রোথ–এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম ৬ থেকে ১২ শতাংশ বাড়লেও দিনশেষে তা ৩ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের ধারণা ছিল, এই আদেশে ব্যাংকিং সুবিধার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হবে, যা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাজারে হতাশা তৈরি হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) অনুযায়ী, প্রতি পাঁচজন মার্কিনির মধ্যে একজন বছরে অন্তত একবার গাঁজা সেবন করেন। বর্তমানে এটি ফেডারেল পর্যায়ে অবৈধ হলেও ক্যালিফোর্নিয়া ১৯৯৬ সালে প্রথম চিকিৎসার জন্য এর ব্যবহারের অনুমতি দেয়। এরপর থেকে গত ৩০ বছরে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গাঁজা সংক্রান্ত আইন শিথিল হওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের আগে জো বাইডেন প্রশাসনও গাঁজা সেবনের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের ক্ষমা ঘোষণা এবং এর আইনি অবস্থান পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে নতুন এই আদেশের পরও ফেডারেল পর্যায়ে গাঁজা পুরোপুরি বৈধ হচ্ছে না এবং এটি বিধিনিষেধের মধ্যেই থাকছে।
রিপোর্টারের নাম 























