ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

কিশোরী বয়সে বিয়ে: হুমায়ূন আহমেদের সাথে দাম্পত্য জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন গুলতেকিন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

প্রখ্যাত লেখক হুমায়ূন আহমেদের প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন খান এবার নিজের অতীত দাম্পত্য জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন। কিশোরী বয়সে বিয়ে হলেও তিনি সে জীবনে সুখী হতে পারেননি। সম্প্রতি ফেসবুক পোস্টে সেই পুরোনো স্মৃতি মনে করে আক্ষেপ করেছেন তিনি।

প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাবিদ প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁর নাতনি গুলতেকিন ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের তরুণ শিক্ষক হুমায়ূন আহমেদকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। দুজনের বয়সের পার্থক্য ছিল প্রায় ১৫ বছর। দীর্ঘ ৩০ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে ২০০৩ সালে বিবাহবিচ্ছেদের মাধ্যমে।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে গুলতেকিন এই অভিজ্ঞতার কথা লেখেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই পোস্টটি শুধু কিশোরী, তরুণী এবং তাদের অভিভাবকদের জন্যই লেখা। তিনি চান না অল্প বয়সে আর কোনো মেয়ে তার মতো ভুল করুক।

নিজের দাম্পত্য জীবনের তিক্ততার সবচেয়ে ভয়াবহ স্মৃতি হিসেবে গুলতেকিন যুক্তরাষ্ট্রের এক শীতার্ত রাতের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন। তিনি জানান, সেই সময় হুমায়ূন আহমেদ নর্থ ডাকোটা ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি ডিগ্রির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় বারবার অসফল হওয়ায় হতাশাগ্রস্ত ছিলেন।

গুলতেকিন লেখেন, একদিন পরীক্ষায় নম্বর কম পাওয়ায় মেজাজ খারাপ থাকায় বাসায় এসে অকারণে রাগারাগি শুরু করেন হুমায়ূন আহমেদ। একপর্যায়ে কোনো কারণ ছাড়াই স্ত্রীকে বাসা থেকে ‘বের হয়ে যেতে’ বলেন।

গুলতেকিনের ভাষায়: “আমাকে চুপচাপ কাঁদতে দেখে আরও রেগে যান এবং আমাকে ধাক্কা দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দেন।”

তখন ছিল ডিসেম্বর মাসের প্রচণ্ড ঠান্ডা। গায়ে শুধু শার্ট-প্যান্ট আর পায়ে স্যান্ডেল নিয়ে বাইরে এসে গুলতেকিন ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে দরজা ধাক্কা দেন এবং কলিংবেল বাজান, কিন্তু দরজা খোলেননি হুমায়ূন আহমেদ।

অনেকক্ষণ পর হাত-পা প্রায় জমে গেলে তিনি বাসার কাছাকাছি পরিচিত এক আমেরিকান বৃদ্ধার দোকানে আশ্রয় নেন এবং বন্ধুর কাছে ফোন করে সেখান থেকে উদ্ধার হন।

সেই রাতে ঘুমাতে পারেননি গুলতেকিন। তিনি শুধু নোভা (কন্যা) এবং ভবিষ্যৎ মেয়েদের কথা ভেবে কষ্ট পেয়েছেন। সকালে আইনজীবীর সাথে কথা বলার পরামর্শ দিলেও তিনি প্রথমে তা মানতে পারেননি।

পরবর্তীকালে তিনি অনুশোচনা করে বলেন, ১৮-১৯ বছরের একটি মেয়ে যখন চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে এবং একজন হুমায়ূন আহমেদ তাকে যা ইচ্ছে তা বলে বকেন, তখন তিনি শুধু চোখের সামনে সেইসব ছবি দেখতে পান।

স্ট্যাটাসের শেষে তিনি হতাশা নিয়ে বলেন, তার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করতে, “আসলে তখনই নোভাকে নিয়ে দেশে ফিরে ওই ভদ্রলোককে ডিভোর্স দেয়া উচিত ছিল, তাই না?” কিন্তু তিনি তখন সেই সাহস পাননি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য ক্যাম্পেইন করবে: ড. ইউনূস

