ঢাকা ০৪:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় ইহুদি উৎসবে হামলা: বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দমনে আসছে আইন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

অস্ট্রেলিয়ায় বাকস্বাধীনতার নামে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার আর মেনে নেবে না দেশটির সরকার। ইহুদি উৎসবে দুই মুসলিম ব্যক্তির বন্দুক হামলার প্রতিক্রিয়ায় ঘৃণা ছড়ানো ঠেকাতে জারি হবে কঠোর ব্যবস্থা। ক্যানবেরায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এ কথা জানিয়েছেন।

রবিবার ধর্মীয় উৎসব হানুকার প্রথম দিনে ওই হামলায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন।

অ্যালবানিজ বলেন, যারা ঘৃণা, বিভাজন ও উগ্রপন্থা ছড়ায়, তাদের লক্ষ্য নতুন আইন প্রণয়ন হবে।

তিনি জানান, বিদ্বেষ ছড়ানো অভিবাসীদের ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় “ইহুদিবিদ্বেষ প্রতিরোধ, মোকাবিলা ও সঠিক প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে” একটি নতুন টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।

আলবানিজ বলেন, প্রতিটি ইহুদি অস্ট্রেলিয়ানের অধিকার আছে নিরাপদ অনুভব করার এবং এই মহান জাতিতে তাদের অবদানের জন্য সম্মান পাওয়ার।

নতুন আইন অনুযায়ী, সহিংসতা উসকে দেওয়া ধর্মীয় বয়ানকারীদের ওপর শাস্তি আরোপ করতে “অ্যাগ্রাভেটেড হেইট স্পিচ” নামে একটি ফেডারেল অপরাধ তালিকাভুক্ত করা হবে এবং অনলাইনে হুমকি ও হয়রানির ক্ষেত্রে সাজা নির্ধারণে “ঘৃণা”–কে বাড়তি গুরুতর উপাদান হিসেবে যুক্ত করবে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, কিছু ব্যক্তি বাকস্বাধীনতার নীতি ব্যবহার করে সীমালঙ্ঘন করছে—যা স্পষ্টতই অগ্রহণযোগ্য। অস্ট্রেলিয়ায় এর স্থান নেই।

অ্যালবানিজ বলেন, আইএস অনুপ্রাণিত সন্ত্রাসীরা অস্ট্রেলীয়দের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে চেয়েছিল। তারা সেই ঘৃণার জবাব দিয়েছে ভালোবাসা ও সহানুভূতির মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই মাসে ইহুদিবিদ্বেষ সম্পর্কিত প্রতিনিধি জিলিয়ান সেগালের প্রতিবেদনে দেওয়া সুপারিশগুলো “সম্পূর্ণ সমর্থন ও গ্রহণ” করবে সরকার। অ্যালবানিজের ওই সংবাদ সম্মেলনে সেগালও বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া শুধু নিজেদের কমিউনিটির জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলার ক্ষেত্রেও, অত্যন্ত সংকটময় এক মুহূর্তে রয়েছে।

তবে তার প্রতিবেদন প্রকাশের সময় বাকস্বাধীনতার ওপর প্রভাব নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল—বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প-সংস্থাগুলো পর্যবেক্ষণ এবং ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় ব্যর্থ হলে অর্থায়ন বন্ধ করার পরিকল্পনার কারণে। সমালোচকরা সতর্ক করেন, এমন ব্যবস্থা ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ দমনে ব্যবহার হতে পারে।

এদিকে, ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অনুপ্রবেশ করে হামাসের হামলার পর থেকে ইহুদিবিদ্বেষ ঠেকাতে সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি বলে অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রতি ইহুদি সম্প্রদায়ের অভিযোগ রয়েছে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন অ্যালবানিজ।

তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার দায় মেনে নিচ্ছি। তবে আমি জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার এবং ঐক্যবদ্ধ রাখতেও দায়বদ্ধ। এই সময়ে মানুষ আরও বিভাজন চায় না।

সূত্র: বিবিসি

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পোরশা উপজেলা প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি রাশেদ, সম্পাদক শহিদুল

