সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি ও চৌহালী) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) মনজুর কাদের। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন সারা দেশের ১২৫টি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। এনসিপির প্রথম ধাপের প্রাথমিক তালিকায় মনজুর কাদেরের নাম ঘোষণা করা হয়।
পাশাপাশি সিরাজগঞ্জের চারটি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন—সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে দিলশানা পারুল, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী (প্রীতি), সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে মনজুর কাদের ও সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে এসএম সাইফ মোস্তাফিজ। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও দলটির প্রভাবশালী নেতা মনজুর কাদেরকে মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে এনসিপি।
এ খবর ছড়িয়ে পড়ায় মনজুর কাদেরের নির্বাচনি এলাকায় পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চলছে। তার সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন। মনোনয়ন পাওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকার। তিনি ফেসবুক পোস্টে তাকে অভিনন্দন জানান।
মনজুর কাদেরের মিডিয়া সেল সূত্র জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মনজুর কাদের। এনসিপির হয়ে শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচন করবেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ধানের শীষ প্রতীকের দাবিদার ছিলেন মনজুর কাদের। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপি রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমকে মনোনয়ন দেয়। মনোনয়নবঞ্চিত হলেও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে থাকেন তার সমর্থকরা। অবশেষে জাতীয় নাগরিক পার্টি মনজুর কাদেরকে মনোনয়ন দিলো।
মনজুর কাদেরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জয়লাভের রেকর্ড আছে। সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করে ১৯৮৬ সালে পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে একই আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০০১ সালে সাবেক সিরাজগঞ্জ-৬ (চৌহালী ও শাহজাদপুরের একাংশ) আসনে বিএনপি প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হন। ওই আসনটি বিলুপ্ত হওয়ার পর ২০০৮ সালে সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি ও চৌহালী) আসন থেকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটের প্রার্থী হন। ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের কাছে মাত্র ২৫৫ ভোটে পরাজিত হন।
রিপোর্টারের নাম 





