কিশোরী বয়সে বিয়ে: হুমায়ূন আহমেদের সাথে দাম্পত্য জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন গুলতেকিন

আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

প্রখ্যাত লেখক হুমায়ূন আহমেদের প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন খান এবার নিজের অতীত দাম্পত্য জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন। কিশোরী বয়সে বিয়ে হলেও তিনি সে জীবনে সুখী হতে পারেননি। সম্প্রতি ফেসবুক পোস্টে সেই পুরোনো স্মৃতি মনে করে আক্ষেপ করেছেন তিনি।

প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাবিদ প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁর নাতনি গুলতেকিন ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের তরুণ শিক্ষক হুমায়ূন আহমেদকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। দুজনের বয়সের পার্থক্য ছিল প্রায় ১৫ বছর। দীর্ঘ ৩০ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে ২০০৩ সালে বিবাহবিচ্ছেদের মাধ্যমে।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে গুলতেকিন এই অভিজ্ঞতার কথা লেখেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই পোস্টটি শুধু কিশোরী, তরুণী এবং তাদের অভিভাবকদের জন্যই লেখা। তিনি চান না অল্প বয়সে আর কোনো মেয়ে তার মতো ভুল করুক।

নিজের দাম্পত্য জীবনের তিক্ততার সবচেয়ে ভয়াবহ স্মৃতি হিসেবে গুলতেকিন যুক্তরাষ্ট্রের এক শীতার্ত রাতের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন। তিনি জানান, সেই সময় হুমায়ূন আহমেদ নর্থ ডাকোটা ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি ডিগ্রির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় বারবার অসফল হওয়ায় হতাশাগ্রস্ত ছিলেন।

গুলতেকিন লেখেন, একদিন পরীক্ষায় নম্বর কম পাওয়ায় মেজাজ খারাপ থাকায় বাসায় এসে অকারণে রাগারাগি শুরু করেন হুমায়ূন আহমেদ। একপর্যায়ে কোনো কারণ ছাড়াই স্ত্রীকে বাসা থেকে ‘বের হয়ে যেতে’ বলেন।

গুলতেকিনের ভাষায়: “আমাকে চুপচাপ কাঁদতে দেখে আরও রেগে যান এবং আমাকে ধাক্কা দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দেন।”

তখন ছিল ডিসেম্বর মাসের প্রচণ্ড ঠান্ডা। গায়ে শুধু শার্ট-প্যান্ট আর পায়ে স্যান্ডেল নিয়ে বাইরে এসে গুলতেকিন ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে দরজা ধাক্কা দেন এবং কলিংবেল বাজান, কিন্তু দরজা খোলেননি হুমায়ূন আহমেদ।

অনেকক্ষণ পর হাত-পা প্রায় জমে গেলে তিনি বাসার কাছাকাছি পরিচিত এক আমেরিকান বৃদ্ধার দোকানে আশ্রয় নেন এবং বন্ধুর কাছে ফোন করে সেখান থেকে উদ্ধার হন।

সেই রাতে ঘুমাতে পারেননি গুলতেকিন। তিনি শুধু নোভা (কন্যা) এবং ভবিষ্যৎ মেয়েদের কথা ভেবে কষ্ট পেয়েছেন। সকালে আইনজীবীর সাথে কথা বলার পরামর্শ দিলেও তিনি প্রথমে তা মানতে পারেননি।

পরবর্তীকালে তিনি অনুশোচনা করে বলেন, ১৮-১৯ বছরের একটি মেয়ে যখন চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে এবং একজন হুমায়ূন আহমেদ তাকে যা ইচ্ছে তা বলে বকেন, তখন তিনি শুধু চোখের সামনে সেইসব ছবি দেখতে পান।

স্ট্যাটাসের শেষে তিনি হতাশা নিয়ে বলেন, তার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করতে, “আসলে তখনই নোভাকে নিয়ে দেশে ফিরে ওই ভদ্রলোককে ডিভোর্স দেয়া উচিত ছিল, তাই না?” কিন্তু তিনি তখন সেই সাহস পাননি।