ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১ নভেম্বর থেকে চালু হচ্ছে আন্তঃপরিচালনযোগ্য লেনদেন: মোবাইল ও ব্যাংকে টাকা পাঠানো হবে আরও সহজ

দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারগুলোর মধ্যে একই প্ল্যাটফর্মে আন্তঃপরিচালনযোগ্য (ইন্টার-অপারেবল) লেনদেন চালু হতে চলেছে।

এর অর্থ হলো, এখন থেকে একজন গ্রাহক খুব সহজেই বিকাশ থেকে নগদে কিংবা তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে এমএফএস-এ সরাসরি টাকা পাঠাতে পারবেন। একইভাবে, এমএফএস থেকেও কোনো অতিরিক্ত বা ভিন্ন সিস্টেমে না গিয়ে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে টাকা স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।

নতুন এই লেনদেন ব্যবস্থায় প্রেরককে (যিনি টাকা পাঠাবেন) একটি নির্দিষ্ট হারে ফি দিতে হবে। তবে প্রাপককে (যিনি টাকা পাবেন) কোনো ফি দিতে হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নির্ধারিত ফি-এর হার হলো: ব্যাংকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ০.১৫ শতাংশ; পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের (পিএসপি) ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ০.২০ শতাংশ; এবং এমএফএস প্রোভাইডারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ০.৮৫ শতাংশ। এই ফি-এর মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। টাকা পাঠানোর আগে গ্রাহককে কত ফি কাটা হবে, তা স্পষ্টভাবে দেখাতে হবে এবং সেই অর্থ সরাসরি গ্রাহকের হিসাব থেকেই আদায় করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চিত করেছে যে, এই আন্তঃপরিচালনযোগ্য ব্যবস্থায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বর্তমানে নির্ধারিত লেনদেন সীমা বহাল থাকবে। অর্থাৎ, প্রতিটি ব্যাংক বা এমএফএস প্ল্যাটফর্মে যে সীমা নির্ধারিত আছে, সেটিই কার্যকর থাকবে। এছাড়া, কোনো গ্রাহক যদি ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠান, সেক্ষেত্রে পূর্বের নির্ধারিত ফি-ই বহাল থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগকে অনেকে দেশের ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে এক বিশাল অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবস্থার ফলে গ্রাহকরা ব্যাংক এবং মোবাইল ওয়ালেটের মধ্যে সহজে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন, যার মাধ্যমে নগদ অর্থের ব্যবহার কমবে এবং লেনদেন হবে দ্রুত, নিরাপদ ও স্বচ্ছ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. শরাফত উল্লাহ খানের স্বাক্ষর করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, এনপিএসবি (ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ) অবকাঠামোর মাধ্যমে এই নতুন লেনদেন পদ্ধতি চালু করা হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ দেশের ডিজিটাল ফাইন্যান্স খাতে একটি নতুন যুগের সূচনা করবে। এতদিন এমএফএস ও ব্যাংকের লেনদেন আলাদা সিস্টেমে থাকায় গ্রাহকদের এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে টাকা আদান-প্রদানে কিছুটা সময় ও ঝামেলার সম্মুখীন হতে হতো।

এই নতুন ইন্টার-অপারেবল ব্যবস্থা চালু হলে বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়সহ সকল প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সরাসরি টাকা আদান-প্রদান সম্ভব হবে, যা গ্রাহকদের সুবিধা বহুগুণে বাড়াবে এবং বাংলাদেশকে একটি নগদবিহীন অর্থনীতির দিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এক মাসেই ৯ বার কাঁপল বাংলাদেশ: ঘন ঘন ভূমিকম্পে বাড়ছে উদ্বেগ, প্রস্তুতিতে জোরের তাগিদ

১ নভেম্বর থেকে চালু হচ্ছে আন্তঃপরিচালনযোগ্য লেনদেন: মোবাইল ও ব্যাংকে টাকা পাঠানো হবে আরও সহজ

আপডেট সময় : ০৭:২০:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারগুলোর মধ্যে একই প্ল্যাটফর্মে আন্তঃপরিচালনযোগ্য (ইন্টার-অপারেবল) লেনদেন চালু হতে চলেছে।

এর অর্থ হলো, এখন থেকে একজন গ্রাহক খুব সহজেই বিকাশ থেকে নগদে কিংবা তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে এমএফএস-এ সরাসরি টাকা পাঠাতে পারবেন। একইভাবে, এমএফএস থেকেও কোনো অতিরিক্ত বা ভিন্ন সিস্টেমে না গিয়ে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে টাকা স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।

নতুন এই লেনদেন ব্যবস্থায় প্রেরককে (যিনি টাকা পাঠাবেন) একটি নির্দিষ্ট হারে ফি দিতে হবে। তবে প্রাপককে (যিনি টাকা পাবেন) কোনো ফি দিতে হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নির্ধারিত ফি-এর হার হলো: ব্যাংকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ০.১৫ শতাংশ; পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের (পিএসপি) ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ০.২০ শতাংশ; এবং এমএফএস প্রোভাইডারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ০.৮৫ শতাংশ। এই ফি-এর মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। টাকা পাঠানোর আগে গ্রাহককে কত ফি কাটা হবে, তা স্পষ্টভাবে দেখাতে হবে এবং সেই অর্থ সরাসরি গ্রাহকের হিসাব থেকেই আদায় করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চিত করেছে যে, এই আন্তঃপরিচালনযোগ্য ব্যবস্থায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বর্তমানে নির্ধারিত লেনদেন সীমা বহাল থাকবে। অর্থাৎ, প্রতিটি ব্যাংক বা এমএফএস প্ল্যাটফর্মে যে সীমা নির্ধারিত আছে, সেটিই কার্যকর থাকবে। এছাড়া, কোনো গ্রাহক যদি ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠান, সেক্ষেত্রে পূর্বের নির্ধারিত ফি-ই বহাল থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগকে অনেকে দেশের ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে এক বিশাল অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবস্থার ফলে গ্রাহকরা ব্যাংক এবং মোবাইল ওয়ালেটের মধ্যে সহজে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন, যার মাধ্যমে নগদ অর্থের ব্যবহার কমবে এবং লেনদেন হবে দ্রুত, নিরাপদ ও স্বচ্ছ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. শরাফত উল্লাহ খানের স্বাক্ষর করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, এনপিএসবি (ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ) অবকাঠামোর মাধ্যমে এই নতুন লেনদেন পদ্ধতি চালু করা হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ দেশের ডিজিটাল ফাইন্যান্স খাতে একটি নতুন যুগের সূচনা করবে। এতদিন এমএফএস ও ব্যাংকের লেনদেন আলাদা সিস্টেমে থাকায় গ্রাহকদের এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে টাকা আদান-প্রদানে কিছুটা সময় ও ঝামেলার সম্মুখীন হতে হতো।

এই নতুন ইন্টার-অপারেবল ব্যবস্থা চালু হলে বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়সহ সকল প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সরাসরি টাকা আদান-প্রদান সম্ভব হবে, যা গ্রাহকদের সুবিধা বহুগুণে বাড়াবে এবং বাংলাদেশকে একটি নগদবিহীন অর্থনীতির দিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।