আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে আজ বুধবার বিকেলে শরিক দলগুলো (গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২-দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণ-অধিকার পরিষদ ও নেজামে ইসলাম পার্টির নেতারা) নিজেদের মধ্যে বৈঠকে বসছেন। এ দিকে বিএনপিও শরিকদের হতাশা কাটাতে আসন বণ্টনের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উদ্যোগী হয়েছে।
গত সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয় এবং দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা এবং সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি মিত্রদের মধ্যে ‘বিজয়ী’ হতে পারার মতো নেতাদের জন্য আসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ভোটে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম এমন জোটের জ্যেষ্ঠ নেতাদের জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্ব দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।
শরিক দলগুলোর নেতারা বলছেন, যেকোনো সময় ভোটের তফসিল ঘোষিত হতে পারে এবং হাতে সময় মাত্র দুই মাস। বিএনপি দুই দফায় মোট ২৭২ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে, অথচ শরিকদের আসন সমঝোতার বিষয়টি এখনো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, যা তাদের নির্বাচনে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। বর্তমানে ফাঁকা থাকা ২৮টি আসনের মধ্যে শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের জন্য ১২ থেকে ১৩টি আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
জোটের মনোনয়ন পাবেন বলে এত দিন আলোচনা ছিল, এমন কিছু আসনে বিএনপির প্রার্থিতা ঘোষণার পর শরিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কুষ্টিয়া-২, মৌলভীবাজার-২, নড়াইল-২, কিশোরগঞ্জ-৫ ও যশোর-৫ আসনগুলো। এছাড়া, শরিক দলগুলোর নেতাদের বিএনপিতে যোগদানকেও অনেকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না (যেমন শাহাদাত হোসেন সেলিম)। আসন সমঝোতা নিয়ে শরিকদের অনেকে মনঃক্ষুণ্ন হতে পারেন এমন আশঙ্কায় স্থায়ী কমিটির সভায় ক্ষমতায় গেলে বঞ্চিতদের উপযুক্ত মূল্যায়ন করার ব্যাপারে আশ্বস্ত করতে সংশ্লিষ্ট নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ লেবার পার্টি বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























