শান্তি প্রতিষ্ঠায় ওয়াশিংটন-কিয়েভের ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনার কয়েকঘণ্টা পরই ইউক্রেনে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ‘খুবই গঠনমূলক’ ফোনালাপের রাতেই বিমান হামলা চালায় মস্কো।
জেলেনস্কি বলেন, আলোচনার শেষে ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে “দৃঢ়প্রতিজ্ঞ”। সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিতে রাশিয়া কীভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে, সে বিষয়েও তাদের আলাপ হয়েছে।
এর কয়েক ঘণ্টা পর মধ্য ইউক্রেনের প্রধান শিল্পনগরী ক্রেমেনচুকের মেয়র ভিতালি মেলেটস্কি জানান, শহরটির বহু অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ রবিবার সকাল পর্যন্ত স্পষ্ট না হলেও কিছু এলাকায় পানি, বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে তারা ইউক্রেনের ৭৭টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ শেষ করতে আলোচনা জোরদার হলেও বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। এরমধ্যেই, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে মায়ামিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য শান্তিচুক্তির খসড়া তৈরির চেষ্টা চলছে।
কিয়েভ ও মস্কো উভয়কেই বহুমুখী একটি শান্তি-পরিকল্পনায় একমত হতে ওয়াশিংটন আহ্বান জানালেও এখনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। জেলেনস্কি এক্সে লিখেছেন, ইউক্রেন আন্তরিকভাবে শান্তি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন পক্ষের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমরা বহু বিষয় পর্যালোচনা করেছি—যা রক্তপাত বন্ধ করতে পারে এবং নতুন করে পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের ঝুঁকি দূর করতে সহায়ক হতে পারে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সামাজিক মাধ্যমে জানান, তিনি জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং “পূর্ণ সংহতি” প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, ফ্রান্স সব অংশীদারের সঙ্গে কাজ করে অস্থিরতা হ্রাস এবং যুদ্ধবিরতি নিশ্চিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ম্যাক্রোঁ, জেলেনস্কি, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মারজ সোমবার লন্ডনে সরাসরি বৈঠক করবেন। ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক শান্তি পরিকল্পনার কিছু অংশের বিরোধিতা করেছে এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা—যেমন শান্তিরক্ষী বাহিনীর সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের প্রস্তাবের পক্ষে ওয়াশিংটনের সমর্থন চাইছে।
যুদ্ধের পর ইউক্রেনের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ইচ্ছুকদের জোট’ (কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং) গঠনের প্রস্তাব দিয়ে আসছেন স্টারমার।
অন্যদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ ধরনের বাহিনীর ধারণা প্রত্যাখ্যান করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইউক্রেনে পাঠানো যে কোনও বিদেশি সেনা (হামলার) “বৈধ লক্ষ্যে” পরিণত হবে।
সূত্র: বিবিসি
রিপোর্টারের নাম 



















