ঢাকা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের চলমান সংস্কারে মার্কিন বিনিয়োগের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে: অর্থ উপদেষ্টা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং সরকারের চলমান সংস্কার কার্যক্রমের দৃশ্যমান অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তুলবে। অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সোমবার (১৩ অক্টোবর) ওয়াশিংটনে মার্কিন চেম্বার অব কমার্সের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই মন্তব্য করেন। এসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরসহ সরকারের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে মার্কিন ব্যবসায়ীদের কাছে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের চিত্র তুলে ধরা হয়। পরে অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের জানান, গত এপ্রিলের বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকের পর গত ছয় মাসে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সরকারের সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কারণে আগামীতে দেশে মার্কিন ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গতবার আমাদের সফরের সময় আপনারা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে যে চাপ দেখেছিলেন, এখন সেই বাজার অনেকটাই স্থিতিশীল হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে এবং রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।’

অর্থ উপদেষ্টা জানান, সরকার লেনদেন ও পেমেন্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা সমাধান করেছে এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একাধিক আবেদন নিষ্পত্তি করেছে।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের সংস্কার কার্যক্রম চলছে, তবে এখন এর ফলাফল চোখে পড়ছে। এই অগ্রগতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনছে। আমাদের মার্কিন অংশীদাররাও স্বীকার করেছেন—এ ধরনের উন্নতি শক্তিশালী নীতিগত অঙ্গীকার ছাড়া সম্ভব হতো না।’

বৈঠকে মার্কিন ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের ব্যাংকিং এবং রাজস্ব খাতে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগের প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে তারা নিয়ন্ত্রক সংস্কার, ট্যাক্স রিফান্ড এবং বীমা খাতের আধুনিকায়ন সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তারা আরও উল্লেখ করেন যে, একটি অন্তর্বর্তী সরকার না হলে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হতো না এবং অগ্রগতিও এতটা দ্রুত হতো না।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘এই বিষয়গুলো আমরা ইতোমধ্যে বিবেচনায় নিয়েছি। আমাদের অনলাইন নীতিমালার মধ্যেই এসব সংস্কার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে মার্কিন ব্যবসায়ীরা এর বাস্তব ফল দেখতে পাবেন।’

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সরকার সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি মজবুত। আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার—সংস্কারগুলো সম্পন্ন করে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় ও নির্ভরযোগ্য গন্তব্যে পরিণত করা।’

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সরকারি প্রতিনিধিরা আরও জানান যে, শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বল্প সময়ে অর্থনীতি আবারো ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করায় ইউএস চেম্বারের নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশংসা করেছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ২০২৫ সালের আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতায় সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ধান কাটা নিয়ে কৃষকদের অনিশ্চয়তা

বাংলাদেশের চলমান সংস্কারে মার্কিন বিনিয়োগের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে: অর্থ উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং সরকারের চলমান সংস্কার কার্যক্রমের দৃশ্যমান অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তুলবে। অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সোমবার (১৩ অক্টোবর) ওয়াশিংটনে মার্কিন চেম্বার অব কমার্সের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই মন্তব্য করেন। এসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরসহ সরকারের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে মার্কিন ব্যবসায়ীদের কাছে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের চিত্র তুলে ধরা হয়। পরে অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের জানান, গত এপ্রিলের বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকের পর গত ছয় মাসে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সরকারের সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কারণে আগামীতে দেশে মার্কিন ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গতবার আমাদের সফরের সময় আপনারা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে যে চাপ দেখেছিলেন, এখন সেই বাজার অনেকটাই স্থিতিশীল হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে এবং রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।’

অর্থ উপদেষ্টা জানান, সরকার লেনদেন ও পেমেন্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা সমাধান করেছে এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একাধিক আবেদন নিষ্পত্তি করেছে।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের সংস্কার কার্যক্রম চলছে, তবে এখন এর ফলাফল চোখে পড়ছে। এই অগ্রগতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনছে। আমাদের মার্কিন অংশীদাররাও স্বীকার করেছেন—এ ধরনের উন্নতি শক্তিশালী নীতিগত অঙ্গীকার ছাড়া সম্ভব হতো না।’

বৈঠকে মার্কিন ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের ব্যাংকিং এবং রাজস্ব খাতে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগের প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে তারা নিয়ন্ত্রক সংস্কার, ট্যাক্স রিফান্ড এবং বীমা খাতের আধুনিকায়ন সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তারা আরও উল্লেখ করেন যে, একটি অন্তর্বর্তী সরকার না হলে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হতো না এবং অগ্রগতিও এতটা দ্রুত হতো না।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘এই বিষয়গুলো আমরা ইতোমধ্যে বিবেচনায় নিয়েছি। আমাদের অনলাইন নীতিমালার মধ্যেই এসব সংস্কার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে মার্কিন ব্যবসায়ীরা এর বাস্তব ফল দেখতে পাবেন।’

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সরকার সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি মজবুত। আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার—সংস্কারগুলো সম্পন্ন করে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় ও নির্ভরযোগ্য গন্তব্যে পরিণত করা।’

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সরকারি প্রতিনিধিরা আরও জানান যে, শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বল্প সময়ে অর্থনীতি আবারো ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করায় ইউএস চেম্বারের নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশংসা করেছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ২০২৫ সালের আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।