ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশে নির্বাচনী জোয়ার: বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা; মাঠে বিএনপি, জামায়াত ও নতুন জোটের প্রচার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘নির্বাচনের ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে, এটা আর থামবে না’ এই দৃঢ় ঘোষণার পর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন তফসিল ঘোষণার আগে রেওয়াজ অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আজ সিইসির ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল’-এর ভাষণ রেকর্ড করার কথা এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সে ভাষণ প্রচারের মাধ্যমে নির্বাচনী তফসিল ঘোষিত হতে পারে।

তফসিল ঘোষণার আগেই গোটা দেশে নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। এবারের নির্বাচনকে ইসি ‘শতাব্দীর ভালো নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করেছে, যা অতীতের পাতানো নির্বাচনগুলোর মতো হবে না। গত ৩ ডিসেম্বর নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা একটি রিট আবেদন হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়ে বলেছেন, ‘দেশের সব মানুষ এখন নির্বাচনমুখী। নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট দায়ের করার এখন উপযোগী সময় নয়।’

নির্বাচনের হাওয়া সারাদেশে বইছে। রাজনৈতিক দলগুলো থেকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের মিটিং-মিছিল, শোডাউন ও উঠোন বৈঠক চলছে। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি গত মাসে প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় মোট ২৭২ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, জামায়াত প্রায় ৬ মাস আগে ৩০০ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে জোরেশোরে প্রচার চালাচ্ছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের ‘সাংগঠনিক কার্যক্রম’ নিষিদ্ধ থাকায় দলটি কার্যত ভোট করতে পারছে না। ফলে মূলত বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে জামায়াত।

জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রত্যাশিত আসন বিএনপির কাছে না পাওয়ায় আরও দুটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ নামে জোট গঠন করেছে। এছাড়াও, জাতীয় পার্টির (জাপা) দলছুট কিছু নেতা এবং আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জাতীয় পার্টির (জেপি) নেতারা ১৮টি দলের সমন্বয়ে ‘১৮ দলীয় জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ’ গঠন করেছেন। জামায়াতও ইসলামী ধারার দলগুলো নিয়ে ‘৮ দলীয় জোট’ গঠন করার ঘোষণা দিয়েছে। সারাদেশে প্রার্থীরা ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন এবং ভোটাররাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইতিবাচক সংবাদের গুরুত্ব ও দক্ষ জনশক্তি গড়ার আহ্বান চিফ হুইপের

বাংলাদেশে নির্বাচনী জোয়ার: বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা; মাঠে বিএনপি, জামায়াত ও নতুন জোটের প্রচার

আপডেট সময় : ১২:৩৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘নির্বাচনের ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে, এটা আর থামবে না’ এই দৃঢ় ঘোষণার পর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন তফসিল ঘোষণার আগে রেওয়াজ অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আজ সিইসির ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল’-এর ভাষণ রেকর্ড করার কথা এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সে ভাষণ প্রচারের মাধ্যমে নির্বাচনী তফসিল ঘোষিত হতে পারে।

তফসিল ঘোষণার আগেই গোটা দেশে নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। এবারের নির্বাচনকে ইসি ‘শতাব্দীর ভালো নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করেছে, যা অতীতের পাতানো নির্বাচনগুলোর মতো হবে না। গত ৩ ডিসেম্বর নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা একটি রিট আবেদন হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়ে বলেছেন, ‘দেশের সব মানুষ এখন নির্বাচনমুখী। নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট দায়ের করার এখন উপযোগী সময় নয়।’

নির্বাচনের হাওয়া সারাদেশে বইছে। রাজনৈতিক দলগুলো থেকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের মিটিং-মিছিল, শোডাউন ও উঠোন বৈঠক চলছে। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি গত মাসে প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় মোট ২৭২ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, জামায়াত প্রায় ৬ মাস আগে ৩০০ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে জোরেশোরে প্রচার চালাচ্ছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের ‘সাংগঠনিক কার্যক্রম’ নিষিদ্ধ থাকায় দলটি কার্যত ভোট করতে পারছে না। ফলে মূলত বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে জামায়াত।

জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রত্যাশিত আসন বিএনপির কাছে না পাওয়ায় আরও দুটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ নামে জোট গঠন করেছে। এছাড়াও, জাতীয় পার্টির (জাপা) দলছুট কিছু নেতা এবং আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জাতীয় পার্টির (জেপি) নেতারা ১৮টি দলের সমন্বয়ে ‘১৮ দলীয় জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ’ গঠন করেছেন। জামায়াতও ইসলামী ধারার দলগুলো নিয়ে ‘৮ দলীয় জোট’ গঠন করার ঘোষণা দিয়েছে। সারাদেশে প্রার্থীরা ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন এবং ভোটাররাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।