বর্ধিত ট্যারিফ কার্যকর করতে না পারার কারণে বেসরকারি কন্টেইনার ডিপো বা অফডক মালিকেরা আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সম্পূর্ণ অঘোষিতভাবে ডিপোর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে আগামীকাল সকাল থেকে সব ধরনের রফতানি পণ্য জাহাজীকরণ এবং এমটি (খালি) কন্টেইনার হ্যান্ডলিং পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, যা তৈরি পোশাক শিল্পসহ রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে মারাত্মক সংকটে ফেলবে।
শতভাগ রফতানি পণ্য, খালি কন্টেইনারের বড় অংশ এবং ৬৫ ধরনের আমদানি পণ্য হ্যান্ডলিং করে চট্টগ্রামের ১৯টি বেসরকারি কন্টেইনার ডিপো কর্তৃপক্ষ। অফডকের অপারেশন বন্ধ হলে পুরো বন্দরের কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়বে। অফডক মালিকদের সংগঠন বিকডা আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে কন্টেইনার স্টাফিং, গ্রাউন্ড রেন্টসহ অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৬৩ শতাংশ চার্জ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও বন্দর ব্যবহারকারীদের আপত্তিতে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের নির্দেশে বর্ধিত মাশুল আদায় স্থগিত হয়। এরপর মন্ত্রণালয়ও জানিয়ে দেয়, ট্যারিফ কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়া অফডক কর্তৃপক্ষ নতুন মাশুল আদায় করতে পারবে না।
অফডক মালিকেরা এখন লোকসানের কথা বলে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ১১ ডিসেম্বর থেকে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বড় বড় শিপিং লাইনকে মৌখিকভাবে ১১ ডিসেম্বর থেকে কন্টেইনার না পাঠাতে বলা হলেও, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ বা বন্দর কর্তৃপক্ষকেও এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি। বিকডা’র সেক্রেটারি রুহুল আমিন শিকদার জানান, পরিচালনার খরচ বাড়লেও মাশুল না বাড়ানোর কারণে লোকসান হচ্ছে। তাই অফডক মালিকেরা ব্যক্তিগতভাবে রফতানি ও খালি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তবে আমদানী পণ্যবাহী কন্টেইনার আনলোড করা হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক জানিয়েছেন, এই ধরনের কর্মসূচির কথা তাদের জানা নেই এবং ট্যারিফ কমিটির আলোচনা ছাড়া একতরফাভাবে চার্জ নির্ধারণের সুযোগ নেই।
রিপোর্টারের নাম 
























