ঢাকা ১১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগ ও বৈষম্যের ঝুঁকিতে নারীরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

উপকূলীয় এলাকায় নারীদের জীবন ও নিরাপত্তা দুর্যোগ, দারিদ্র্য, লবণাক্ততা, খাদ্য সংকট ও সামাজিক বৈষম্যের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন তথ্য উঠে এসেছে ওয়ার্ড ফাউন্ডেশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় নারীরা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তার সংকটে পড়েন এবং পরিবারে সংকট দেখা দিলে ভোগান্তি নারীদের ওপরই বেশি পড়ে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক নির্ভরশীলতায় নারীর ওপর প্রভাব ৮০ দশমিক ৩৬ শতাংশ, শিক্ষা খাতে ৬৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং দুর্যোগজনিত মানসিক চাপে ৬৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হন তারা। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশিং ও কমিউনিটির ভূমিকা জনগণের ওপর ৭০ দশমিক ২৬ শতাংশ প্রভাব ফেলে।

জীবিকার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, উপকূলীয় এলাকায় নারীরা এখন আগের তুলনায় বেশি শ্রমে যুক্ত হচ্ছেন। মৎস্যশ্রমে ৪০ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং ধান বা পানির জমির কাজ ৩৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ। কৃষি, পশুপালন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ঘরোয়া উৎপাদনেও নারীর সম্পৃক্ততা বাড়ছে, তবে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও নিরাপত্তাহীনতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত নারীরা জানান, পরিবারে খাদ্য সংকট, উপার্জন কমে যাওয়া, সন্তানদের শিক্ষা ব্যাহত হওয়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি তাদের সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার শারমিন সালেহিনা বলেন, কমিউনিটি ও গণমাধ্যম একসঙ্গে কাজ করলে নারীর নিরাপত্তা বাড়বে। ড. আব্দুল ওহাব জানান, উপকূলে দুর্যোগকালে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে নারী।

শেষে ওয়ার্ড ফাউন্ডেশন জানায়, গবেষণায় পাওয়া সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে উপকূলের নারীদের জীবনমান, নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষা আরও নিশ্চিত হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছেন শর্বরী ও সানি!

উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগ ও বৈষম্যের ঝুঁকিতে নারীরা

আপডেট সময় : ০৪:৩২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

উপকূলীয় এলাকায় নারীদের জীবন ও নিরাপত্তা দুর্যোগ, দারিদ্র্য, লবণাক্ততা, খাদ্য সংকট ও সামাজিক বৈষম্যের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন তথ্য উঠে এসেছে ওয়ার্ড ফাউন্ডেশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় নারীরা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তার সংকটে পড়েন এবং পরিবারে সংকট দেখা দিলে ভোগান্তি নারীদের ওপরই বেশি পড়ে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক নির্ভরশীলতায় নারীর ওপর প্রভাব ৮০ দশমিক ৩৬ শতাংশ, শিক্ষা খাতে ৬৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং দুর্যোগজনিত মানসিক চাপে ৬৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হন তারা। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশিং ও কমিউনিটির ভূমিকা জনগণের ওপর ৭০ দশমিক ২৬ শতাংশ প্রভাব ফেলে।

জীবিকার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, উপকূলীয় এলাকায় নারীরা এখন আগের তুলনায় বেশি শ্রমে যুক্ত হচ্ছেন। মৎস্যশ্রমে ৪০ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং ধান বা পানির জমির কাজ ৩৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ। কৃষি, পশুপালন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ঘরোয়া উৎপাদনেও নারীর সম্পৃক্ততা বাড়ছে, তবে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও নিরাপত্তাহীনতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত নারীরা জানান, পরিবারে খাদ্য সংকট, উপার্জন কমে যাওয়া, সন্তানদের শিক্ষা ব্যাহত হওয়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি তাদের সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার শারমিন সালেহিনা বলেন, কমিউনিটি ও গণমাধ্যম একসঙ্গে কাজ করলে নারীর নিরাপত্তা বাড়বে। ড. আব্দুল ওহাব জানান, উপকূলে দুর্যোগকালে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে নারী।

শেষে ওয়ার্ড ফাউন্ডেশন জানায়, গবেষণায় পাওয়া সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে উপকূলের নারীদের জীবনমান, নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষা আরও নিশ্চিত হবে।