অস্ট্রেলিয়ায় ইহুদি উৎসবে হামলা: বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দমনে আসছে আইন

আপডেট সময় : ১২:২৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

অস্ট্রেলিয়ায় বাকস্বাধীনতার নামে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার আর মেনে নেবে না দেশটির সরকার। ইহুদি উৎসবে দুই মুসলিম ব্যক্তির বন্দুক হামলার প্রতিক্রিয়ায় ঘৃণা ছড়ানো ঠেকাতে জারি হবে কঠোর ব্যবস্থা। ক্যানবেরায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এ কথা জানিয়েছেন।

রবিবার ধর্মীয় উৎসব হানুকার প্রথম দিনে ওই হামলায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন।

অ্যালবানিজ বলেন, যারা ঘৃণা, বিভাজন ও উগ্রপন্থা ছড়ায়, তাদের লক্ষ্য নতুন আইন প্রণয়ন হবে।

তিনি জানান, বিদ্বেষ ছড়ানো অভিবাসীদের ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় “ইহুদিবিদ্বেষ প্রতিরোধ, মোকাবিলা ও সঠিক প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে” একটি নতুন টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।

আলবানিজ বলেন, প্রতিটি ইহুদি অস্ট্রেলিয়ানের অধিকার আছে নিরাপদ অনুভব করার এবং এই মহান জাতিতে তাদের অবদানের জন্য সম্মান পাওয়ার।

নতুন আইন অনুযায়ী, সহিংসতা উসকে দেওয়া ধর্মীয় বয়ানকারীদের ওপর শাস্তি আরোপ করতে “অ্যাগ্রাভেটেড হেইট স্পিচ” নামে একটি ফেডারেল অপরাধ তালিকাভুক্ত করা হবে এবং অনলাইনে হুমকি ও হয়রানির ক্ষেত্রে সাজা নির্ধারণে “ঘৃণা”–কে বাড়তি গুরুতর উপাদান হিসেবে যুক্ত করবে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, কিছু ব্যক্তি বাকস্বাধীনতার নীতি ব্যবহার করে সীমালঙ্ঘন করছে—যা স্পষ্টতই অগ্রহণযোগ্য। অস্ট্রেলিয়ায় এর স্থান নেই।

অ্যালবানিজ বলেন, আইএস অনুপ্রাণিত সন্ত্রাসীরা অস্ট্রেলীয়দের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে চেয়েছিল। তারা সেই ঘৃণার জবাব দিয়েছে ভালোবাসা ও সহানুভূতির মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই মাসে ইহুদিবিদ্বেষ সম্পর্কিত প্রতিনিধি জিলিয়ান সেগালের প্রতিবেদনে দেওয়া সুপারিশগুলো “সম্পূর্ণ সমর্থন ও গ্রহণ” করবে সরকার। অ্যালবানিজের ওই সংবাদ সম্মেলনে সেগালও বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া শুধু নিজেদের কমিউনিটির জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলার ক্ষেত্রেও, অত্যন্ত সংকটময় এক মুহূর্তে রয়েছে।

তবে তার প্রতিবেদন প্রকাশের সময় বাকস্বাধীনতার ওপর প্রভাব নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল—বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প-সংস্থাগুলো পর্যবেক্ষণ এবং ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় ব্যর্থ হলে অর্থায়ন বন্ধ করার পরিকল্পনার কারণে। সমালোচকরা সতর্ক করেন, এমন ব্যবস্থা ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ দমনে ব্যবহার হতে পারে।

এদিকে, ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অনুপ্রবেশ করে হামাসের হামলার পর থেকে ইহুদিবিদ্বেষ ঠেকাতে সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি বলে অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রতি ইহুদি সম্প্রদায়ের অভিযোগ রয়েছে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন অ্যালবানিজ।

তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার দায় মেনে নিচ্ছি। তবে আমি জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার এবং ঐক্যবদ্ধ রাখতেও দায়বদ্ধ। এই সময়ে মানুষ আরও বিভাজন চায় না।

সূত্র: বিবিসি