বছরের শেষ প্রান্তে এসে হোয়াইট হাউজ থেকে এক বিরল সন্ধ্যাকালীন ভাষণ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দেওয়া ওই ভাষণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে তুলাধুনা করেন এবং সব নিয়ন্ত্রণে স্বভাবসুলভ নিজের সাফল্যের ঢোল পেটান। অবশ্য, সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিনিদের সমর্থন কমছে।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, ১১ মাস আগে, আমি এক বিশৃঙ্খল অবস্থায় সব পেয়েছিলাম। এখন আমি সব ঠিক করছি।
চলতি বছর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অভিবাসী নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রব্যমূল্য কমানো থেকে শুরু করে প্রশাসনের উদ্যোগের সাফল্য নিয়ে ফিরিস্তি গাইতে থাকেন ট্রাম্প। সব কিছুর দাম এখনও বেশি স্বীকার করলেও, সব দোষ তিনি বাইডেনের কাঁধে চাপিয়ে দেন।
বাইডেনের চার বছরের সময়ে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ট্রাম্পকে গত বছরের নির্বাচনে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসকে পরাজিত করতে সহায়তা করে। তবে চলতি বছর ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কনীতি অর্থনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে এবং বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি ঘটিয়েছে। এমতাবস্থায়, বাইডেনের মতোই ট্রাম্প মার্কিনিদের বোঝাতে গলদঘর্ম হচ্ছেন যে, অর্থনীতি ভালো আছে।
তিনি বলেন, আমি ওই বেশি দাম কমাচ্ছি এবং খুব দ্রুততার সঙ্গে তা করছি।
অবশ্য, মঙ্গলবারের নতুন রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনিদের মাত্র ৩৩ শতাংশ মনে করেন যে অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্প ভালো কাজ করছেন।
এরমধ্যে, আগামী নভেম্বরের অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে চাইছে রিপাবলিকানরা। তবে ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে সাধারণ মার্কিনিদের উদ্বেগ এবং স্বাস্থ্যসেবা নীতিতে পরিবর্তনে জনগণের বিরক্তির সুযোগ নিয়ে ফায়দা লুটতে চাইছে ডেমোক্র্যাটরা।
বুধবার ভাষণের আগে, সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট, নিউ ইয়র্কের চাক শুমার অভিযোগ করেন যে ট্রাম্প তার নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। ক্যাপিটল হিলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তার প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল, গদিতে বসেই তিনি মূল্যের রাশ টেনে ধরবেন। সেটাই ছিল নির্বাচনে জেতার প্রধান কারণ। অথচ মানুষের ব্যয় এদিকে হু হু করে বেড়ে চলেছে।
সূত্র: রয়টার্স
রিপোর্টারের নাম 





















