পাবনার ঈশ্বরদীতে ৮টি সদ্যোজাত কুকুরছানাকে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে এক নারী। এমন ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে নেটাগরিকরা। তাতে পিছিয়ে নেই তারকারা। বরং জয়া আহসান, নিলয় আলমগীর কিংবা তৌসিফ মাহবুবদের মতো শীর্ষ তারকারা এই ঘটনার বিরুদ্ধে তুমুল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রকাশ্যে। চেয়েছেন অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি।
জয়া আহসান এমন ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘ঈশ্বরদীতে আটটি কুকুরের বাচ্চাকে মেরে ফেললো নির্দয়, নিষ্ঠুর, মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ! খুনির কঠোরতম শাস্তি চাই।’
তার এই পোস্টে অনেকেই জয়ার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রাণী নির্যাতন আইনের কার্যকারিতা আরও কঠোর করার দাবি তুলছেন।
অভিনয়ের বাইরে জয়ার মতোই পশুপ্রেমী হিসেবে আলাদা পরিচিতি রয়েছে নিলয়-হিমি জুটির। ঈশ্বরদীর নির্মম ঘটনাটি যেন তাদের স্তব্ধ করে দিয়েছে। তিনি এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) ফেসবুক পোস্টে নিলয় লিখেছেন, ‘ঈশ্বরদীতে ৮টা কুকুরের বাচ্চা বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মা কুকুরটা মৃত বাচ্চাগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। একটাবার চিন্তা করে দেখুন তো, বস্তার ভেতরে বাচ্চাগুলো পানির মধ্যে কেমন করছিল, বাঁচার জন্য কত চেষ্টা করছিল, কতটা কষ্ট পেয়ে বাচ্চাগুলো মারা গিয়েছে।’
অভিনেতা আরও লেখেন, ‘এখন মা কুকুরটার কতটা কষ্ট হচ্ছে। মা কুকুরটার বুকের দুধ খাওয়াতে না পারলে ব্যথা শুরু হবে, হয়তো মা কুকুরটাও মারা যাবে বুকের দুধ কোনও বাচ্চাকে খাওয়াতে না পেরে। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য খুনির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
নিলয়ের এই পোস্টে মন্তব্য করেছেন ভক্ত থেকে তারকারা। পোস্টের মন্তব্যে অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব লিখেছেন, ‘সকালে নিউজটা দেখার পর থেকে এখনও স্বাভাবিক হতে পারছি না।’
মৃত বাচ্চাগুলোর পাশে অসহায় মা নিলয়ের পোস্টটি অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টিসহ একাধিক তারকা ও অসংখ্য প্রাণপ্রেমী মানুষ পোস্টটি শেয়ার করে ‘খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি’ দাবি করেছেন।
এদিকে এমন খবর ও প্রতিবাদের জেরে এক সরকারি কর্মকর্তাকে উপজেলা পরিষদের বাসভবন ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
ঘটনার তিন দিন পর মঙ্গলবার শাস্তি হিসেবে তাকে সরকারি বাসভবন ছাড়তে বলা হয় বলে জানান ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান।
শাস্তি পাওয়া হাসনুর রহমান নয়ন ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ঈশ্বরদী উপজেলা কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার স্ত্রী হত্যার ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।
এর আগে শনিবার (২৯ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম চত্বরের পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় মৃত আটটি কুকুরছানা উদ্ধার করা হয় বলে জানান ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আব্দুর নূর।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে হাসনুর রহমান বলেন, ‘সন্তানদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমার স্ত্রী ছানাগুলো সরিয়ে দিতে বলেছিল। কিন্তু সেগুলো এভাবে যাবে, তা ভাবিনি। আমি এ ঘটনায় লজ্জিত ও দুঃখিত।’
স্থানীয়রা জানায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ওই কর্মকর্তার বাসার আঙিনায় একটি মা কুকুর আটটি ছানার জন্ম দেয়। শনিবার সকালে কুকুরটিকে পরিষদ চত্বরে ছোটাছুটি ও চিৎকার করতে দেখা যায়। পরে তার ডাক অনুসরণ করে পুকুরপাড়ে গিয়ে বস্তাটি খুলে ভেতরে মৃত অবস্থায় কুকুরছানাগুলো পাওয়া যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছানাগুলোকে পুকুরে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয়রা মৃত ছানাগুলো উদ্ধার করে মাটিচাপা দেন। মা কুকুরটি তখন পাশে বসে আর্তনাদ করছিল।
ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এটি চরম অমানবিক ও নিষ্ঠুর কাজ। শাস্তি হিসেবে ওই কর্মকর্তাকে একদিনের মধ্যে সরকারি বাসভবন ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এ ছাড়া প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে মা কুকুরটির চিকিৎসার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
রিপোর্টারের নাম 

























