ঢাকা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিচুক্তি খুব কাছাকাছি: ট্রাম্পের বিশেষ দূত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদায়ী ইউক্রেন বিশেষ দূত কিথ কেলগ বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিচুক্তি এখন খুব কাছে এবং বাকি রয়েছে মূলত দুটি বড় ইস্যু। আর তা হলো ডনবাস অঞ্চলের ভবিষ্যৎ ও জাপোরিজ্জিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রশ্ন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

কেলগ শনিবার ক্যালিফোর্নিয়ার সিমি ভ্যালির রোনাল্ড রেগান প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে রেগান ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোরামে বলেন, শান্তি প্রক্রিয়া এখন শেষ ১০ মিটারে, যা তার ভাষায় সবসময়ই সবচেয়ে কঠিন ধাপ।

রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে। এর আগে টানা আট বছর ইউক্রেনের ডনেস্ক ও লুহানস্ক নিয়ে গঠিত ডনবাসে রুশসমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ইউক্রেন বাহিনীর লড়াই চলছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে এটাই সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত এবং রাশিয়া-পশ্চিম সম্পর্কের সবচেয়ে গভীর সংকট।

কেলগ বলেন, ডনবাসের ভবিষ্যৎ এবং ইউরোপের বৃহত্তম জাপোরিজ্জিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রশ্নের সমাধান হলেই বাকি সবকিছু সহজ হবে। আমরা প্রায় পৌঁছে গেছি। আমরা সত্যিই খুব, খুব কাছে।

ভিয়েতনাম, পানামা ও ইরাকে যুদ্ধ করা সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল কেলগ জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ উভয় পক্ষেই দুই মিলিয়নের বেশি নিহত ও আহতের ভয়াবহ মানবিক ক্ষতি ডেকে এনেছে। রাশিয়া বা ইউক্রেন কোনও পক্ষই এমন পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না। মস্কো বলে পশ্চিমা দেশ ও কিয়েভ তাদের ক্ষতি বাড়িয়ে দেখায়, অন্যদিকে কিয়েভের দাবি, রাশিয়া ইউক্রেনের ক্ষতির হিসাব বাড়িয়ে জানায়।

এ মুহূর্তে রাশিয়া ইউক্রেনের ১৯.২ শতাংশ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালে দখল করা ক্রিমিয়া, পুরো লুহানস্ক, ডনেস্কের ৮০ শতাংশের বেশি, খেরসন ও জাপোরিজ্জিয়ার প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং খারকিভ, সুমি, মাইকোলাইভ ও দ্নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের অংশবিশেষ।

গত মাসে ফাঁস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ দফা খসড়া শান্তিপ্রস্তাব ইউক্রেন ও ইউরোপের কর্মকর্তাদের উদ্বিগ্ন করে তোলে। তাদের অভিযোগ, এতে ন্যাটো, ইউক্রেনের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং রুশ দখলকৃত ভূখণ্ড নিয়ে মস্কোর দাবি প্রায় মেনে নেওয়া হচ্ছে। ক্রেমলিন বলছে, প্রস্তাবগুলো চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যদিও সেগুলোর পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।

প্রাথমিক মার্কিন প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, বর্তমানে বন্ধ অবস্থায় থাকা জাপোরিজ্জিয়ার রিঅ্যাক্টরগুলো আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র তত্ত্বাবধানে চালু হবে এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সমান ভাগে বণ্টন করা হবে।

শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, তিনি ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে দীর্ঘ ও গঠনমূলক ফোনালাপ করেছেন। এদিকে ক্রেমলিন শুক্রবার জানায়, সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া তৈরির মূল দায়িত্ব কুশনারই পালন করছেন।

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব নাকচ, রিপাবলিকানদের জয়

ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিচুক্তি খুব কাছাকাছি: ট্রাম্পের বিশেষ দূত

আপডেট সময় : ০৭:০৯:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদায়ী ইউক্রেন বিশেষ দূত কিথ কেলগ বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিচুক্তি এখন খুব কাছে এবং বাকি রয়েছে মূলত দুটি বড় ইস্যু। আর তা হলো ডনবাস অঞ্চলের ভবিষ্যৎ ও জাপোরিজ্জিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রশ্ন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

কেলগ শনিবার ক্যালিফোর্নিয়ার সিমি ভ্যালির রোনাল্ড রেগান প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে রেগান ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোরামে বলেন, শান্তি প্রক্রিয়া এখন শেষ ১০ মিটারে, যা তার ভাষায় সবসময়ই সবচেয়ে কঠিন ধাপ।

রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে। এর আগে টানা আট বছর ইউক্রেনের ডনেস্ক ও লুহানস্ক নিয়ে গঠিত ডনবাসে রুশসমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ইউক্রেন বাহিনীর লড়াই চলছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে এটাই সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত এবং রাশিয়া-পশ্চিম সম্পর্কের সবচেয়ে গভীর সংকট।

কেলগ বলেন, ডনবাসের ভবিষ্যৎ এবং ইউরোপের বৃহত্তম জাপোরিজ্জিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রশ্নের সমাধান হলেই বাকি সবকিছু সহজ হবে। আমরা প্রায় পৌঁছে গেছি। আমরা সত্যিই খুব, খুব কাছে।

ভিয়েতনাম, পানামা ও ইরাকে যুদ্ধ করা সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল কেলগ জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ উভয় পক্ষেই দুই মিলিয়নের বেশি নিহত ও আহতের ভয়াবহ মানবিক ক্ষতি ডেকে এনেছে। রাশিয়া বা ইউক্রেন কোনও পক্ষই এমন পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না। মস্কো বলে পশ্চিমা দেশ ও কিয়েভ তাদের ক্ষতি বাড়িয়ে দেখায়, অন্যদিকে কিয়েভের দাবি, রাশিয়া ইউক্রেনের ক্ষতির হিসাব বাড়িয়ে জানায়।

এ মুহূর্তে রাশিয়া ইউক্রেনের ১৯.২ শতাংশ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালে দখল করা ক্রিমিয়া, পুরো লুহানস্ক, ডনেস্কের ৮০ শতাংশের বেশি, খেরসন ও জাপোরিজ্জিয়ার প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং খারকিভ, সুমি, মাইকোলাইভ ও দ্নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের অংশবিশেষ।

গত মাসে ফাঁস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ দফা খসড়া শান্তিপ্রস্তাব ইউক্রেন ও ইউরোপের কর্মকর্তাদের উদ্বিগ্ন করে তোলে। তাদের অভিযোগ, এতে ন্যাটো, ইউক্রেনের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং রুশ দখলকৃত ভূখণ্ড নিয়ে মস্কোর দাবি প্রায় মেনে নেওয়া হচ্ছে। ক্রেমলিন বলছে, প্রস্তাবগুলো চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যদিও সেগুলোর পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।

প্রাথমিক মার্কিন প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, বর্তমানে বন্ধ অবস্থায় থাকা জাপোরিজ্জিয়ার রিঅ্যাক্টরগুলো আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র তত্ত্বাবধানে চালু হবে এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সমান ভাগে বণ্টন করা হবে।

শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, তিনি ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে দীর্ঘ ও গঠনমূলক ফোনালাপ করেছেন। এদিকে ক্রেমলিন শুক্রবার জানায়, সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া তৈরির মূল দায়িত্ব কুশনারই পালন করছেন।