ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিদেশি ফলের দাম সামান্য নিম্নমুখী, ক্রেতাদের স্বস্তি দেশি মৌসুমি ফলে

গত এক মাসের তুলনায় দেশে কয়েকটি বিদেশি ফলের দাম সামান্য কমেছে, যদিও অধিকাংশ ফল এখনও সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। অন্যদিকে, বাজারে সর্বনিম্ন দামে পাওয়া যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের আগ্রহ এখন দেশি ফলের দিকে।

শনিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর পুরান ঢাকার বেশ কয়েকটি ফলের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, এক মাস আগে যে ডালিম ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন ৪৫০ টাকা। ৪০০ টাকার রেজিস্টার ফুজি ও গোল্ডেন আপেল বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায়, ৪২০ টাকার গালা আপেল ৩৫০ টাকায়, আর ৩৫০ টাকার নাশপাতির দাম কমে হয়েছে ৩০০ টাকা। বিদেশি ফলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে মাল্টার দাম; ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মাল্টা এখন ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও, আঙুর, কমলা ও ড্রাগন ফলের দাম আগের মতোই রয়েছে। প্রতি কেজি চায়না আঙুর ৫০০ টাকা, মোনাকা ও লাল আঙুর ৩৫০ টাকা এবং সাদা আঙুর ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ন্যাচারাল ড্রাগন প্রতি কেজি ২০০ টাকা, হাইব্রিড ১৫০ টাকা, বারোমাসি আম ২৫০ টাকা এবং সাউথ আফ্রিকার কমলা ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ফল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘বিদেশি ফলের দাম এখন একেবারে কমও না, আবার বেশিও না। এক মাস আগে নাশপাতি, মাল্টা, ডালিমের দাম অনেক বেশি ছিল, যা এখন কমেছে। তবে এখনও এটি সাধারণ মানুষের কেনার মধ্যে আসেনি।’ তিনি মনে করেন, ‘দুইশ থেকে আড়াইশ টাকার মধ্যে ফলের দাম হলে মানুষ কিনতে পারত। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে দু-একটা ফল ছাড়া এই দামে কোনো বিদেশি ফল পাওয়া যায় না।’

স্বস্তি দেশি ফলে

রাজধানীর কাঁচাবাজার, ফলের দোকান ও ফুটপাতের ভ্যানগুলোতে দেশি ফল পাওয়া যাচ্ছে। দোকান ও কাঁচাবাজারের চেয়ে ফুটপাতে ফল ১০ থেকে ২০ টাকা কমে কেনা যায়। বাজারে মৌসুমি ফলের প্রাচুর্য এবং বৃষ্টির প্রভাবে ফল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দাম অনেকটাই কমেছে। ফলে ক্রেতাদের আগ্রহের শীর্ষে এখন দেশি ফল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ আগে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা দামের দেশি পেঁপে ও জাপানি পেঁপে এখন ৪০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ৮০ টাকার পেয়ারা এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আর আকারভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকার জাম্বুরা এখন ৪০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমড়া, তাল, আনারস, কামরাঙা, গাব ও চালতার দাম আগের মতোই রয়েছে। আমড়া প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, তাল প্রতি পিস আকারভেদে ৪০ থেকে ১০০ টাকা, আনারস প্রতি পিস ৩০-৫০ টাকা এবং কামরাঙা ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিলেতি গাব প্রতি পিস ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং চালতা প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। সাগর কলার দাম অবশ্য কিছুটা বেড়েছে, প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

রাজধানীর কোর্ট এলাকায় ভ্যানে ফল বিক্রেতা শাহিন আলম বলেন, ‘সিজনাল ফলের দাম এ সময় কমই থাকে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে এসব ফলের চাহিদা কিছুটা কমেছে, তাই দাম আরও কমেছে। ক্রেতারা একটু দাম কম দেখলেই ফল কেনেন। বাজারে দাম কিছুটা বেশি হলে অধিকাংশ ক্রেতাই দাম জিজ্ঞেস করে চলে যান। দাম কমে থাকায় আমরা ভালো বিক্রি করতে পারছি।’

রথখোলা মোড়ের কলা বিক্রেতা মোশাররফ বলেন, ‘সাগর কলার সিজন শেষ হয়ে যাওয়ায় দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।’

শিক্ষার্থী রায়হান কাদেরী বলেন, ‘পেঁপে আগে ১০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হতো। এখন অর্ধেক দামেই কিনতে পারছি। পেয়ারাও আগে ৮০ থেকে ১০০ টাকা ছিল, যা এখন ৬০ টাকা। এখনকার দাম সাধারণ মানুষের জন্য ঠিক আছে।’

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মারুফ আহমেদ বলেন, ‘বিদেশি ফলের অনেক দাম। সিজনে মৌসুমি ফলের দাম কম থাকে। এই সুযোগ বুঝে ফল কিনতে জানলে অনেক কম দামে ভালো ফল কেনা যায়।’

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ড. ইউনূস সরকারের বিদায়: স্বস্তিতে দিল্লি, নতুন সমীকরণের প্রত্যাশা

