ঢাকা ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

উৎসবের মেজাজে শুরু হলো চাকসু নির্বাচন, ৩৫ বছর পর ভোট দিতে প্রস্তুত শিক্ষার্থীরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অবশেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া এই ভোট উৎসব চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এই নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসজুড়ে এটিকে গণতান্ত্রিক চর্চার পুনরুজ্জীবন হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, চাকসু নির্বাচনের মোট ২৬টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪১৫ জন প্রার্থী। অন্যদিকে, ১৪টি হল ও একটি হোস্টেলের নির্বাচনে আরও ৪৯৩ জন প্রার্থী লড়ছেন। সবমিলিয়ে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৯০৮ জন, যাদের মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ৪৭ জন। এবার নির্বাচনে মোট ২৭ হাজার ৫১৮ জন শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

বিকেল চারটায় ভোটগ্রহণ শেষে ওএমআর পদ্ধতিতে ভোট গণনা শুরু হবে। হল সংসদের ফলাফল হল কেন্দ্রেই ঘোষণা করা হবে। তবে কেন্দ্রীয় সংসদের ফলাফল ঘোষণা করা হবে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের মিলনায়তন থেকে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, মোট পাঁচটি অনুষদের পাঁচটি ভবনে ১৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে রাখা হয়েছে মোট ৬০টি ভোটকক্ষ এবং ৬৮৯টি বুথ।

কোন কেন্দ্রে কত ভোটার:

প্রকৌশল অনুষদ ভবনে সোহরাওয়ার্দী হলের ৪ হাজার ৩৬ জন ভোটার ভোট দেবেন।

কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের নতুন ভবনে (শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ভবন) ভোট দেবেন ৫ হাজার ২৬৩ জন শিক্ষার্থী।

বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে ভোটারের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৩৮ জন।

সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবনে ভোট দেবেন ৬ হাজার ৬০৬ জন।

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৭ হাজার ৭৩ জন ভোটার।

ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভোটকক্ষের গোপন বুথের বাইরে স্থাপন করা হয়েছে ৯০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। এছাড়াও, ১৫টি ভোটকেন্দ্রে পরিস্থিতি দেখানোর জন্য ২০টি এলইডি স্ক্রিন বসানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভোটকক্ষে প্রবেশের আগে আইডি কার্ড দেখানো এবং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যাচাই শেষে ব্যালট গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী জানিয়েছেন, পুরো ক্যাম্পাসকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। পুলিশ, এপিবিএন, বিজিবি, র‍্যাবসহ প্রায় ১২ শতাধিক নিরাপত্তা কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। ফল ঘোষণার পর পর্যন্ত র‍্যাবের ৮টি প্লাটুন প্রস্তুত থাকবে। চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সব ইউনিট প্রস্তুত আছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে এই ভোট উৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। বিশ্ববিদ্যালয় আইটি ভবনের ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার অধ্যাপক মোহাম্মদ ফজলুর কাদের নিশ্চিত করেন, সকাল সাড়ে নয়টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং বিকেল চারটা পর্যন্ত চলবে। ভোটাররা ভোট দিতে প্রস্তুত আছেন এবং তাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাঠের রাজা হলেও যে অপূর্ণতা আজও পোড়ায় মেসিকে

উৎসবের মেজাজে শুরু হলো চাকসু নির্বাচন, ৩৫ বছর পর ভোট দিতে প্রস্তুত শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ১০:২৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অবশেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া এই ভোট উৎসব চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এই নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসজুড়ে এটিকে গণতান্ত্রিক চর্চার পুনরুজ্জীবন হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, চাকসু নির্বাচনের মোট ২৬টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪১৫ জন প্রার্থী। অন্যদিকে, ১৪টি হল ও একটি হোস্টেলের নির্বাচনে আরও ৪৯৩ জন প্রার্থী লড়ছেন। সবমিলিয়ে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৯০৮ জন, যাদের মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ৪৭ জন। এবার নির্বাচনে মোট ২৭ হাজার ৫১৮ জন শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

বিকেল চারটায় ভোটগ্রহণ শেষে ওএমআর পদ্ধতিতে ভোট গণনা শুরু হবে। হল সংসদের ফলাফল হল কেন্দ্রেই ঘোষণা করা হবে। তবে কেন্দ্রীয় সংসদের ফলাফল ঘোষণা করা হবে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের মিলনায়তন থেকে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, মোট পাঁচটি অনুষদের পাঁচটি ভবনে ১৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে রাখা হয়েছে মোট ৬০টি ভোটকক্ষ এবং ৬৮৯টি বুথ।

কোন কেন্দ্রে কত ভোটার:

প্রকৌশল অনুষদ ভবনে সোহরাওয়ার্দী হলের ৪ হাজার ৩৬ জন ভোটার ভোট দেবেন।

কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের নতুন ভবনে (শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ভবন) ভোট দেবেন ৫ হাজার ২৬৩ জন শিক্ষার্থী।

বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে ভোটারের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৩৮ জন।

সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবনে ভোট দেবেন ৬ হাজার ৬০৬ জন।

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৭ হাজার ৭৩ জন ভোটার।

ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভোটকক্ষের গোপন বুথের বাইরে স্থাপন করা হয়েছে ৯০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। এছাড়াও, ১৫টি ভোটকেন্দ্রে পরিস্থিতি দেখানোর জন্য ২০টি এলইডি স্ক্রিন বসানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভোটকক্ষে প্রবেশের আগে আইডি কার্ড দেখানো এবং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যাচাই শেষে ব্যালট গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী জানিয়েছেন, পুরো ক্যাম্পাসকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। পুলিশ, এপিবিএন, বিজিবি, র‍্যাবসহ প্রায় ১২ শতাধিক নিরাপত্তা কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। ফল ঘোষণার পর পর্যন্ত র‍্যাবের ৮টি প্লাটুন প্রস্তুত থাকবে। চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সব ইউনিট প্রস্তুত আছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে এই ভোট উৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। বিশ্ববিদ্যালয় আইটি ভবনের ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার অধ্যাপক মোহাম্মদ ফজলুর কাদের নিশ্চিত করেন, সকাল সাড়ে নয়টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং বিকেল চারটা পর্যন্ত চলবে। ভোটাররা ভোট দিতে প্রস্তুত আছেন এবং তাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।