মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

আল্লামা সাঈদীর স্মৃতি ও কর্ম কর্ম মানুষের হৃদয়ে অমলিন: ডা. শফিকুর রহমান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (রহ.) আমাদের মাঝে শারীরিকভাবে না থাকলেও তাঁর কণ্ঠের স্মৃতি, কর্ম এবং অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা তিনি রেখে গেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কিছু মানুষ পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তারা মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকেন। আল্লামা সাঈদী (রহ.) এমনই একজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন। অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তিনি দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে, শহর থেকে গ্রামে ছুটে বেড়িয়েছেন কেবল একটি আহ্বানের বার্তা নিয়ে – আল্লাহর দিকে ফিরে আসার আহ্বান, কুরআনের পথে আসার আহ্বান। তাঁর এই বার্তা কেবল বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বিশ্বজুড়েও তিনি সমানভাবে পরিচিত ছিলেন। লাখো মানুষ শীতের রাতে খোলা মাঠে তাঁর কণ্ঠে কুরআনের তাফসীর শুনেছেন এবং বহু মানুষের ধর্মীয় জীবনে তা এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।’ (সহিহ বুখারি)। আল্লামা সাঈদীর জীবনের এক বিশাল অংশ কেটেছে কুরআন শিক্ষা, শিক্ষা দান এবং মানুষের কাছে কুরআনের বাণী পৌঁছে দেওয়ার কাজে। কুরআনের শিক্ষা ও প্রসারের জন্য তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর ওয়াজের ময়দানগুলো অসংখ্য মানুষের জন্য ধর্মীয় শিক্ষার পাঠশালায় পরিণত হয়েছিল।’

আমির ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ‘মানুষের অগাধ ভালোবাসা তাঁকে তাফসীরের ময়দান থেকে জাতীয় সংসদে নিয়ে গিয়েছিল। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধ, আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলেছেন। সংসদে স্পিকারের সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে ঢোকার যে শিরকি রীতি প্রচলিত ছিল, আল্লামা সাঈদীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তা বন্ধ হয়েছিল। তাঁর রাজনীতি ও মতাদর্শ নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে, কিন্তু দেশের ধর্মীয়-রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর বিপুল অনুসারী ও জনসমর্থন একটি অনস্বীকার্য বাস্তবতা।’

তিনি বলেন, ‘যুগে যুগে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের ওপর যেমন নির্মম জুলুম-নির্যাতন নেমে এসেছে, তেমনি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ওপরও তা নেমে এসেছিল। আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে যাকে উপস্থাপন করা হয়েছিল…’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে হকির কোচিং প্যানেলে চয়ন ও পিন্টু

আল্লামা সাঈদীর স্মৃতি ও কর্ম কর্ম মানুষের হৃদয়ে অমলিন: ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময় : ১১:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (রহ.) আমাদের মাঝে শারীরিকভাবে না থাকলেও তাঁর কণ্ঠের স্মৃতি, কর্ম এবং অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা তিনি রেখে গেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কিছু মানুষ পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তারা মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকেন। আল্লামা সাঈদী (রহ.) এমনই একজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন। অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তিনি দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে, শহর থেকে গ্রামে ছুটে বেড়িয়েছেন কেবল একটি আহ্বানের বার্তা নিয়ে – আল্লাহর দিকে ফিরে আসার আহ্বান, কুরআনের পথে আসার আহ্বান। তাঁর এই বার্তা কেবল বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বিশ্বজুড়েও তিনি সমানভাবে পরিচিত ছিলেন। লাখো মানুষ শীতের রাতে খোলা মাঠে তাঁর কণ্ঠে কুরআনের তাফসীর শুনেছেন এবং বহু মানুষের ধর্মীয় জীবনে তা এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।’ (সহিহ বুখারি)। আল্লামা সাঈদীর জীবনের এক বিশাল অংশ কেটেছে কুরআন শিক্ষা, শিক্ষা দান এবং মানুষের কাছে কুরআনের বাণী পৌঁছে দেওয়ার কাজে। কুরআনের শিক্ষা ও প্রসারের জন্য তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর ওয়াজের ময়দানগুলো অসংখ্য মানুষের জন্য ধর্মীয় শিক্ষার পাঠশালায় পরিণত হয়েছিল।’

আমির ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ‘মানুষের অগাধ ভালোবাসা তাঁকে তাফসীরের ময়দান থেকে জাতীয় সংসদে নিয়ে গিয়েছিল। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধ, আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলেছেন। সংসদে স্পিকারের সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে ঢোকার যে শিরকি রীতি প্রচলিত ছিল, আল্লামা সাঈদীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তা বন্ধ হয়েছিল। তাঁর রাজনীতি ও মতাদর্শ নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে, কিন্তু দেশের ধর্মীয়-রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর বিপুল অনুসারী ও জনসমর্থন একটি অনস্বীকার্য বাস্তবতা।’

তিনি বলেন, ‘যুগে যুগে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের ওপর যেমন নির্মম জুলুম-নির্যাতন নেমে এসেছে, তেমনি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ওপরও তা নেমে এসেছিল। আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে যাকে উপস্থাপন করা হয়েছিল…’