ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

উখিয়া থানার আলোচিত ইয়াবাকাণ্ডে জেলা পুলিশের তদন্ত কমিটি

কক্সবাজারের উখিয়া থানা পুলিশকে ঘিরে আলোচিত ইয়াবা কারবারি আটক অর্থ লেনদেন এবং নিরীহ দোকান কর্মচারীকে ফাঁসানোর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।  

বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস বলেন,  ‘গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

তদন্ত কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) রাকিবুল হাসান জানান,  সিসিটিভি ফুটেজসহ অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’

এর আগে ৭ ডিসেম্বর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘কক্সবাজারে ইয়াবাকাণ্ডে জড়িত ৫ পুলিশ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় গত ৩০ নভেম্বর উত্তম কুমার বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেও ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দোকান কর্মচারী হারুনুর রশীদকে ৬০০টি ইয়াবা দিয়ে মামলা সাজিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্য হলেন– এসআই সঞ্জিত কুমার মণ্ডল (মামলার বাদী),  এসআই ফরহাদ রাব্বী ঈশান,  কনস্টেবল লিমন, মাহবুব ও শরীফ।

ছায়া তদন্তে অসমর্থিত সূত্র দাবি করে, এসআই ঈশানের প্ররোচনায় অন্য সদস্যরা তাকে সহযোগিতা করেন এবং আটককৃতের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায়ের ভাগ নেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবা বিক্রি ও অর্থ ভাগাভাগিতে সহায়তা করেন কনস্টেবল লিমন এবং অভিযানে অংশ না নেওয়া আরও এক পুলিশ সদস্য। অভিযুক্ত এসআই ঈশান এর আগে চকরিয়া থানা থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে প্রত্যাহার হয়ে উখিয়া থানায় যোগ দেন। উখিয়ায় এসেও তার আচরণ না বদলানোয় অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে কুতুবদিয়ায় বদলি করা হয়। তবে সদ্য সাবেক ওসি জিয়াউল হকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে বদলি আদেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি উখিয়াতেই ছিলেন এবং সেই অবস্থাতেই আলোচিত এই অভিযানে অংশ নেন।

এদিকে ঈশানের বক্তব্য জানতে তার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। থানা সূত্র জানায়, অভিযানের একদিন পর থেকেই তিনি ছুটিতে চলে যান।  

জানতে চাইলে মামলার বাদী এসআই সঞ্জিত কুমার মণ্ডল বলেন, ‘ঘটনা যা সত্য সেটি মামলার এজাহারে রয়েছে, এর বাইরে কিছু নেই। বাকি কথাগুলো সত্য না।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

উখিয়া থানার আলোচিত ইয়াবাকাণ্ডে জেলা পুলিশের তদন্ত কমিটি

আপডেট সময় : ০৪:২৯:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের উখিয়া থানা পুলিশকে ঘিরে আলোচিত ইয়াবা কারবারি আটক অর্থ লেনদেন এবং নিরীহ দোকান কর্মচারীকে ফাঁসানোর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।  

বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস বলেন,  ‘গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

তদন্ত কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) রাকিবুল হাসান জানান,  সিসিটিভি ফুটেজসহ অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’

এর আগে ৭ ডিসেম্বর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘কক্সবাজারে ইয়াবাকাণ্ডে জড়িত ৫ পুলিশ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় গত ৩০ নভেম্বর উত্তম কুমার বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেও ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দোকান কর্মচারী হারুনুর রশীদকে ৬০০টি ইয়াবা দিয়ে মামলা সাজিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্য হলেন– এসআই সঞ্জিত কুমার মণ্ডল (মামলার বাদী),  এসআই ফরহাদ রাব্বী ঈশান,  কনস্টেবল লিমন, মাহবুব ও শরীফ।

ছায়া তদন্তে অসমর্থিত সূত্র দাবি করে, এসআই ঈশানের প্ররোচনায় অন্য সদস্যরা তাকে সহযোগিতা করেন এবং আটককৃতের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায়ের ভাগ নেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবা বিক্রি ও অর্থ ভাগাভাগিতে সহায়তা করেন কনস্টেবল লিমন এবং অভিযানে অংশ না নেওয়া আরও এক পুলিশ সদস্য। অভিযুক্ত এসআই ঈশান এর আগে চকরিয়া থানা থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে প্রত্যাহার হয়ে উখিয়া থানায় যোগ দেন। উখিয়ায় এসেও তার আচরণ না বদলানোয় অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে কুতুবদিয়ায় বদলি করা হয়। তবে সদ্য সাবেক ওসি জিয়াউল হকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে বদলি আদেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি উখিয়াতেই ছিলেন এবং সেই অবস্থাতেই আলোচিত এই অভিযানে অংশ নেন।

এদিকে ঈশানের বক্তব্য জানতে তার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। থানা সূত্র জানায়, অভিযানের একদিন পর থেকেই তিনি ছুটিতে চলে যান।  

জানতে চাইলে মামলার বাদী এসআই সঞ্জিত কুমার মণ্ডল বলেন, ‘ঘটনা যা সত্য সেটি মামলার এজাহারে রয়েছে, এর বাইরে কিছু নেই। বাকি কথাগুলো সত্য না।’