ঢাকা ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

পুণ্ড্রবর্ধনের দরগারহাটে শাহ সুলতান বলখীর স্মৃতি: এক ঐতিহাসিক অন্বেষণ

প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধনের (বর্তমান বগুড়া) ধূসর স্মৃতি বিজড়িত দরগারহাটের মাজার আজও এক অচেনা পীরের স্মরণে শত শত মানুষের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক। অথচ এই পীর কে ছিলেন, কেনই বা তিনি শাহ সুলতান বলখীর শিষ্য হিসেবে পরিচিত, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রায় বিলুপ্ত। ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করলে এমন কিছু জনপদের সন্ধান মেলে যেখানে কালের স্রোত যেন থমকে আছে। উত্তরবঙ্গের পুণ্ড্রবর্ধন তেমনই এক প্রাচীন ভূমি, যা আজ বগুড়া নামে পরিচিত।

নবী ঈসা (আ.)-এর জন্মের প্রায় চার শতাব্দী পূর্ব থেকেই এই অঞ্চলটি শিক্ষা, সংস্কৃতি, নগর সভ্যতা ও বাণিজ্যের এক প্রাণকেন্দ্র ছিল। মৌর্য, গুপ্ত, পাল এবং সেন রাজাদের উত্থান-পতনের নীরব সাক্ষী মহাস্থানগড়। তবে মহাস্থানের সুবিশাল দুর্গনগরীর ধ্বংসাবশেষের আড়ালে আরও একটি সমান্তরাল ইতিহাস লুকিয়ে আছে – তা হলো এই অঞ্চলের মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ও ধর্মীয় রূপান্তরের ইতিহাস। এই ইতিহাসের সন্ধানেই আমার এবারের গন্তব্য ছিল বগুড়ার কাহালু উপজেলার নিভৃত অঞ্চল ‘দরগার হাট’।

তুর্কি বীর ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির বঙ্গবিজয়ের বহু পূর্বেই এই পুণ্ড্রভূমিতে ইসলামের আগমন ঘটেছিল। সে সময় বাংলায় সেন রাজাদের কঠোর ব্রাহ্মণ্যবাদী শাসন চলছিল, যেখানে জাত-পাতের ভেদাভেদে নিম্নবর্ণের হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং প্রকৃতিপূজারি সাধারণ মানুষ চরম সামাজিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। যদিও ইতিহাসে এই বঞ্চনার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় না, তবে স্থানীয় লোকগাথা ও মিথগুলোতে আজও সেই বৈষম্যের সুর স্পষ্টভাবে ধ্বনিত হয়। ঠিক এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর সামাজিক পরিস্থিতিতেই সুফি সাধকদের আগমন ঘটে। তারা কেবল ধর্মের বাণী নিয়ে আসেননি, এনেছিলেন মানবিকতা ও সামাজিক সাম্যের বার্তা।

বগুড়ায় ইসলামের বিস্তারের প্রধানThe hero is considered to be the holy man of Mahasthangarh, Sultanul Awliya Hazrat Shah Sultan Balkhi. He arrived in this region between the 10th and 12th centuries. He was a Sufi saint as well as a visionary warrior. Defeating the local oppressive Hindu king, he laid the foundation of Sufism in this region. However, history says that Shah Sultan Balkhi did not come alone. He was accompanied by a group of devoted followers, Sufis, and experienced soldiers. Centered at Mahasthangarh, they spread throughout the nooks and crannies of the Pundra land. Even before the arrival of Bakhtiyar Khilji, this Sufi caravan had won the hearts of the people of Bengal and prepared the ground for victory. The ‘Dargahat Mazar’ in Kahalu is a testament to this historical legacy.

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরানের নতুন গোপন সেল গঠন

পুণ্ড্রবর্ধনের দরগারহাটে শাহ সুলতান বলখীর স্মৃতি: এক ঐতিহাসিক অন্বেষণ

আপডেট সময় : ০৩:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধনের (বর্তমান বগুড়া) ধূসর স্মৃতি বিজড়িত দরগারহাটের মাজার আজও এক অচেনা পীরের স্মরণে শত শত মানুষের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক। অথচ এই পীর কে ছিলেন, কেনই বা তিনি শাহ সুলতান বলখীর শিষ্য হিসেবে পরিচিত, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রায় বিলুপ্ত। ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করলে এমন কিছু জনপদের সন্ধান মেলে যেখানে কালের স্রোত যেন থমকে আছে। উত্তরবঙ্গের পুণ্ড্রবর্ধন তেমনই এক প্রাচীন ভূমি, যা আজ বগুড়া নামে পরিচিত।

নবী ঈসা (আ.)-এর জন্মের প্রায় চার শতাব্দী পূর্ব থেকেই এই অঞ্চলটি শিক্ষা, সংস্কৃতি, নগর সভ্যতা ও বাণিজ্যের এক প্রাণকেন্দ্র ছিল। মৌর্য, গুপ্ত, পাল এবং সেন রাজাদের উত্থান-পতনের নীরব সাক্ষী মহাস্থানগড়। তবে মহাস্থানের সুবিশাল দুর্গনগরীর ধ্বংসাবশেষের আড়ালে আরও একটি সমান্তরাল ইতিহাস লুকিয়ে আছে – তা হলো এই অঞ্চলের মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ও ধর্মীয় রূপান্তরের ইতিহাস। এই ইতিহাসের সন্ধানেই আমার এবারের গন্তব্য ছিল বগুড়ার কাহালু উপজেলার নিভৃত অঞ্চল ‘দরগার হাট’।

তুর্কি বীর ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির বঙ্গবিজয়ের বহু পূর্বেই এই পুণ্ড্রভূমিতে ইসলামের আগমন ঘটেছিল। সে সময় বাংলায় সেন রাজাদের কঠোর ব্রাহ্মণ্যবাদী শাসন চলছিল, যেখানে জাত-পাতের ভেদাভেদে নিম্নবর্ণের হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং প্রকৃতিপূজারি সাধারণ মানুষ চরম সামাজিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। যদিও ইতিহাসে এই বঞ্চনার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় না, তবে স্থানীয় লোকগাথা ও মিথগুলোতে আজও সেই বৈষম্যের সুর স্পষ্টভাবে ধ্বনিত হয়। ঠিক এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর সামাজিক পরিস্থিতিতেই সুফি সাধকদের আগমন ঘটে। তারা কেবল ধর্মের বাণী নিয়ে আসেননি, এনেছিলেন মানবিকতা ও সামাজিক সাম্যের বার্তা।

বগুড়ায় ইসলামের বিস্তারের প্রধানThe hero is considered to be the holy man of Mahasthangarh, Sultanul Awliya Hazrat Shah Sultan Balkhi. He arrived in this region between the 10th and 12th centuries. He was a Sufi saint as well as a visionary warrior. Defeating the local oppressive Hindu king, he laid the foundation of Sufism in this region. However, history says that Shah Sultan Balkhi did not come alone. He was accompanied by a group of devoted followers, Sufis, and experienced soldiers. Centered at Mahasthangarh, they spread throughout the nooks and crannies of the Pundra land. Even before the arrival of Bakhtiyar Khilji, this Sufi caravan had won the hearts of the people of Bengal and prepared the ground for victory. The ‘Dargahat Mazar’ in Kahalu is a testament to this historical legacy.