ঢাকা ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

গ্রামীণ ব্যাংক ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে হামলার উসকানির অভিযোগ আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

সাংবাদিক আনিস আলমগীর গ্রামীণ ব্যাংক ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে হামলার উসকানি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানিকালে তিনি তার বক্তব্যের কথা স্বীকার করেন।

এদিন তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক মুনিরুজ্জামান। শুনানির পর আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, আনিস আলমগীর তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে কিছু পোস্ট দেন, যেখানে তিনি লিখেছেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রামীণ ব্যাংকে হামলা হবে। তিনি সরকারকে উৎখাত করার জন্য ও দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার জন্য নানারকম উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার। এসব বিষয়ে তার সঙ্গে আর কারা সম্পৃক্ত, তাদের উদ্দেশ্য কী—তা জানা একান্ত প্রয়োজন।

আসামিপক্ষের বক্তব্য

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী কামরুন্নাহার দীপু বলেন, তিনি টকশোতে গিয়ে এসব কথা বলেছেন। টকশোতে অনেক কথাই হয়, এগুলোর পেছনে উদ্দেশ্য থাকে না। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রেস সচিব তো বলেছেন, মন খুলে সমালোচনা করেন। তারা নির্ভীকভাবে মন্তব্য করেন। এটা চূড়ান্ত কিছু না। কথার জবাবে কথা দিয়ে দিতে হবে, এটাই গণতন্ত্রের মূল কথা।’ আইনজীবী দাবি করেন, আনিস আলমগীর চান জুলাই আন্দোলনের মূল স্পিরিট অনুযায়ী দেশে বাস্তবায়ন হোক, এর বাইরে তার কোনো উদ্দেশ্য নেই।

আদালতে আনিস আলমগীরের স্বীকারোক্তি

শুনানির একপর্যায়ে সাংবাদিক আনিস আলমগীর আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি একজন সাংবাদিক। আমি বিগত দুই দশক ধরে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করেছি। আমি খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সমালোচনা করেছি। আমি ইউনূস সরকারেরও সমালোচনা করি এবং ভবিষ্যতেও করব। তিনি বলেন, আমি টকশোতে যা বলেছি, প্রকাশ্যেই বলেছি। এখানে অপ্রকাশিত কিছু নেই।

গ্রামীণ ব্যাংক ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে হামলা হতে পারে এমন বক্তব্যের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন:

“আমি একটা প্রেক্ষাপটে একথা বলেছি, যখন ৩২ নম্বর ভেঙে দেওয়া হয়। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে চলে গেছি। আমি জুলাইয়ে শেখ হাসিনার পদত্যাগ চেয়েছিলাম। এখন আমার জুলাইয়ের চেতনা শুনতে হয়। গত ১৩ নভেম্বর অবরোধে আওয়ামী লীগের জ্বালাও পোড়াওয়ের প্রেক্ষিতে এসব কথা বলেছি। তারা এটা করতে পারলে পরে আরও কত কী করতে পারে। আমার এসব বক্তব্যের সঙ্গে কারও যোগসূত্র নাই। আসামিদের মধ্যে শাওন ছাড়া কাউকে চিনি না। এখন ড. ইউনূস যদি দেশকে কারাগার বা দোজখ বানাতে চায় বানাতে পারেন।”

গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসল বিষয় হলো দেশের বাইরে থেকে দুজন ইউটিউবার বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল ও নির্বাচনকে বানচালের জন্য কাজ করছে। তিনি একমাত্র ব্যক্তি যে টকশোতে এসব বলেছেন। তার ধারণা, এই দুই ব্যক্তি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে প্রভাবিত করেছে, আর সেই দল প্রধান উপদেষ্টাকে প্রভাবিত করেছে।

গ্রেপ্তার ও মামলা

এর আগে ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির ২ নম্বরের একটি জিম থেকে বের হওয়ার পর আনিস আলমগীরকে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবির কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

রাতেই আনিস আলমগীর, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মডেল মারিয়া কিসপট্টা ও উপস্থাপক ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ সহ চারজনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আসামিরা সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোতে বসে নিষিদ্ধ সংগঠনকে ফিরিয়ে আনার গুজব (প্রোপাগান্ডা) চালিয়ে আসছে। এর মাধ্যমে তারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পাঁয়তারা করছে। এসব পোস্টের ফলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা অনুপ্রাণিত হয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও অবকাঠামোকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈরুতে ভয়াবহ বিমান হামলা: ইসরাইলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে লেবাননের নালিশ

