দক্ষিণ–পশ্চিম চীনের ইয়ুননান প্রদেশে একটি নতুন প্রজাতির লাংফিশের ফসিল আবিষ্কার করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। মেরুদণ্ডী প্রাণীর বিবর্তন আরও ভালোভাবে বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে এই ফসিল।
নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতিটির নাম প্যালিওলোফাস ইউনানেনসিস। এটি প্রায় ৪১ কোটি বছর আগে প্রাথমিক ডেভোনিয়ান যুগে বাস করত।
চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের অধীন ইনস্টিটিউট অব ভার্টিব্রেট প্যালিওনটোলজি অ্যান্ড প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজি–এর গবেষকরা গবেষণাটি পরিচালনা করেন। ফলাফল প্রকাশ হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী কারেন্ট বায়োলজি–তে।
লাংফিশ প্রথম দেখা যায় প্রায় ৪০ কোটি বছর আগে ডেভোনিয়ান যুগে। এরা চার পা–ওয়ালা প্রাণী বা টেট্রাপডদের সবচেয়ে ‘কাছের আত্মীয়’। তাই এদের বিবর্তনের ইতিহাস বিজ্ঞানীদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণার নেতৃত্বে থাকা অধ্যাপক চু মিন জানান, ফসিলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি সবচেয়ে প্রাচীন লাংফিশ ডায়াবোলেপিস স্পেরাটাস এবং পরবর্তী উন্নত লাংফিশ প্রজাতিগুলোর মধ্যে একটি যোগসূত্র তৈরি করেছে।
ফসিলটিতে ২৫ মিলিমিটার লম্বা একটি খুলি পাওয়া গেছে, যা ভালোভাবে সংরক্ষিত ছিল। সিটি স্ক্যানে দেখা যায়, প্রজাতিটির মধ্যে পুরনো ও আধুনিক—দুই ধরনের বৈশিষ্ট্যই আছে। এর উপরের ঠোঁটে দাঁত ছিল, যা প্রাচীন লাংফিশে দেখা যায়। আবার আধুনিক লাংফিশের মতো কিছু উন্নত বৈশিষ্ট্যও এতে রয়েছে।
এটির নাকের গহ্বর বেশ বড় ছিল এবং চোয়ালের পেশি খুব শক্তিশালী ছিল। গবেষকদের ধারণা, এটি শক্ত খোলসযুক্ত প্রাণী খেত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এর চোয়াল ও মস্তিষ্কের খুলির সংযোগ আংশিকভাবে যুক্ত ছিল। এটি খুলির বিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনশীল ধাপকে বোঝায়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ডায়াবোলেপিস থেকে আধুনিক লাংফিশে রূপান্তর ঘটেছিল ৪০ লাখ বছরের মধ্যে।
এ ছাড়া, এই ফসিলের গঠন উত্তর আমেরিকার একই সময়কার লাংফিশের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তখন দক্ষিণ চীন ও উত্তর আমেরিকার ভূখণ্ড কাছাকাছি ছিল।
সূত্র: সিএমজি
রিপোর্টারের নাম 
