বিদেশি ফলের দাম সামান্য নিম্নমুখী, ক্রেতাদের স্বস্তি দেশি মৌসুমি ফলে

আপডেট সময় : ০৪:৩৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

গত এক মাসের তুলনায় দেশে কয়েকটি বিদেশি ফলের দাম সামান্য কমেছে, যদিও অধিকাংশ ফল এখনও সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। অন্যদিকে, বাজারে সর্বনিম্ন দামে পাওয়া যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের আগ্রহ এখন দেশি ফলের দিকে।

শনিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর পুরান ঢাকার বেশ কয়েকটি ফলের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, এক মাস আগে যে ডালিম ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন ৪৫০ টাকা। ৪০০ টাকার রেজিস্টার ফুজি ও গোল্ডেন আপেল বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায়, ৪২০ টাকার গালা আপেল ৩৫০ টাকায়, আর ৩৫০ টাকার নাশপাতির দাম কমে হয়েছে ৩০০ টাকা। বিদেশি ফলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে মাল্টার দাম; ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মাল্টা এখন ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও, আঙুর, কমলা ও ড্রাগন ফলের দাম আগের মতোই রয়েছে। প্রতি কেজি চায়না আঙুর ৫০০ টাকা, মোনাকা ও লাল আঙুর ৩৫০ টাকা এবং সাদা আঙুর ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ন্যাচারাল ড্রাগন প্রতি কেজি ২০০ টাকা, হাইব্রিড ১৫০ টাকা, বারোমাসি আম ২৫০ টাকা এবং সাউথ আফ্রিকার কমলা ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ফল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘বিদেশি ফলের দাম এখন একেবারে কমও না, আবার বেশিও না। এক মাস আগে নাশপাতি, মাল্টা, ডালিমের দাম অনেক বেশি ছিল, যা এখন কমেছে। তবে এখনও এটি সাধারণ মানুষের কেনার মধ্যে আসেনি।’ তিনি মনে করেন, ‘দুইশ থেকে আড়াইশ টাকার মধ্যে ফলের দাম হলে মানুষ কিনতে পারত। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে দু-একটা ফল ছাড়া এই দামে কোনো বিদেশি ফল পাওয়া যায় না।’

স্বস্তি দেশি ফলে

রাজধানীর কাঁচাবাজার, ফলের দোকান ও ফুটপাতের ভ্যানগুলোতে দেশি ফল পাওয়া যাচ্ছে। দোকান ও কাঁচাবাজারের চেয়ে ফুটপাতে ফল ১০ থেকে ২০ টাকা কমে কেনা যায়। বাজারে মৌসুমি ফলের প্রাচুর্য এবং বৃষ্টির প্রভাবে ফল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দাম অনেকটাই কমেছে। ফলে ক্রেতাদের আগ্রহের শীর্ষে এখন দেশি ফল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ আগে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা দামের দেশি পেঁপে ও জাপানি পেঁপে এখন ৪০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ৮০ টাকার পেয়ারা এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আর আকারভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকার জাম্বুরা এখন ৪০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমড়া, তাল, আনারস, কামরাঙা, গাব ও চালতার দাম আগের মতোই রয়েছে। আমড়া প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, তাল প্রতি পিস আকারভেদে ৪০ থেকে ১০০ টাকা, আনারস প্রতি পিস ৩০-৫০ টাকা এবং কামরাঙা ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিলেতি গাব প্রতি পিস ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং চালতা প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। সাগর কলার দাম অবশ্য কিছুটা বেড়েছে, প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

রাজধানীর কোর্ট এলাকায় ভ্যানে ফল বিক্রেতা শাহিন আলম বলেন, ‘সিজনাল ফলের দাম এ সময় কমই থাকে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে এসব ফলের চাহিদা কিছুটা কমেছে, তাই দাম আরও কমেছে। ক্রেতারা একটু দাম কম দেখলেই ফল কেনেন। বাজারে দাম কিছুটা বেশি হলে অধিকাংশ ক্রেতাই দাম জিজ্ঞেস করে চলে যান। দাম কমে থাকায় আমরা ভালো বিক্রি করতে পারছি।’

রথখোলা মোড়ের কলা বিক্রেতা মোশাররফ বলেন, ‘সাগর কলার সিজন শেষ হয়ে যাওয়ায় দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।’

শিক্ষার্থী রায়হান কাদেরী বলেন, ‘পেঁপে আগে ১০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হতো। এখন অর্ধেক দামেই কিনতে পারছি। পেয়ারাও আগে ৮০ থেকে ১০০ টাকা ছিল, যা এখন ৬০ টাকা। এখনকার দাম সাধারণ মানুষের জন্য ঠিক আছে।’

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মারুফ আহমেদ বলেন, ‘বিদেশি ফলের অনেক দাম। সিজনে মৌসুমি ফলের দাম কম থাকে। এই সুযোগ বুঝে ফল কিনতে জানলে অনেক কম দামে ভালো ফল কেনা যায়।’