গ্রামীণ ব্যাংক ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে হামলার উসকানির অভিযোগ আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ১২:৩২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

সাংবাদিক আনিস আলমগীর গ্রামীণ ব্যাংক ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে হামলার উসকানি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানিকালে তিনি তার বক্তব্যের কথা স্বীকার করেন।

এদিন তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক মুনিরুজ্জামান। শুনানির পর আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, আনিস আলমগীর তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে কিছু পোস্ট দেন, যেখানে তিনি লিখেছেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রামীণ ব্যাংকে হামলা হবে। তিনি সরকারকে উৎখাত করার জন্য ও দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার জন্য নানারকম উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার। এসব বিষয়ে তার সঙ্গে আর কারা সম্পৃক্ত, তাদের উদ্দেশ্য কী—তা জানা একান্ত প্রয়োজন।

আসামিপক্ষের বক্তব্য

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী কামরুন্নাহার দীপু বলেন, তিনি টকশোতে গিয়ে এসব কথা বলেছেন। টকশোতে অনেক কথাই হয়, এগুলোর পেছনে উদ্দেশ্য থাকে না। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রেস সচিব তো বলেছেন, মন খুলে সমালোচনা করেন। তারা নির্ভীকভাবে মন্তব্য করেন। এটা চূড়ান্ত কিছু না। কথার জবাবে কথা দিয়ে দিতে হবে, এটাই গণতন্ত্রের মূল কথা।’ আইনজীবী দাবি করেন, আনিস আলমগীর চান জুলাই আন্দোলনের মূল স্পিরিট অনুযায়ী দেশে বাস্তবায়ন হোক, এর বাইরে তার কোনো উদ্দেশ্য নেই।

আদালতে আনিস আলমগীরের স্বীকারোক্তি

শুনানির একপর্যায়ে সাংবাদিক আনিস আলমগীর আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি একজন সাংবাদিক। আমি বিগত দুই দশক ধরে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করেছি। আমি খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সমালোচনা করেছি। আমি ইউনূস সরকারেরও সমালোচনা করি এবং ভবিষ্যতেও করব। তিনি বলেন, আমি টকশোতে যা বলেছি, প্রকাশ্যেই বলেছি। এখানে অপ্রকাশিত কিছু নেই।

গ্রামীণ ব্যাংক ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে হামলা হতে পারে এমন বক্তব্যের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন:

“আমি একটা প্রেক্ষাপটে একথা বলেছি, যখন ৩২ নম্বর ভেঙে দেওয়া হয়। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে চলে গেছি। আমি জুলাইয়ে শেখ হাসিনার পদত্যাগ চেয়েছিলাম। এখন আমার জুলাইয়ের চেতনা শুনতে হয়। গত ১৩ নভেম্বর অবরোধে আওয়ামী লীগের জ্বালাও পোড়াওয়ের প্রেক্ষিতে এসব কথা বলেছি। তারা এটা করতে পারলে পরে আরও কত কী করতে পারে। আমার এসব বক্তব্যের সঙ্গে কারও যোগসূত্র নাই। আসামিদের মধ্যে শাওন ছাড়া কাউকে চিনি না। এখন ড. ইউনূস যদি দেশকে কারাগার বা দোজখ বানাতে চায় বানাতে পারেন।”

গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসল বিষয় হলো দেশের বাইরে থেকে দুজন ইউটিউবার বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল ও নির্বাচনকে বানচালের জন্য কাজ করছে। তিনি একমাত্র ব্যক্তি যে টকশোতে এসব বলেছেন। তার ধারণা, এই দুই ব্যক্তি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে প্রভাবিত করেছে, আর সেই দল প্রধান উপদেষ্টাকে প্রভাবিত করেছে।

গ্রেপ্তার ও মামলা

এর আগে ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির ২ নম্বরের একটি জিম থেকে বের হওয়ার পর আনিস আলমগীরকে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবির কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

রাতেই আনিস আলমগীর, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মডেল মারিয়া কিসপট্টা ও উপস্থাপক ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ সহ চারজনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আসামিরা সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোতে বসে নিষিদ্ধ সংগঠনকে ফিরিয়ে আনার গুজব (প্রোপাগান্ডা) চালিয়ে আসছে। এর মাধ্যমে তারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পাঁয়তারা করছে। এসব পোস্টের ফলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা অনুপ্রাণিত হয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও অবকাঠামোকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছেন।