ঢাকা ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চবি ক্যাম্পাসে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে চাকসু নির্বাচন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) এবং হল নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘পুরো ক্যাম্পাসকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে।’ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার সকালে ভোট গ্রহণ শুরু হয় এবং বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল। সময়ের সাথে সাথে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের উপস্থিতিও বাড়তে শুরু করেছে।

অধ্যাপক মনির উদ্দিন জানান, প্রথম দিকে ভোটারের সংখ্যা কম থাকলেও ধীরে ধীরে উপস্থিতি বাড়ছে। এর কারণ হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী শহরে থাকেন। তারা শাটল ট্রেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত পরিবহনে করে ক্যাম্পাসে আসছেন।

সকাল ১০টায় বিজ্ঞান অনুষদ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তিনটি হলের ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। হলগুলো হলো— শাহ আমানত হল, শহীদ আবদুর রব হল ও মাস্টার দ্যা সূর্য সেন হল।

এই কেন্দ্রটিতে শাহ আমানত হলের ২ হাজার ২৪৭ জন, আবদুর রব হলের ১ হাজার ৭৭৫ জন এবং মাস্টার দ্যা সূর্য সেন হলের ৫১৬ জন ভোটার ভোট দিচ্ছেন।

ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের ভেতরে চললেও বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা রয়েছে। বিজ্ঞান অনুষদসহ প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের সামনে পুলিশের পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন আছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার জানান, নির্বাচন নিয়ে নিরাপত্তার কোনো শঙ্কা নেই। তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর মানুষ ভোট দেখেনি। চাকসু নির্বাচনে ভোট দিতে পেরে শিক্ষার্থীরা খুবই উৎফুল্ল। আশা করছি, উৎসবের আমেজে ভোট গ্রহণ শেষ হবে।’

চাকসু ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ‘চাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। আশা করছি, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হবে।’

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলাম সানতু জানান, নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই। পোশাকধারী ১২০০ পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশও নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ করছে।

অন্যদিকে, মাস্টার দ্যা সূর্য সেন হল থেকে সাহিত্য সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে প্রার্থী আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আনাস বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন স্বচ্ছ হচ্ছে।’

স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান অবশ্য কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, ‘বাইরে থেকে শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু ভেতরে কী হচ্ছে তা বলা মুশকিল। নির্বাচন আচরণ বিধির কারণে প্রার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারছেন না। তবে পোলিং এজেন্ট, ভোটার এবং ডিজিটাল স্ক্রিন দেখে বড় কোনো অনিয়ম এখনো চোখে পড়েনি।’

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাঠের রাজা হলেও যে অপূর্ণতা আজও পোড়ায় মেসিকে

চবি ক্যাম্পাসে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে চাকসু নির্বাচন

আপডেট সময় : ১২:২৮:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) এবং হল নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘পুরো ক্যাম্পাসকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে।’ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার সকালে ভোট গ্রহণ শুরু হয় এবং বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল। সময়ের সাথে সাথে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের উপস্থিতিও বাড়তে শুরু করেছে।

অধ্যাপক মনির উদ্দিন জানান, প্রথম দিকে ভোটারের সংখ্যা কম থাকলেও ধীরে ধীরে উপস্থিতি বাড়ছে। এর কারণ হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী শহরে থাকেন। তারা শাটল ট্রেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত পরিবহনে করে ক্যাম্পাসে আসছেন।

সকাল ১০টায় বিজ্ঞান অনুষদ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তিনটি হলের ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। হলগুলো হলো— শাহ আমানত হল, শহীদ আবদুর রব হল ও মাস্টার দ্যা সূর্য সেন হল।

এই কেন্দ্রটিতে শাহ আমানত হলের ২ হাজার ২৪৭ জন, আবদুর রব হলের ১ হাজার ৭৭৫ জন এবং মাস্টার দ্যা সূর্য সেন হলের ৫১৬ জন ভোটার ভোট দিচ্ছেন।

ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের ভেতরে চললেও বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা রয়েছে। বিজ্ঞান অনুষদসহ প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের সামনে পুলিশের পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন আছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার জানান, নির্বাচন নিয়ে নিরাপত্তার কোনো শঙ্কা নেই। তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর মানুষ ভোট দেখেনি। চাকসু নির্বাচনে ভোট দিতে পেরে শিক্ষার্থীরা খুবই উৎফুল্ল। আশা করছি, উৎসবের আমেজে ভোট গ্রহণ শেষ হবে।’

চাকসু ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ‘চাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। আশা করছি, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হবে।’

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলাম সানতু জানান, নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই। পোশাকধারী ১২০০ পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশও নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ করছে।

অন্যদিকে, মাস্টার দ্যা সূর্য সেন হল থেকে সাহিত্য সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে প্রার্থী আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আনাস বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন স্বচ্ছ হচ্ছে।’

স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান অবশ্য কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, ‘বাইরে থেকে শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু ভেতরে কী হচ্ছে তা বলা মুশকিল। নির্বাচন আচরণ বিধির কারণে প্রার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারছেন না। তবে পোলিং এজেন্ট, ভোটার এবং ডিজিটাল স্ক্রিন দেখে বড় কোনো অনিয়ম এখনো চোখে পড়েনি।’