রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার রহিমাপুর চাকলা গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র বর্মণ ও তার স্ত্রী সুবর্না রানীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার প্রধান আসামি মোরসালিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে হত্যাকাণ্ড ব্যবহৃত কুড়াল ও ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে ঘাতক মোরসালিন শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকালে রংপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুন নেছার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। টাকার জন্যই দুই জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জবানবন্দিতে জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিকে হত্যার পর ফেলে যাওয়া স্যান্ডেলের সূত্র ধরে টাইলস মিস্ত্রি মোরসালিনকে তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর খিয়ারের জুম্মা গ্রামে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাবার নাম রুহুল আমিন। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। এরপর আসামির দেখানো খাল থেকে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কুড়াল ও ছোরা উদ্ধার করে।
পুলিশ বলছে, আসামি মোরসালিন মুক্তিযোদ্ধা দম্পতির বাসায় টাইলস লাগানোর কাজ করার সময় বাড়িতে অনেক টাকা আছে ভেবে প্রথমে সুবর্না রানী ও পরে মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র বর্মণকে হত্যা করে বলে স্বীকার করেছেন।
এদিকে রংপুরের পুলিশ সুপার আসামি মোরসালিনকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান তদারকি করতে ওই এলাকায় যান। সেখানে স্থানীয়দের সহায়তায় খালের পানিতে ফেলা কুড়াল ও ছোরা উদ্ধার করার পর সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।
তিনি বলেন, ৬ ডিসেম্বর রাতে হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ খুনিদের চিহ্নিত করার জন্য ব্যাপক অভিযান চালায়। মাত্র ছয় দিনের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা মোরসালিনকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে রংপুরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় সে অকপটে হত্যা করার বিষয়টি স্বীকার করে জানায় টাকার জন্য তাদের হত্যা করা হয়। কিন্তু হত্যা করার পর আলমারি ভেঙে টাকা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করলেও পুরো বিষয় আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এসপি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিকে হত্যা করার পর আসামি ভেবেছিল, যেহেতু কেউ দেখেনি আর সে যে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা কেউ কোনও দিন জানতেই পারবে না। সে কারণে হত্যা করার পর তার বাড়িতেই অবস্থান করছিল।
উল্লেখ্য গত ৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দম্পতি যোগেশ চন্দ্র ও তার স্ত্রী সুবর্না রানীর গলা কাটা করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে শোভন বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















