লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের শাহপুর এলাকায় অন্তঃসত্ত্বা এক কলেজছাত্রীসহ যুবদল নেতার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে বিএনপি নেতা আবু সাইদ ও তার ছেলে সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহাদাত জুবায়েরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় নাজমুন নাহার পুষ্পা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। একই সঙ্গে সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
বৃহস্পতিবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন যে, শাহপুর এলাকায় ভাড়া বাসা পরিবর্তনের বিষয়ে বাড়ির মালিক পান্নাকে পূর্বেই অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু ৩০ জুলাই হঠাৎ বাড়ির মালিক বাসায় এসে উচ্চবাচ্য শুরু করলে একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় বিএনপি নেতা আবু সাইদ, তার ছেলে সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহাদাত জুবায়েরসহ কয়েকজন লোক বাসায় ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায়।
তাদের অভিযোগ, হামলার এক পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা কলেজছাত্রী ঋতি আক্তারকে মারধর করেন আবু সাইদ। তাকে বাধা দিতে গেলে তিনি ‘এমন চার-পাঁচজন মরলে কিছু হবে না’ বলেও মন্তব্য করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। ঋতি আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন বলে জানান স্বজনরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতির সময় ঋতি আক্তারের স্বামী ও যুবদল নেতা সাব্বির হোসেন মোহন জামাকাপড় নিতে বাড়িতে গেলে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। প্রায় ১১ ঘণ্টা তাকে থানায় আটকে রাখা হয়। কোনো মামলা বা অভিযোগ ছাড়াই তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সাব্বির হোসেন মোহন বলেন, ‘আমার পরিবারের ওপর এমন নৃশংস হামলার পরও কোনো মামলা বা অভিযোগ ছাড়াই আমাকে কেন দীর্ঘ সময় আটক করে রাখা হলো, আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’ থানায় আটকে রাখার ঘটনায় লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াহেদ ফারভেজের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহাদাৎ জোবায়ের বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা। এটি একটি ষড়যন্ত্রের অংশ।’
রিপোর্টারের নাম 





















