বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজনীতি হতে হবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে। আমরা শান্তির বাংলাদেশ চাই। যেখানে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ থাকবে না। যুব সমাজের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। অতীতের বস্তাপচা রাজনীতি পায়ের নিচে ফেলে দিতে চাই। আমরা নতুন ধারার রাজনীতি করবো। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নতুন বাংলাদেশের মোড়ক উন্মোচন হবে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুব ম্যারাথনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। জামায়াত আমিরের নেতৃত্বে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে শুরু হওয়া যুব ম্যারাথন মানিক মিয়া এভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হয়।
জামায়াতের আমির বলেন, আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে কোনও বাধাই যুবকদের আটকাতে পারবে না। কারণ এখন কালো টাকার বিনিময়ে মানুষ কেনার দিন শেষ। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ, আপনারা সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করুন। ইসিকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমরা কোনও আনুকূল্য চাই না, আপনারা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করুন।
ডা. শফিক বলেন, পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী আমাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করেছিল। তাই দেশের মানুষ তাদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছিল। যে কারণে ১৯৭০ সালে ভোটের পর যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
ডা. শফিক অভিযোগ করে বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসা শাসকগোষ্ঠী কথা রাখতে পারেননি। একটি দল মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের সম্পত্তি মনে করতো। তারা বাকি সবাইকে বানিয়েছিল তাদের দাস। তারা বহুদলীয় গণতন্ত্র ধ্বংস ও মৌলিক মানবিক অধিকার হরণ করেছিল। রক্ষীবাহিনীর নামে জল্লাদ বাহিনী গড়ে তুলেছিল। এতে দেশজুড়ে এক ধরনের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তখন বিদেশ থেকে আসা ত্রাণ আগেই বিক্রি করে দিয়েছিলেন রাষ্ট্রের কতিপয় কর্তাব্যক্তি। যে কারণে ৭৪-এর দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। সে সময় অসংখ্য লাশ দাফন করে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম। সোনার বাংলার নাম করে শ্মশান বানিয়েছিল। তাদের কার্যক্রমের পরিণতি হিসেবে তাদের পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশপ্রেমিক সেনাসদস্যরা কেন তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, সে উত্তর তাদের খুঁজতে হবে। যখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল, তখন তারা শুধু ছোপ ছোপ রক্ত আর কাড়ি কাড়ি লাশ উপহার দিয়েছে। ৯৬ সালে নির্বাচনের আগে তারা দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়েছিল। মানুষ তাদের ক্ষমা করে রায় দিলেও ক্ষমতার চেয়ারে বসেই তারা ফিরেছিল পুরোনো চেহারায়। তারাই আবার ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় বসেই বিডিআর হত্যা, শাপলা চত্বরে নৃশংসতা করেছে। ২০১৮ সালে একটি প্রতীকে ভোট দেওয়ায় নোয়াখালীর সুবর্ণচরে একজন নারীর ওপর বর্বরতা চালানো হয়েছে।
জামায়াত আমির আরও বলেন, খুন-ধর্ষণ আর আয়না ঘরের রাজনীতি করায় তাদের পালাতে হয়েছে। তবে ফ্যাসিবাদী শক্তি পালিয়ে গিয়েও দেশবাসীকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। ওসমান হাদির ওপর হামলা তার প্রমাণ। তিনি সুস্থতা কামনা করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।
রিপোর্টারের নাম 
























