নিজস্ব প্রতিবেদক
বহুল আলোচিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ স্লোগানের ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু এবং
কৃষক-কেন্দ্রিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে প্রান্তিক কৃষক শুধু উৎপাদক নন, বরং একজন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেন।
বুধবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের নবম কার্যদিবসে প্রশ্নোত্তর পর্বে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাখ্যা দেন। বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।
কৃষিকে জাতীয় সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি করার পরিকল্পনা
লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষিখাতকে আরও উৎপাদনশীল, লাভজনক ও টেকসই করতে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষক কার্ড বিতরণ, স্বল্পসুদে কৃষিঋণ প্রদান, সার ও উন্নতমানের বীজের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং খাল পুনঃখননের মতো কার্যক্রম।
তিনি বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থাকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর করার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।”
স্মার্ট কৃষির দিকে এগোচ্ছে দেশ
তারেক রহমান বলেন, বৈশ্বিক পরিবর্তন এবং জলবায়ুজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সরভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থাপনা এবং স্মার্ট ফার্মিং পদ্ধতি ধীরে ধীরে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “ভবিষ্যতের কৃষি হবে প্রযুক্তিনির্ভর। উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে ফলন বাড়ানো এবং কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য।”
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, কৃষিখাতের আধুনিকায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্ব
লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকের জীবনমান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষিকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করা হবে।”
‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ সময় পর দেশে ফিরে পূর্বাচলে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ স্লোগানটি উচ্চারণ করেন তারেক রহমান।
এরপর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন মহলে এ স্লোগান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই জানতে চান, এই পরিকল্পনার মূল বিষয়বস্তু কী।
সংসদে দেওয়া সর্বশেষ ব্যাখ্যায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ কোনো একক কর্মসূচি নয়; বরং কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের একটি সমন্বিত জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিফলন।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে কৃষিখাতকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলাই এই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
রিপোর্টারের নাম 




















